ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শৈশবের সেই প্রথম মিছিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট সংসদে পাস, ঘাটতি প্রায় আড়াই লাখ কোটি কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার গত ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষায় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট টিএলপি ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি ধর্ম পরিবর্তন বিষয়ে যা বললেন উর্ফি জাভেদ ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে: আগুইরে

ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বুকের ওপর পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমানো যায় না—এ কথাটি কেবল কোনো প্রবাদ নয়, এটিই চরম বাস্তব। অথচ আজকের যুগে আমাদের চারপাশে তাকালে সম্পূর্ণ উল্টো এক চিত্র দেখা যায়। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড ঘষে আইফোন কেনা চাই; সামর্থ্য নেই, তবুও ব্যাংক লোন নিয়ে ধুমধাম করে কোটি টাকার বিয়ের আয়োজন চাই। আগে ভোগ, পরে পরিশোধ’—এই করপোরেট সংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে ঋণ নেওয়াটাকে আজ আমরা বড্ড মামুলি বা ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত আধুনিক লাইফস্টাইল ইসলামের চিরন্তন বিধানের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক, তা কখনো ভেবে দেখেছি কি?

পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য করজে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণের চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে। সুরা তাগাবুনের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে, ফলে তিনি তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন।’ এমনকি অভাবীর কষ্ট লাঘবের সওয়াব সম্পর্কে মুসলিম শরিফের ২৬৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার আখিরাতের বিপদ দূর করবেন। ইসলাম ঋণকে উৎসাহিত করে, তবে তা কেবলই প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের জন্য, বিলাসিতার জন্য নয়। আর সেই লেনদেনও সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী লিখিতভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজকের সমাজে ঋণ আর অভাবের তাড়নায় সীমাবদ্ধ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আয়ের বাইরে গিয়ে আয়েশী জীবন কাটাতে ব্যাংক, এনজিও বা ফাইন্যান্স কোম্পানির সুদের জালে জড়াচ্ছে। অথচ শরিয়তে ঋণ পরিশোধ না করার ব্যাপারে এসেছে শিউরে ওঠার মতো হুঁশিয়ারি। বুখারি শরিফের ২৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন; আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন। অন্য এক হাদিসে (বুখারি, ২২৯৫) দেখা যায়, কোনো মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বয়ং তাঁর জানাজা পড়াতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং সাহাবিদের বলতেন তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাজা পড়ে নাও।

একজন মানুষ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার পর যদি পুনরায় জীবিত হয়ে আবারও শহীদ হয়, তবুও ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, ২২১২)। বান্দার হক বা ঋণ এমন এক বিষয়, যা অন্য কোনো নেক আমল দিয়ে মাফ হয় না, যতক্ষণ না পাওনাদার তা মাফ করেন। তবে কেউ যদি ঋণ থেকে মুক্তি চায়, তবে তাকে হালাল উপার্জনে যত্নশীল হতে হবে।

সুনানে তিরমিজির ৩৫৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আলী (রা.) রাসুল (সা.)-এর শেখানো একটি দোয়া উল্লেখ করেছেন, যা নিয়মিত পড়লে পাহাড় সমান ঋণও আল্লাহ নিজ দায়িত্বে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্য সবার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।
চাদর বুঝে পা ফেলার মাঝেই আসল শান্তি। আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও ঋণের ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি এবং সমাজের প্রকৃত অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। আল্লাহ আমাদের ঋণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জীবন দান করুন। আমিন।


লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা

ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বুকের ওপর পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমানো যায় না—এ কথাটি কেবল কোনো প্রবাদ নয়, এটিই চরম বাস্তব। অথচ আজকের যুগে আমাদের চারপাশে তাকালে সম্পূর্ণ উল্টো এক চিত্র দেখা যায়। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড ঘষে আইফোন কেনা চাই; সামর্থ্য নেই, তবুও ব্যাংক লোন নিয়ে ধুমধাম করে কোটি টাকার বিয়ের আয়োজন চাই। আগে ভোগ, পরে পরিশোধ’—এই করপোরেট সংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে ঋণ নেওয়াটাকে আজ আমরা বড্ড মামুলি বা ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত আধুনিক লাইফস্টাইল ইসলামের চিরন্তন বিধানের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক, তা কখনো ভেবে দেখেছি কি?

পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য করজে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণের চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে। সুরা তাগাবুনের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে, ফলে তিনি তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন।’ এমনকি অভাবীর কষ্ট লাঘবের সওয়াব সম্পর্কে মুসলিম শরিফের ২৬৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার আখিরাতের বিপদ দূর করবেন। ইসলাম ঋণকে উৎসাহিত করে, তবে তা কেবলই প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের জন্য, বিলাসিতার জন্য নয়। আর সেই লেনদেনও সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী লিখিতভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজকের সমাজে ঋণ আর অভাবের তাড়নায় সীমাবদ্ধ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আয়ের বাইরে গিয়ে আয়েশী জীবন কাটাতে ব্যাংক, এনজিও বা ফাইন্যান্স কোম্পানির সুদের জালে জড়াচ্ছে। অথচ শরিয়তে ঋণ পরিশোধ না করার ব্যাপারে এসেছে শিউরে ওঠার মতো হুঁশিয়ারি। বুখারি শরিফের ২৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন; আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন। অন্য এক হাদিসে (বুখারি, ২২৯৫) দেখা যায়, কোনো মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বয়ং তাঁর জানাজা পড়াতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং সাহাবিদের বলতেন তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাজা পড়ে নাও।

