ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শৈশবের সেই প্রথম মিছিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট সংসদে পাস, ঘাটতি প্রায় আড়াই লাখ কোটি কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার গত ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক দাবি করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। দলটির নেতারা রায় প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এ রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন, সরকার ও বিবেকবান মানুষের প্রতি এর প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাসদ মহানগর কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রেস ক্লাব, তোপখানা, পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
  
সমাবেশে জাসদ নেতারা বলেন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাদের ভাষ্য, যে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুর বিচার করাই বিচারব্যবস্থার অপব্যবহারের শামিল।

জাসদ নেতাদের দাবি, ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ আদালতের রায়েও প্রমাণিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

বক্তাদের ভাষ্য, যে সময়ের ঘটনার দায় ইনুর ওপর আরোপ করা হয়েছে, সে সময় তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা রাষ্ট্রের কোনো নির্বাহী, প্রশাসনিক বা সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না। এমনকি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও ছিল না। ফলে তার বিরুদ্ধে 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি'র অভিযোগ আইনগত ও বাস্তবিক ভিত্তিহীন বলে তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে জাসদ নেতারা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী সব মানুষের প্রতি এ ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ থেকে বিচারিক প্রক্রিয়াকে মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় বিচারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জাসদের মহানগর কমিটির সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ জাসদ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

রাজু/নাঈম

প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড
ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড বিক্ষোভরত নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি শপথ নিতে পারবেন না তিনি। তবে তিনি জানিয়েছেন আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবেন। জনগণকে পাশে নিয়ে এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবেন। ফাইনালি তিনিই জিতবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রায়কে ঘিরে  উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিকস্থানে গাছ কেটে ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ ও আসলাম চৌধুরীর নেতাকর্মী- অনুসারীরা।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আদালতের দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের কুমিরা, সলিমপুর ও ভাটিয়ারী এলাকায় সড়ক গাছ ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নেতা কর্মিরা। তবে বিক্ষিপ্ত-বিছিন্নভাবে করা ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাতে উপজেলা কমিটির দলীয় সিদ্ধান্তের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে গোলাবাড়িয়া এলাকার আসলাম চৌধুরীর অনুসারী সমর্থক মোহাম্মদ ইছহাক খান বলেন, মহাম্যান্য হাইকোর্টে ৩’শর অধিক নেতা কর্মি উপস্থিত ছিলো। রায়ে তারা হতাশ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণের আশা আঙ্খার প্রতিফল যেখানে হয় না সেখানে আমরা যারা রাজনীতি করি জনগণের মন খারাপ তো একটু থাকবেই। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তো কিছু বলা যায় না। আমরা আশা করছিলাম জনগণের রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতিরা প্রতিফলন করবেন। যেহেতু আমরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সব জায়গায় বৈধ ছিলাম। অবৈধ ছিলাম না। আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবো। জনগণকে পাশে নিয়ে আমার এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবো। ফাইনালি আমরাই জিতবো। রায়কে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীরা নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিলো, আমি তাদের সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপি নেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগে আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন এখনো চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেনি।
১৫ জুন সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত নিযুক্ত দুই অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী আদালতকে সহায়তা করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা.কমল কদর বলেন, ওনি ঋণখেলাপি নন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার তাকে ঋণখেলাপি করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কমিটি বৈঠক করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি। আসলাম চৌধুরী ছাড়া বিকল্প কোন প্রার্থী মেনে নেবেন না বলে দাবি করেন তিনি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আসলাম চৌধুরীর রায়ের বিষয়টি জানা ছিল না। তবে আমরা সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার কোন সুযোগ নেই। 

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড ও কুমিরা এলাকায় বিএনপি নেতা কর্মীরা ব্যারিকেড দিয়েছে। তবে কুমিরায় দেওয়া ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হলেও বাড়বকুণ্ডে বিকেল পর্যন্ত ছিলো।

মুসলেহ উদ্দীন/এসএন

 

মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মায়ের জানাজা ও দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন, শাহআলম খন্দকার। ছবি: খবরের কাগজ

মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে সন্তানের পাশে থাকার আকুতি মেনে নিয়েছে আইন। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের বন্দিজীবন থেকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি মিলল আখাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার নুরপুর গ্রামের শাহআলম খন্দকারের। এই স্বল্প সময়েই তিনি মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিলেন। শেষবারের মতো মাকে বিদায় জানিয়ে বিকেল গড়াতেই আবার ফিরে গেলেন কারাগারের নির্ধারিত জীবনে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদালতের অনুমোদনে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মায়ের জানাজা ও দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আখাউড়া থানায় এক মামলায় গ্রেপ্তারের পর শাহ আলম খন্দকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্যারোলের পুরো সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি সশস্ত্র স্কর্ট দল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্স থেকে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং ছয়জন কনস্টেবল তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

জুটন বণিক/নাঈম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত শহীদদের কবর জিয়ারত; ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন; দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের আলোকচিত্র এবং ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী; দেশব্যাপী জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘জুলাইয়ের গল্প, কবিতা, ছবি ও এনিমেশন’ প্রতিযোগিতা; জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে দেশের সর্বত্র আলোচনা সভা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান; জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল; জুলাই কনফারেন্স আয়োজন; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত; দেশব্যাপী শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল; শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন রকমের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার স্ত্রী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) কাজী মৌসুমী এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
 
