বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধের হার কমেছে- এমন দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ধর্ষণের নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে, তা অপরাধ বৃদ্ধির একমাত্র নির্দেশক নয়; বরং ভুক্তভোগীদের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, মামলা করতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা কমে যাওয়া এবং প্রশাসনের অভিযোগ গ্রহণে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি উত্থাপন করা হলে বিরোধী দলের সদস্যরা তা কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় খুন, ডাকাতি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের সার্বিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে ধর্ষণের নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা বেড়েছে, কারণ আগে অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে থানায় যেতে পারতেন না। বর্তমানে থানায় কিংবা অনলাইনে অভিযোগ দাখিলে কোনো ধরনের বাধা নেই। ফলে নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, "ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধি মানেই অপরাধ বৃদ্ধি নয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনছে।"
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। ধর্ষণসহ প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের গতি বাড়ানো, ফরেনসিক সক্ষমতা উন্নয়ন, বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে গ্রাম পুলিশকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
এলিস/নাঈম