একজন মানুষ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার পর যদি পুনরায় জীবিত হয়ে আবারও শহীদ হয়, তবুও ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, ২২১২)। বান্দার হক বা ঋণ এমন এক বিষয়, যা অন্য কোনো নেক আমল দিয়ে মাফ হয় না, যতক্ষণ না পাওনাদার তা মাফ করেন। তবে কেউ যদি ঋণ থেকে মুক্তি চায়, তবে তাকে হালাল উপার্জনে যত্নশীল হতে হবে।

সুনানে তিরমিজির ৩৫৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আলী (রা.) রাসুল (সা.)-এর শেখানো একটি দোয়া উল্লেখ করেছেন, যা নিয়মিত পড়লে পাহাড় সমান ঋণও আল্লাহ নিজ দায়িত্বে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্য সবার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।
চাদর বুঝে পা ফেলার মাঝেই আসল শান্তি। আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও ঋণের ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি এবং সমাজের প্রকৃত অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। আল্লাহ আমাদের ঋণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জীবন দান করুন। আমিন।


লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা

ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

ফুটবল, কার্নিভাল আর আমাজনের সবুজ অরণ্য—দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বিশ্ব সাধারণত এভাবেই চেনে। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ এই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে আছে এক দীর্ঘ, বেদনাবিধুর এবং গৌরবময় ইতিহাস। যেখানে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মুসলমানের শিকল ভাঙার গান, গায়ের রক্ত আর খাঁটি ইমানের অবিশ্বাস্য লড়াই। ক্রীড়া আর সংস্কৃতির এই চারণভূমিতে কীভাবে রোপিত হয়েছিল ইসলামের বীজ? দাসত্বের নির্মম অন্ধকার খাঁচা ভেঙে কীভাবে আজ সেখানে ডানা মেলছে এক আধুনিক মুসলিম সমাজ? ইতিহাস ও ত্যাগের সেই উপাখ্যান সত্যিই যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

ব্রাজিলে ইসলামের আগমন কোনো স্বাভাবিক অভিবাসন ছিল না, এর পেছনে রয়েছে পর্তুগিজদের নির্মম ঔপনিবেশিক ইতিহাস। ষোড়শ শতকের শুরুতে নাবিক পেদ্রো আলভারেস কারব্যালের হাত ধরে যখন পর্তুগিজরা ব্রাজিল উপকূলে পৌঁছায়, তখন তাদের জাহাজে ছিলেন শিহাবুদ্দিন ইবনে মাজেদ ও মুসা ইবনে সাতির মতো দক্ষ মুসলিম নাবিক। তবে ব্রাজিলে ইসলামের মূল বিস্তার ঘটে আফ্রিকার লাখ লাখ কৃষ্ণবর্ণের মানুষকে দাস হিসেবে ধরে আনার পর। একই সময়ে স্পেন ও পর্তুগালে মুসলিম শাসনের পতনের পর অনেক মরিস্কো (জোরপূর্বক খ্রিষ্টান করা মুসলমান) ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে আশ্রয় নেন।

ব্রাজিলের পর্তুগিজ শাসকেরা আফ্রিকান মুসলমানদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাদের নাম, ভাষা ও ধর্ম। কিন্তু লোহার শিকল মুসলিম দাসদের মন থেকে ইমানের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি। ব্রাজিলের জাতীয় জাদুঘরের নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, দিনে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে গোপনে তারা আরবিতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। প্রবীণ আলেমরা তরুণদের গোপনে ফিকহ ও আকিদার শিক্ষা দিতেন।

এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৬০৫ সালে। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় আলমিরস এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান একসঙ্গে দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তরুণ নেতা জানজা জুম্বার নেতৃত্বে সেখানে গড়ে ওঠে এক স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। প্রায় এক শতাব্দী পর, ১৬৯৪ সালে পর্তুগিজদের কামানের গোলার আঘাতে এই স্বাধীন রাজ্যের পতন ঘটলেও, এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বীরত্বগাথা। ১৮৮৮ সালে দাসপ্রথা বিলুপ্তির আগে পর্যন্ত মুসলমানদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার এক অন্ধকার অধ্যায় চলেছিল।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ব্রাজিলে ইসলামের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিসর ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব মুসলমান ব্রাজিলে আসতে শুরু করেন। তারা আর দাস হিসেবে নন, এসেছিলেন মুক্ত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী হিসেবে।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় লাখ মুসলমান অত্যন্ত মর্যাদার সাথে বসবাস করছেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যেখানে মুসলমানদের কোনো নিজস্ব পরিচয় ছিল না, আজ সেখানে প্রায় ১৩০টি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে। রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো, পারানা ও রিও গ্রান্দে দো সুল অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি। গড়ে উঠেছে ইসলামি স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে সরকারি সহযোগিতাও পাওয়া যায়।