সোমবার (২৯ জুন) পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেন।   

সরকার কর্তৃক দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও গোপনে সংগঠিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ৪৭ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ১১০-১২০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া।  

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের সব ধরনের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপরও ২৬ জুন সাবেক সংসদ সদস্য নাইমুজ্জামান ভুঁইয়া মুক্তার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়ার খামারবাড়িতে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করেন। সেখানে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে প্রায় ১১০-১২০ জন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকার উৎখাত, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। 

এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি ভিডিও ধারণ করে 'আওয়ামী লীগ নিউজ বিডি' নামক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে প্রচার করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অভিযোগের কোনো প্রমান না থাকার পরও আসামিকে জামিন দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ আসামি পক্ষের আইনজীবীর।
 
তবে আদালত ন্যায় বিচার করেছেন বলে দাবি করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল।

রনি/ অদিতি/ 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা
বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাসীন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, গুপ্ত চিহ্নিতকরণ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ। 

  • প্রার্থী বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষায় ক্ষমতাসীন বিএনপি
  • গলার কাঁটা বিদ্রোহী
  • প্রভাবমুক্ত থাকতে ইউপি নির্বাচন আগে চান প্রার্থীরা 
  • ভোটের মাঠে বিভিন্ন ব্যানারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ    

তৃণমূলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে চান–মনোনয়ন নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রভাব বা খবরদারি নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও জন-গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যরা অনেক এলাকায় আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। 

জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি যথেষ্ট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চায় দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ইস্যু ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তির বাস্তব অবস্থান যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভোলা-১ আসন বিএনপির সংসদ সদস্য নেই। বিএনপি-জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রভাব রয়েছে সেখানে। তার দলীয় নেতারা চান, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও জোটের শরিকদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি চায় তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে।

ভোলা পৌরসভার অন্যতম মেয়র প্রার্থী ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপি থেকে একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আসুক। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।’ তবে একাধিক বিএনপি ও জোটভুক্ত প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভক্তির ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। 

ভোলার ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশই চূড়ান্ত। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। তার মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতা ইসলামি দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করছে। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে বিএনপির একাধিক শক্তিশালী বলয় সক্রিয় রয়েছে। জাতীয় সংসদের নারী সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর সেখানে প্রভাব রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।

ভেড়ামারা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হুসাইন (সোহাগ) বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা রাজপথে দলের জন্য কাজ করেছি। দল যদি সঠিক মূল্যায়ন করে, তাহলে মনোনয়ন পাব বলে আশা করি। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমি তা মেনে নেব।’

ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুল কবির টুটুলের মতে, বিএনপির দলীয় গ্রুপিং এখন বড় বাস্তবতা। তিনি বলেন, ‘এখানে নারী এমপি, সাবেক এমপি, ব্যারিস্টার–বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সবাই প্রভাব বিস্তার করতে চান।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে নিজের বিজয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নেও তৃণমূল বিএনপির মধ্যে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, যিনি সৎ, সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, শিক্ষিত এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য–এমন ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা উচিত। শুধু সৎ কিংবা শুধু যোগ্য হলেই হবে না; সবদিক বিবেচনা করেই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

ভাটরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে পাঁচজনের বেশি নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করায় প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সেলিম বলেন, ওয়ার্ডে ৮-১০ জন কাউন্সিলর পদে আগ্রহী। দল যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আশা করেন। এমপি বা মেয়রের প্রভাব এখনো দেখা না গেলেও নির্বাচন এলে বিষয়টি বোঝা যাবে। তিনি বলেন, গ্রুপিং হলে দলের ক্ষতি হবে, তাই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দলের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

সূত্র মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে অনেক এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের মনোনয়নের দাবিদার মনে করছেন। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের মতামত প্রাধান্য পেলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী বর্তমান এমপিদের চেয়েও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ। ফলে নির্বাচিত কোনো নতুন এমপির একক সিদ্ধান্ত তারা সহজভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত নন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী অনেক এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এতে ভোটের বিভাজন কমবে এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ইসলামী আন্দোলনও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন–এমন অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব অনেক এলাকায় নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ফলে বহু স্থানে ত্রিমুখী কিংবা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নজর রাখছেন। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং অযাচিত প্রভাব খাটানো ঠেকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে সুসংগঠিত অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। আরও আছে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে আছে বিএনপি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এমপিদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয়তা। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল।

এবারের নির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রভাবও। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যদিও ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছেন, শুধু সরকারি সুবিধা নয়; একজন জনপ্রতিনিধির সততা, জবাবদিহি এবং এলাকার উন্নয়নই হবে তাদের ভোট দেওয়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী খবরের কাগজকে বলেছেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর যেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে, সেখানে কিছু মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে। তবে দল এসব বিষয়ে সব সময় নজর রাখছে। কোথায় কী ঘটছে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে দলের হাইকমান্ড। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতা-কর্মীরাও নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন।