ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার গত ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষায় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট টিএলপি ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি ধর্ম পরিবর্তন বিষয়ে যা বললেন উর্ফি জাভেদ ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে: আগুইরে বগুড়ায় কুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রাজস্ব আদায়ের বাস্তবভিত্তিক টার্গেট নির্ধারণ জরুরি ডিবিএইচের সাধারণ সভায় ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন দুই পা নেই, তবুও স্বপ্নের পথে অদম্য জান্নাতুল বাজেটে ঘাটতি ঘাটতির বাজেট বিশ্বকাপের আসল হিরো ২০ জনকে নিয়োগ দেবে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইডকলের জয়জয়কার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সন হিয়াং-মিন রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক লাখ তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এনবিআর চেয়ারম্যান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘হেলথ হাব’ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড উদ্যোক্তা গড়তে ১০ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ৬টি নতুন প্রকল্প হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার সুইডেনের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে ফ্রান্স

বগুড়ার সব আসনে জয়ের আশা বিএনপি ও জামায়াতের

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ পিএম
বগুড়ার সব আসনে জয়ের আশা বিএনপি ও জামায়াতের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার আসনগুলোতে ৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যেই। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রধান দুটি দল হিসেবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে। 

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইসলামি দলগুলো ভোটারদের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দেশের অন্যতম বড় দল হিসেবে বিএনপির হাতে আবারও ক্ষমতা যাবে বলে আশা করছেন এর নেতারা। নির্বাচনের ইতিহাসে বগুড়ায় বিএনপির আসন বরাবর সব সময় বেশি ছিল আর নেতাদের দাবি, তাদের প্রার্থীরাই ভালো করবেন জেলার সাতটি আসনের সব কটিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা বগুড়ার সব আসনেই জয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরের বছর ১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। এ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনের সব কটিতেই জয়ী হয় বিএনপি। এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বগুড়া সদর-৬ আসনে জামায়াত নেতা আব্দুর রহমান ফকির নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচন প্রধান দলগুলো বর্জন করায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন রূপ নেয়। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান জয়লাভ করলেও বাকি ৬টি আসনে বিএনপি জয়ী হয়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখে।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ওই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পাশাপাশি ২০০১ সালের ভোটেও বগুড়ার সব কটি আসন পায় বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও বগুড়ায় ৩টি আসন পায় বিএনপি। বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জয় পান। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে মো. মোশাররফ হোসেন। তবে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ভোটের আগের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বাবলুকে বিএনপি সমর্থন দিলে তিনি জয়লাভ করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায়নি বিএনপি। এখন বগুড়ার বেশির ভাগ আসনে নির্বাচনে জয়ের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন বিএনপির নেতারা। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে এবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিপুল ভোটে জয়লাভের প্রত্যাশা করছেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের সাবেক এমপি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বগুড়া জেলা বিএনপির জন্য একটি তীর্থস্থান। বগুড়ার সব কটি আসনেই বিএনপি এবার জয়লাভ করবে বলে আমরা আশা করছি। পিছিয়ে পড়া বগুড়াকে এগিয়ে নিতে বিএনপিকে সামনে আনতে হবে।’

অন্যদিকে বগুড়ার সব কটি আসন জয়ের ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি থেকে পিছিয়ে থাকলেও সাংগঠনিকভাবে বর্তমানে নিজেদের শক্তিশালী দাবি করে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও বগুড়া সদর-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের দাবি এ জেলা তাদের। তবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বগুড়া সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হন। এ ছাড়া ৮৬ ও ৯১ সালেও বগুড়া সদর ও বগুড়া-২ আসনে জামায়াত জয়লাভ করে। বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের বহু প্রার্থী জয়ী হন। তাই এ জেলা বিএনপির জন্য নির্ধারিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও ২ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়লাভ করেন। বগুড়া পৌরসভার ভোটে ৫ জন কাউন্সিলর জামায়াত থেকে জয়ী হন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, বগুড়ায় জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই জামায়াত সব কটি আসনেই বিজয়ী হবে।’

জানা গেছে, বগুড়ায় জামায়াত ও বিএনপি ছাড়াও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস, গণফোরাম, জাতীয় পার্টি (জাপা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীরা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে ভোট দেবেন ২৯ লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোটার।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত শহীদদের কবর জিয়ারত; ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন; দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের আলোকচিত্র এবং ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী; দেশব্যাপী জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘জুলাইয়ের গল্প, কবিতা, ছবি ও এনিমেশন’ প্রতিযোগিতা; জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে দেশের সর্বত্র আলোচনা সভা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান; জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল; জুলাই কনফারেন্স আয়োজন; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত; দেশব্যাপী শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল; শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন রকমের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা
বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাসীন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, গুপ্ত চিহ্নিতকরণ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ। 

  • প্রার্থী বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষায় ক্ষমতাসীন বিএনপি
  • গলার কাঁটা বিদ্রোহী
  • প্রভাবমুক্ত থাকতে ইউপি নির্বাচন আগে চান প্রার্থীরা 
  • ভোটের মাঠে বিভিন্ন ব্যানারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ    

তৃণমূলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে চান–মনোনয়ন নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রভাব বা খবরদারি নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও জন-গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যরা অনেক এলাকায় আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। 

জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি যথেষ্ট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চায় দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ইস্যু ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তির বাস্তব অবস্থান যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভোলা-১ আসন বিএনপির সংসদ সদস্য নেই। বিএনপি-জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রভাব রয়েছে সেখানে। তার দলীয় নেতারা চান, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও জোটের শরিকদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি চায় তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে।

