যারা প্রতি বছর ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের অনেকেরই মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে—যদি মক্কা বা মদিনায় নিজের ছোট্ট একটা আবাসন থাকত! বহু শতাব্দীর সেই অধরা স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২৬ বছরের পুরোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিম নাগরিকরা মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী লাভ করতে পারবেন।
সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর 'সৌদি প্রপার্টিজ' পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী অ-সৌদিদের জন্য এই দুই নগরীতে সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নিয়মে বড় পরির্বতন এলো। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় অমুসলিমদের প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরো শহর জুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে।
মক্কার উল্লেখযোগ্য জোন: জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, কিং সালমান গেট, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২।
মদিনার উল্লেখযোগ্য জোন: রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার এবং মদিনা জোন ১ ও ২।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি সরকার এক আকর্ষণীয় অফারও রেখেছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া সম্পূর্ণ নগদ অর্থে ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাপূর্ণ 'প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি' বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া হলো: আগ্রহী ক্রেতাদের saudiproperties.rega.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা তাঁদের নিজস্ব 'ইকামা' (Iqama) নম্বর দিয়ে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদনের আগে নিজ দেশে থাকা সৌদি দূতাবাস থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এটি এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এখন আর শুধু হোটেল বা ভাড়াবাড়ি নয়, কোটি কোটি মুসলিম চাইলে পবিত্র ভূমিতে গড়ে তুলতে পারবেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক