ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমতায় ফিরল জার্মানি ৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু হলিউডের মঞ্চে নায়ক ইউস্তাকিও শেষ মুহূর্তের বজ্রভলি জাপানকে কাঁদিয়ে জিতল ব্রাজিল গোল পরিশোধ করল ব্রাজিল প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে জাপান ২৯ মিনিটে জাপানের প্রথম গোল হেক্সা মিশনের নকআউট পর্ব শুরু: জাপানি প্রাচীর ভাঙতে পারবে তো ব্রাজিল? চাঁদপুরে দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষাসেবা শেষে সম্মানজনক বিদায় শিক্ষকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে ফের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন তাইজুলের আলো ছড়ানো দিনেও জিম্বাবুয়ের বিশাল লিড এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ব্রাজিলের শুরুর একাদশে নেই নেইমার ৪ বছর পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ ঢাবির সিনেটে ১৪২২ কোটি টাকার বাজেট পেশ, নেই ইউজিসির গবেষণা বরাদ্দ বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে পরিচালিত দুই চুনা কারখানা উচ্ছেদ এফএলজি খাতে ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের রূপরেখা নিয়ে সেমিনার বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রদূত অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস তামিম ইকবাল এমসিসির আজীবন সদস্যপদ পাওয়ায় বেঙ্গল টাইগার্সের অভিনন্দন ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী

শেষ মুহূর্তের বজ্রভলি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ এএম
শেষ মুহূর্তের বজ্রভলি
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হয়েছে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ দিয়ে। যোগ করা সময়ের নাটকীয় জয়সূচক গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা। ম্যাচজুড়েই দুই দল লড়াই করলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৯২তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ক্লিয়ার করা বল বক্সের ঠিক বাইরে পেয়ে কোনো ভুল করেননি স্টিফেন ইউস্তাকিও। দুর্দান্ত এক বজ্রভলিতে বল পাঠিয়ে দেন জালের নিচের কোণায়। তার সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানাডা।

এই জয়ে ইতিহাসও গড়েছে কানাডা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই তাদের প্রথম জয়, আর সেই জয় এসেছে ইনজুরি টাইমের জয়সূচক গোলে। শেষ ষোলোয় কানাডার প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো। দুই দলের মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ০-১ কানাডা

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল কানাডা।

২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে গ্রিসকে টাইব্রেকারে হারানো কোস্টারিকার ১২ বছর পর প্রথম কনকাকাফ দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অতিক্রম করল কানাডা।

স্টিফেন ইউস্তাকিওর গোলটি ফিফা বিশ্বকাপে কোনো কনকাকাফ দলের হয়ে সর্বশেষ সময়ে (স্টপেজ টাইমে) করা জয়সূচক গোল। এর আগে বিশ্বকাপে কনকাকাফ দলের হয়ে স্টপেজ টাইমে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ল্যান্ডন ডোনোভান, ২০১০ সালের গ্রুপপর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে (৯০+১ মিনিটে)।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১৮ সালের পর প্রথম ইনজুরি টাইমের জয়সূচক গোলটি করলেন ইউস্তাকিও। এর আগে ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হয়ে এমন গোল করেছিলেন নাসের শাদলি।

ইউস্তাকিও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা তৃতীয় সক্রিয় এমএলএস খেলোয়াড়। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ল্যান্ডন ডোনোভান (২টি গোল) ও ব্রায়ান ম্যাকব্রাইড।

এই বিশ্বকাপে কানাডা করেছে ৯ গোল। এক আসরে কোনো কনকাকাফ পুরুষ দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম নকআউট ম্যাচে জয় পাওয়ার পথে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করা প্রথম দল কানাডা।

ম্যাচের ছয় মিনিটেই প্রথম শট অন টার্গেট নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পর পুরো ম্যাচে তারা আর একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

এই ম্যাচে সেট-পিস থেকে পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ইউস্তাকিও। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো খেলোয়াড়ের যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেট-পিস সুযোগ তৈরির রেকর্ড এটি। ২০০৬ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে আন্দ্রেয়া পিরলোও পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

কানাডার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি) ছিল মাত্র ০.১৩। বিশ্বকাপে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এক্সজি। এর আগে প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের এক্সজি ছিল ০.০৭।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও সাতটি শট অন টার্গেট যোগ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি শট অন টার্গেটের মালিক এখন কানাডা (২৮টি)। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো কনকাকাফ দলের যৌথভাবে সর্বোচ্চ শট অন টার্গেটের রেকর্ডও এটি। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোও ২৮টি শট অন টার্গেট করেছিল।

বিশ্বকাপে বিরতিতে সমতায় থাকা কোনো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো হারেনি (১ জয়, ২ ড্র, ০ হার)। অন্যদিকে, বিরতিতে সমতায় থাকা অবস্থায় বিশ্বকাপে এটিই কানাডার প্রথম জয়। এর আগে এমন তিনটি ম্যাচের সবগুলোতেই তারা হেরেছিল।

২০ বছর ২৮২ দিন বয়সে এমবেকেজেলি এমবোকাজি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাদশে নামা সবচেয়ে কম বয়সী আফ্রিকান ফুটবলার হলেন, ২০১৪ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার কেনেথ ওমেরুওয়ের (২০ বছর ২৫৬ দিন) পর। (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদে)

৩৪ বছর ১৫৮ দিন বয়সে রনওয়েন উইলিয়ামস বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাদশে নামা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী আফ্রিকান ফুটবলার। তার ওপরে আছেন ১৯৯৮ সালে ডেনমার্কের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার পিটার রুফাই (৩৪ বছর ৩০৮ দিন)।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২ নম্বর কানাডা ও ৫৪ নম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন মাত্র তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে দুই দলই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৩০-এর বাইরে ছিল। এর আগে ২০০৬ সালে (৩৫) সুইজারল্যান্ড বনাম (৪৫) ইউক্রেন এবং ২০১০ সালে (৩১) প্যারাগুয়ে বনাম (৪৫) জাপান মুখোমুখি হয়েছিল। দুটি ম্যাচই ০-০ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল।

গড় বয়স ২৬ বছর ১৮৬ দিন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুর একাদশ ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান দলের সবচেয়ে কম বয়সী একাদশ, ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার (২৬ বছর ৭২ দিন) পর।

৭৪ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হুগো ব্রুস বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হয়েছেন।

সমতায় ফিরল জার্মানি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ এএম
সমতায় ফিরল জার্মানি
কাই হাভার্টজ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিকে সমতায় ফেরালেন কাই হাভার্টজ। ৫৪ মিনিটে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের খেলা শেষে এক গোলে পিছিয়ে ছিল জার্মানি। ৪৫ মিনিটের খেলায় ৭৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছে দলটি। শটও নিয়েছে পাঁচটি। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। উল্টো ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এনসিসো।

নাঈম/

৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ এএম
৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে
ছবি: সংগৃহীত

শেষ বত্রিশের ম্যাচে ডালাসে খেলছে জার্মানি–প্যারাগুয়ে। ফেবারিট হলেও ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় গোল করতে পারেনি জার্মানি।

দুটি শট নিলেও দুটিই ছিল লক্ষ্যহীন। তবে অবশেষে ৪১তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নিলেন প্যারাগুয়ের জুলিও এনসিসো।

নাঈম/

জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩০ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম
জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু
ছবি: সংগৃহীত

রাউন্ড অব ১৬-এর টিকিট নিশ্চিত করতে জয় ছাড়া বিকল্প নেই দুই দলের হাতে। তাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই মাঠে লড়বে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে।

জার্মানি একাদশ
নয়্যার (গোলরক্ষক), কিমিখ, রুডিগার, তাহ, ব্রাউন, মেচা, পাভ্লোভিচ, সানে, উনদাভ, উইর্টজ, হাভার্টজ

প্যারাগুয়ে একাদশ
গিল (গোলরক্ষক), আলোনসো, কানালে, গোমেজ, কাকেরেস, এনসিসো, গালারজা, কুবাস, বোবাদিল্লা, আলমিরন, আভালোস

নাঈম/

গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ এএম
গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ
ছবি: সংগৃহীত

চার বছর পরপর এমন একটি সময় আসে, যখন পৃথিবীর ক্রীড়া মানচিত্র যেন একটিমাত্র খেলার দখলে চলে যায়। সেই খেলার নাম ফুটবল। বিশ্বকাপ শুরু হলেই সংবাদপত্রের প্রথম পাতা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি চায়ের আড্ডাও দখল করে নেয় গোল, পাস, অফসাইড আর নাটকীয় সব মুহূর্ত। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট, একের পর এক চমক আর নকআউট পর্বের উত্তেজনা বিশ্বকাপকে আরও বড় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর প্রভাব এতটাই প্রবল যে, একই সময়ে ঘটে যাওয়া আরও অনেক বড় ক্রীড়া ঘটনাও প্রায় আড়ালে চলে গেছে।

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় খবর হওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ডের ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ভারতকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারানোই যেখানে বিরল ঘটনা, সেখানে আয়ারল্যান্ড শুধু সিরিজই জেতেনি, করেছে হোয়াইটওয়াশও। ক্রিকেট ইতিহাসে এটি তাদের অন্যতম বড় অর্জন। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন ফলাফল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিক সময়ে এই জয় নিয়ে দিনের পর দিন বিশ্লেষণ চলত। ভারতীয় ক্রিকেটের দুর্বলতা, আয়ারল্যান্ডের উন্নতি, বিশ্বকাপের আগে দুই দলের প্রস্তুতি–সবই হতো আলোচনার বিষয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপে সেই ঐতিহাসিক সাফল্যও অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে।

