চোটজর্জরিত একটি মৌসুম পার করার পর রোমেলু লুকাকু ভাবতেই পারেনি যে তিনি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকবেন। তবে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বেলজিয়ামের এই রেকর্ড গোলদাতা এখন রেড ডেভিলসদের জন্য ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, পালন করছেন ‘সুপার-সাব’ বা বিকল্প খেলোয়াড়ের এক নতুন ও কার্যকরী ভূমিকা।
ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির হয়ে পুরো মৌসুমে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় মাঠে কাটানো এই ৩৩ বছর বয়সি স্ট্রাইকার বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতোমধ্যেই দলের জন্য তুরুপের তাস হয়ে উঠেছেন। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করে শেষ ৩২ এ তুলতে তিনি অনবদ্য অবদান রেখেছেন, যেখানে আগামী বুধবার তাদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শক্তিশালী সেনেগাল।
সোমবার (২৯ জুন) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লুকাকু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি এখানে আসতে পেরেই ভীষণ খুশি। আমার গত মৌসুমটি যেভাবে কেটেছে, তাতে স্বাভাবিকভাবে এই বিশ্বকাপে আমার থাকারই কথা ছিল না। তাই এখানে আসতে পারা, মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করা এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারাটা আমার জন্য দারুণ এক অনুভূতি।’
চোটের ধাক্কা ও কোচের কৌশল
লুকাকু এখনও পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি, যা তার খেলায় স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়ার মাস্টারপ্ল্যানে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলার শক্তি না থাকায় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন লুকাকুকে মাঠে নামানো হচ্ছে।
২৬ এর বিশ্বকাপে মাত্র ১২১ মিনিট মাঠে থেকেই তিনি একটি গোল করেছেন এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মিশরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়াম যখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে খেই হারিয়ে ফেলছিল, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২২ সেকেন্ডের মাথায় লুকাকুর তীব্র উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ আত্মঘাতী গোল করতে বাধ্য হয়। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও বদলি নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে দলের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় ও গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন তিনি।
বেঞ্চ থেকে ম্যাচ বিশ্লেষণ
নিজের এই নতুন ভূমিকা নিয়ে লুকাকু জানান, বেঞ্চে বসে থাকা সময়টাকে তিনি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খোঁজার জন্য কাজে লাগান।
তিনি বলেন, ‘বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যখন আপনি বেঞ্চে বসে থাকবেন, তখন মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। আমি এবং আমার সাথে বেঞ্চে থাকা বাকিরা সবসময় খেয়াল রাখি কীভাবে মাঠে নেমে দ্রুত পার্থক্য গড়ে দেওয়া যায়।’
সামনে সেনেগাল চ্যালেঞ্জ
বেলজিয়ামের 'স্বর্ণালী প্রজন্ম' এর অন্যতম শেষ প্রতিনিধি হিসেবে লুকাকু তার সতীর্থদের বাইরের আলোচনা বাদ দিয়ে মাঠের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নকআউট পর্বে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে তিনি বলেন, ’কৌশলগত ও শারীরিকভাবে সেনেগাল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। তীব্রতার দিক থেকে এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। আমি ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের বলেছি, এই ম্যাচে জেতার সম্ভাবনা ৫০-৫০। দেখা যাক মাঠের লড়াইয়ে কী হয়।’
থিওটোনিয়াস/