ব্রাজিলের মুসলমানরা আজ কেবল একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়, বরং দেশটির অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নেতৃত্বের অন্যতম চালিকাশক্তি। ব্রাজিলে ইসলামের এই পাঁচশত বছরের পথচলা প্রমাণ করে—জুলুমের অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, ত্যাগ আর ইমানের আলো কখনো নিভে যায় না।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

যারা প্রতি বছর ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের অনেকেরই মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে—যদি মক্কা বা মদিনায় নিজের ছোট্ট একটা আবাসন থাকত! বহু শতাব্দীর সেই অধরা স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২৬ বছরের পুরোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিম নাগরিকরা মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী লাভ করতে পারবেন।

সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর 'সৌদি প্রপার্টিজ' পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী অ-সৌদিদের জন্য এই দুই নগরীতে সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নিয়মে বড় পরির্বতন এলো। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় অমুসলিমদের প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরো শহর জুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে।

মক্কার উল্লেখযোগ্য জোন: জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, কিং সালমান গেট, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২।

মদিনার উল্লেখযোগ্য জোন: রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার এবং মদিনা জোন ১ ও ২।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি সরকার এক আকর্ষণীয় অফারও রেখেছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া সম্পূর্ণ নগদ অর্থে ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাপূর্ণ 'প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি' বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া হলো: আগ্রহী ক্রেতাদের saudiproperties.rega.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা তাঁদের নিজস্ব 'ইকামা' (Iqama) নম্বর দিয়ে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদনের আগে নিজ দেশে থাকা সৌদি দূতাবাস থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এটি এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এখন আর শুধু হোটেল বা ভাড়াবাড়ি নয়, কোটি কোটি মুসলিম চাইলে পবিত্র ভূমিতে গড়ে তুলতে পারবেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যিনি, তাঁর পায়ের জুতাজোড়া কেমন ছিল? রাজকীয় কোনো পাদুকা, নাকি সোনা-রুপায় মোড়ানো চটি? ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এই মানব ব্যবহার করতেন অত্যন্ত সাধারণ, লোমহীন চামড়ার এবং কখনো কখনো তালি দেওয়া জুতা! আসুন, নবিজি (সা.)-এর জুতার সেই অনন্য অবয়ব সম্পর্কে জেনে নিই। 

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে আরব সমাজে পশম বা লোমযুক্ত চামড়া দিয়ে জুতা তৈরির একটি সাধারণ রেওয়াজ ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আলাদা।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, ঈসা ইবনে তাহমান (রহ.) বলেন, আনাস (রা.) আমাদের সামনে দুটি লোমশূন্য জুতা নিয়ে আসেন, যে দুটিতে দুটি করে চামড়ার ফিতা ছিল। পরে সাবিত (রহ.) আমাকে জানান যে, জুতা দুটি ছিল স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১২৭)।

একই বিষয়ে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি জুতার উপরিভাগে দুটি করে চামড়ার ফিতা বা বেল্ট যুক্ত থাকত, যা জুতাকে পায়ের সাথে মজবুত ও আরামদায়কভাবে ধরে রাখত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬১৪; আল-মুজামুস সাগীর, হাদিস:২৫৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল সাধারণ জুতাই পরতেন না, বরং জুতা ছিঁড়ে গেলে তা নিজে হাতে মেরামত করে বা তালি দিয়েও পরিধান করতেন। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে সামান্য ত্রুটি হলেই আমরা জিনিসপত্র ফেলে দিই, সেখানে আল্লাহর রাসুলের এই আমল এক বিরাট শিক্ষা।

হযরত আমর ইবনে হুরায়ছ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তালিযুক্ত জুতা পরিধান করে সালাত (নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।’ (সুনানে কুবরা লিন-নাসাঈ, হাদিস : ৯৭১৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস :১৪৬৫)

এই হাদিসটি থেকে আমরা নতুন একটি বিধান ও চমৎকার তথ্য জানতে পারি। তা হলো, পবিত্র ও তালিযুক্ত জুতা পায়ে দিয়েও নামাজ আদায় করা জায়েজ, যা স্বয়ং নবিজি (সা.) করে দেখিয়েছেন।

লোমহীন মসৃণ চামড়া, পায়ের খাঁজে আটকে থাকা দুটি সুদৃশ্য ফিতা আর প্রয়োজনের সময় তাতে লেগে থাকা তালি, এই ছিল বিশ্বনবির জুতার অবয়ব। এটি কেবল জুতার বিবরণ নয়, বরং তাঁর চরম বিনয়, মিতব্যয়িতা এবং অনাড়ম্বর জীবনদর্শনের এক জীবন্ত প্রতীক। বই বা পত্রিকার পাতায় নবিজি (সা.)-এর এই দৈহিক অবয়বের গল্প আধুনিক মানুষকে শেখাবে কীভাবে বিলাসিতা বর্জন করে পায়ের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৬ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩১ জুন)

.৪৮মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন