ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিল্প ও টেলিভিশনের এক অনন্য কারিগর মুস্তাফা মনোয়ার আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমার তো বিশ্বকাপেই থাকার কথা ছিল না: লুকাকু চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো উচিত নয় বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের জন্মই হয়েছে ডিফেন্স করার জন্য: আলফারো চীন-রাশিয়ার যৌথ বিমান টহল রংপুরে এমপির প্রকল্পের সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি! অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রস্তুত দুদক নড়াইলে অনুদানের তালিকায় এমপির ৮ আত্মীয়! পাল্টাপাল্টি হামলায় পুনরায় আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক পাশে দানব, অপর পাশে দ্য এলিফ্যান্ট ৩০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল বিআরটিসিতে লোকসান-চুরির লঙ্কাকাণ্ড ৩০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রাম মন্দির ঘিরে দুর্নীতি, ভারতে তীব্র বিতর্ক অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে আত্মবিশ্বাসী সুইডেন গ্রুপপর্বেই ৪৬ লাখ দর্শক, গ্যালারিতে বিশ্বকাপ জ্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা ৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সিমেওনের অবিশ্বাস্য ফিরে আসা জার্মানির বিদায়, শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে টাইব্রেকারে গড়াল জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ মেসিদের সামনে কেপ ভার্দে ‘আন্ডারডগ’ সমতায় ফিরল জার্মানি ৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের খবরদারি চান না বিএনপির প্রার্থীরা
বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাসীন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, গুপ্ত চিহ্নিতকরণ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ। 

  • প্রার্থী বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষায় ক্ষমতাসীন বিএনপি
  • গলার কাঁটা বিদ্রোহী
  • প্রভাবমুক্ত থাকতে ইউপি নির্বাচন আগে চান প্রার্থীরা 
  • ভোটের মাঠে বিভিন্ন ব্যানারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ    

তৃণমূলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে চান–মনোনয়ন নির্ধারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রভাব বা খবরদারি নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও জন-গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যরা অনেক এলাকায় আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। 

জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি যথেষ্ট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চায় দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ইস্যু ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তির বাস্তব অবস্থান যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভোলা-১ আসন বিএনপির সংসদ সদস্য নেই। বিএনপি-জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রভাব রয়েছে সেখানে। তার দলীয় নেতারা চান, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও জোটের শরিকদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি চায় তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে।

ভোলা পৌরসভার অন্যতম মেয়র প্রার্থী ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপি থেকে একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আসুক। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।’ তবে একাধিক বিএনপি ও জোটভুক্ত প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভক্তির ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। 

ভোলার ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশই চূড়ান্ত। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। তার মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতা ইসলামি দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করছে। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে বিএনপির একাধিক শক্তিশালী বলয় সক্রিয় রয়েছে। জাতীয় সংসদের নারী সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর সেখানে প্রভাব রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।

ভেড়ামারা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হুসাইন (সোহাগ) বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা রাজপথে দলের জন্য কাজ করেছি। দল যদি সঠিক মূল্যায়ন করে, তাহলে মনোনয়ন পাব বলে আশা করি। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমি তা মেনে নেব।’

ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুল কবির টুটুলের মতে, বিএনপির দলীয় গ্রুপিং এখন বড় বাস্তবতা। তিনি বলেন, ‘এখানে নারী এমপি, সাবেক এমপি, ব্যারিস্টার–বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সবাই প্রভাব বিস্তার করতে চান।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে নিজের বিজয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নেও তৃণমূল বিএনপির মধ্যে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, যিনি সৎ, সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, শিক্ষিত এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য–এমন ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা উচিত। শুধু সৎ কিংবা শুধু যোগ্য হলেই হবে না; সবদিক বিবেচনা করেই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

ভাটরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে পাঁচজনের বেশি নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করায় প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সেলিম বলেন, ওয়ার্ডে ৮-১০ জন কাউন্সিলর পদে আগ্রহী। দল যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আশা করেন। এমপি বা মেয়রের প্রভাব এখনো দেখা না গেলেও নির্বাচন এলে বিষয়টি বোঝা যাবে। তিনি বলেন, গ্রুপিং হলে দলের ক্ষতি হবে, তাই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দলের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

