২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ২০২৬ সালের নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ 'জাতীয় সংসদ অর্থ বিল, ২০২৬'ও পাস করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বাজেটকে একটি 'মানবিক অর্থনীতি' গঠনের সমন্বিত রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে 'থ্রিআর (রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন)' কৌশল ঘোষণা করেন। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বাজেট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ বিলে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেট পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বিরোধী দলের সদস্যরা এসব দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও জাতীয় সংসদ কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ করে দেয়। পরে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতিতে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো একযোগে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকলেও বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬-০৭ অর্থবছরে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে।
এলিস/এসএন