ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১৭ দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়াতে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামনে আসে নানা অভিযোগ।
এরপর নড়েচড়ে বসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা অফিস। অবশেষে ১৭ দিন পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা এবং গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত।
ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সবুজ গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রতিদিনের মতো পাঠদান চললেও গত ১৭ দিন ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি জাতীয় পতাকা, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১৭ দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিনি ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পতাকা না ওঠার বিষয়টি জানতে পেরে তারা হতাশ হয়েছেন।
স্থানীয় যুবক মো. পারভেজ খান জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা দেখতে না পেয়ে বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় এবং সোমবার (২৯ জুন) বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ওয়ারেসা বানু দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমেও তার অনীহা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সহকারী শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা অভিযোগ করেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে শিক্ষকদের ধমক দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সহকারী শিক্ষক মোছাম্মৎ সালেহা বেগম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অনেক সময় রেগে যান এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি প্রতিবাদ করতে গেলেও চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সহকারী শিক্ষক জয়শ্রী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বাথরুমে সরাসরি লাইনের পানি পান করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সবাইকে।
সহকারী শিক্ষক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল প্রায় দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বারবার জানানো হলেও সেটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক সাফা মহসিন বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সমস্যা নিয়ে কথা বললেও প্রধান শিক্ষক তা গুরুত্ব দেন না। নিজের সিদ্ধান্তেই সবকিছু পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়ারেসা বানু বলেন, পতাকা স্ট্যান্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফজলুল করিম।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীন হাসান/অদিতি/