সূত্র মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে অনেক এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের মনোনয়নের দাবিদার মনে করছেন। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের মতামত প্রাধান্য পেলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী বর্তমান এমপিদের চেয়েও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ। ফলে নির্বাচিত কোনো নতুন এমপির একক সিদ্ধান্ত তারা সহজভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত নন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী অনেক এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এতে ভোটের বিভাজন কমবে এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ইসলামী আন্দোলনও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন–এমন অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব অনেক এলাকায় নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ফলে বহু স্থানে ত্রিমুখী কিংবা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নজর রাখছেন। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং অযাচিত প্রভাব খাটানো ঠেকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে সুসংগঠিত অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। আরও আছে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে আছে বিএনপি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এমপিদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয়তা। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল।

এবারের নির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রভাবও। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যদিও ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছেন, শুধু সরকারি সুবিধা নয়; একজন জনপ্রতিনিধির সততা, জবাবদিহি এবং এলাকার উন্নয়নই হবে তাদের ভোট দেওয়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী খবরের কাগজকে বলেছেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর যেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে, সেখানে কিছু মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে। তবে দল এসব বিষয়ে সব সময় নজর রাখছে। কোথায় কী ঘটছে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে দলের হাইকমান্ড। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতা-কর্মীরাও নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। 

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপদ্যকে সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ; রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ; রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন; ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন; সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন; সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন; জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন; নিজ নিজ জেলায় শহিদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা; ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; শহিদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন; শহিদদের কবর জিয়ারত, শহিদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়; জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন; ‘ইকোস অব জুলাই’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

এসময় ওই সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু'তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ/রিফাত/

জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়সীমা নিয়ে বৈষম্য ও সংসদের কার্যপ্রণালী লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সময় কমিয়ে দেওয়া হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জোটের প্রবীণ নেতারা এসব অভিযোগ তুলেন।

তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ’রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সংসদীয় রীতিনীতি ও পূর্বসমঝোতার পরিপন্থি।’

নাজিবুর রহমান বলেন, ’সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তাদের মাত্র তিনজন সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। অন্য দিকে সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিট সময় বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি রাত ১০টার পরও সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী আলোচনার পরিপন্থি।’

সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুসরণ না করেই বিল সংসদে আনা হচ্ছে। এ ছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা ও আপত্তি উত্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করে প্রতিদিন নতুন বিল উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা না বলতে দেওয়ার ঘটনাও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের অন্যতম কারণ।

ব্রিফিংয়ে জোটের এক প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিবারের ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে ’ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জোটের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলার ন্যায্য সুযোগ না পেলে সেখানে থাকার যৌক্তিকতা থাকে না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তারা।

এলিস/থিওটোনিয়াস/

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় এক হিন্দু নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার ( ২৭ জুন) মাগুরা সদর থানায় সম্পা বিশ্বাস নামে এক নারী রায়হানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে তিনি শহরের কলেজপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রায়হান তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকে। কিন্তু বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, গত ২৫ মে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে রায়হান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হুমকি দেন এবং বাসা থেকে চলে যান। এরপর নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেন ওই নারী।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান বলেন, ’অভিযোগটি ব্যক্তিগত বিষয়। দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে রায়হানকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, অভিযোগকারী সম্পা বিশ্বাস বলেন, ’মামলার পর থেকে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’ নিরাপত্তার অভাবে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন।

কাসেমুর শ্রাবণ/খাদিজা রুমি/

ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুবিধাবাদী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও বিরোধিতা করেছে। মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীকে একটি 'আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা' হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, ইসলামী বিচারব্যবস্থা কিংবা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাহলে তারা কেমন ইসলামী দল?” শিক্ষা বিষয়ে তাদের প্রস্তাবেও শুধু মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা রয়েছে, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলটির অতীত ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও চায়নি। উল্টো মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় দোসর হিসেবে গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও তিনি সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট গঠনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতা করেছেন এবং তৎকালীন গভর্নর মালেকের মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা আবারও সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট রাজনীতি করেছে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এলিস/এসএন

অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য, নির্ধারিত সময় না দেওয়া এবং বিল পাসে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলীয় জোট।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী জোটের সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ কার্যত নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন বিল উত্থাপন ও পাসের ক্ষেত্রে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বিরোধী সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। তার দাবি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও অন্য সদস্যদের একই ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে যদি আমাদের বক্তব্যই উপস্থাপন করতে না দেওয়া হয়, তাহলে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকার কোনো অর্থ থাকে না।” এ বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই বিরোধী জোট সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছে বলে জানান তিনি।

এলিস/এসএন