ভোলা পৌরসভার অন্যতম মেয়র প্রার্থী ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপি থেকে একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আসুক। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।’ তবে একাধিক বিএনপি ও জোটভুক্ত প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভক্তির ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। 

ভোলার ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশই চূড়ান্ত। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। তার মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতা ইসলামি দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করছে। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে বিএনপির একাধিক শক্তিশালী বলয় সক্রিয় রয়েছে। জাতীয় সংসদের নারী সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর সেখানে প্রভাব রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।

ভেড়ামারা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হুসাইন (সোহাগ) বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা রাজপথে দলের জন্য কাজ করেছি। দল যদি সঠিক মূল্যায়ন করে, তাহলে মনোনয়ন পাব বলে আশা করি। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমি তা মেনে নেব।’

ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুল কবির টুটুলের মতে, বিএনপির দলীয় গ্রুপিং এখন বড় বাস্তবতা। তিনি বলেন, ‘এখানে নারী এমপি, সাবেক এমপি, ব্যারিস্টার–বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সবাই প্রভাব বিস্তার করতে চান।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে নিজের বিজয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নেও তৃণমূল বিএনপির মধ্যে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, যিনি সৎ, সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, শিক্ষিত এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য–এমন ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা উচিত। শুধু সৎ কিংবা শুধু যোগ্য হলেই হবে না; সবদিক বিবেচনা করেই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

ভাটরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে পাঁচজনের বেশি নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করায় প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সেলিম বলেন, ওয়ার্ডে ৮-১০ জন কাউন্সিলর পদে আগ্রহী। দল যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আশা করেন। এমপি বা মেয়রের প্রভাব এখনো দেখা না গেলেও নির্বাচন এলে বিষয়টি বোঝা যাবে। তিনি বলেন, গ্রুপিং হলে দলের ক্ষতি হবে, তাই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দলের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

সূত্র মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে অনেক এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের মনোনয়নের দাবিদার মনে করছেন। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের মতামত প্রাধান্য পেলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী বর্তমান এমপিদের চেয়েও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ। ফলে নির্বাচিত কোনো নতুন এমপির একক সিদ্ধান্ত তারা সহজভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত নন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী অনেক এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এতে ভোটের বিভাজন কমবে এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ইসলামী আন্দোলনও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন–এমন অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব অনেক এলাকায় নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ফলে বহু স্থানে ত্রিমুখী কিংবা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নজর রাখছেন। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং অযাচিত প্রভাব খাটানো ঠেকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে সুসংগঠিত অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। আরও আছে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে আছে বিএনপি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এমপিদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয়তা। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল।

এবারের নির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রভাবও। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যদিও ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছেন, শুধু সরকারি সুবিধা নয়; একজন জনপ্রতিনিধির সততা, জবাবদিহি এবং এলাকার উন্নয়নই হবে তাদের ভোট দেওয়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী খবরের কাগজকে বলেছেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর যেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে, সেখানে কিছু মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে। তবে দল এসব বিষয়ে সব সময় নজর রাখছে। কোথায় কী ঘটছে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে দলের হাইকমান্ড। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতা-কর্মীরাও নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। 

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপদ্যকে সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ; রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ; রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন; ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন; সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন; সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন; জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন; নিজ নিজ জেলায় শহিদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা; ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; শহিদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন; শহিদদের কবর জিয়ারত, শহিদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়; জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন; ‘ইকোস অব জুলাই’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

এসময় ওই সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু'তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ/রিফাত/

জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়সীমা নিয়ে বৈষম্য ও সংসদের কার্যপ্রণালী লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সময় কমিয়ে দেওয়া হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জোটের প্রবীণ নেতারা এসব অভিযোগ তুলেন।

তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ’রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সংসদীয় রীতিনীতি ও পূর্বসমঝোতার পরিপন্থি।’

নাজিবুর রহমান বলেন, ’সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তাদের মাত্র তিনজন সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। অন্য দিকে সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিট সময় বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি রাত ১০টার পরও সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী আলোচনার পরিপন্থি।’

সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুসরণ না করেই বিল সংসদে আনা হচ্ছে। এ ছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা ও আপত্তি উত্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করে প্রতিদিন নতুন বিল উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা না বলতে দেওয়ার ঘটনাও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের অন্যতম কারণ।

ব্রিফিংয়ে জোটের এক প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিবারের ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে ’ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জোটের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলার ন্যায্য সুযোগ না পেলে সেখানে থাকার যৌক্তিকতা থাকে না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তারা।

এলিস/থিওটোনিয়াস/

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় এক হিন্দু নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার ( ২৭ জুন) মাগুরা সদর থানায় সম্পা বিশ্বাস নামে এক নারী রায়হানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে তিনি শহরের কলেজপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রায়হান তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকে। কিন্তু বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, গত ২৫ মে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে রায়হান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হুমকি দেন এবং বাসা থেকে চলে যান। এরপর নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেন ওই নারী।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান বলেন, ’অভিযোগটি ব্যক্তিগত বিষয়। দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে রায়হানকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, অভিযোগকারী সম্পা বিশ্বাস বলেন, ’মামলার পর থেকে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’ নিরাপত্তার অভাবে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন।

কাসেমুর শ্রাবণ/খাদিজা রুমি/