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক। টিম টাইগ্রেস এখন খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অ্যাওয়ে টেস্টে নাকানিচুবানি খাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাকাল হয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এর মাঝে আবার অজিদের বিপক্ষে এসেছে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়। স্বাভাবিকভাবেই টাইগারদের ভালো-মন্দ পারফরম্যান্সে প্রশংসা আর নিন্দার ঝড় উঠার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু ফুটবল উৎসবের মাঝে এ নিয়ে আলোচনার সময় কই ভক্তদের? অদ্ভুত হলেও সত্য যে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, সেই বিশ্বকাপ নিয়েই এখন মাতাল বাংলাদেশিরা। দেশের কেউ এখন ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ পর্তুগাল বা অন্য দলের।

গতকাল টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট উইম্বলডন শুরু হয়েছে। সাধারণ সময়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে টেনিসপ্রেমীদের উৎসব। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার পর উইম্বলডনের সংবাদও পেছনের সারিতে চলে গেছে। এর চেয়েও বড় খবর ছিল সেরেনা উইলিয়ামসকে ঘিরে। কিংবদন্তি এই টেনিস তারকার প্রত্যাবর্তন স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হওয়ার মতো ঘটনা। ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই কিংবদন্তিকে ঘিরে কোটি ভক্তের আগ্রহ থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সেই আলোচনাও অনেকটাই ম্লান।

ক্রিকেটের অন্যতম বড় বৈশ্বিক আসর নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও চলছে একই সময়ে। বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটাররা শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামছেন। প্রতিদিনই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। নতুন তারকা উঠে আসছেন, ভাঙছে রেকর্ড, তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস। তবুও এই টুর্নামেন্ট যেন প্রত্যাশিত আলো পাচ্ছে না। বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচের পর যে পরিমাণ বিশ্লেষণ, আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একেবারেই নীরব।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কও বিদায় বলেছেন সব ধরনের ক্রিকেটকে। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে তার অবদান অনস্বীকার্য। এমন একজন অধিনায়কের অবসর সাধারণ সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় সংবাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় সেই সংবাদও জায়গা করে নিতে পারেনি।

ফুটবলের প্রভাব এত বেশি কেন?
বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজন। ফুটবল এমন একটি খেলা–যা প্রায় প্রতিটি মহাদেশ, প্রতিটি সংস্কৃতি এবং শত শত কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে–
•     সংবাদমাধ্যমের বড় অংশের জনবল বিশ্বকাপ কভারেজে ব্যস্ত থাকে।
•     টেলিভিশনের সম্প্রচারসূচি বদলে যায়।
•     সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে থাকে বিশ্বকাপ।
•     অন্যান্য খেলার সংবাদ তুলনামূলক কম গুরুত্ব পায়।
•     দর্শকদের মনোযোগও প্রায় পুরোপুরি ফুটবলের দিকে চলে যায়।

ফলে একই সময়ে যত বড় ঘটনাই ঘটুক না কেন, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বকাপের বিশাল ঢেউয়ের নিচে চাপা পড়ে যায়। এটি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি ফুটবল বিশ্বকাপেই এমনটা হয়েছে। অলিম্পিক বাদ দিলে পৃথিবীর আর কোনো ক্রীড়া আয়োজন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মনোযোগ টানতে পারে না। ফলে ক্রিকেট, টেনিস, গলফ, অ্যাথলেটিকস কিংবা মোটরস্পোর্টস–সব খেলাই এই সময়ে কিছুটা হলেও প্রচারের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য খেলাগুলোর গুরুত্ব কমে যায়। বরং সাময়িকভাবে বিশ্ব ক্রীড়ার আলো এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজলেই আবার বদলে যাবে দৃশ্যপট।

গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১১ এএম
গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার
দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল টিম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ইতিহাস দীর্ঘ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথমবার নকআউটে উঠে রাউন্ড-৩২-এ বিদায়ঘণ্টা বেজেছে বাফানা বাফানাদের। সহ-আয়োজক কানাডার কাছে হেরে তারা এখন বাড়ির বিমান ধরার অপেক্ষায়। বিদায় নিলেও মাথা উঁচু আফ্রিকানদের। কেননা প্রথমবার নকআউটে উঠেই ইতিহাস গড়েছে তারা। বিদায়ের আগমুহূর্তে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস, যিনি নিজেও থামছেন স্মরণীয় এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে।

হলিউডের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস নাটকীয় এক বিদায়ের সাক্ষী হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ইনজুরি টাইমের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে তারা। সেই এক গোলই বিদায় করে দিয়েছে ব্রুস ও তার দলকে। যদিও এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই কোচের, ‘ম্যাচটি কঠিন হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। প্রতিপক্ষের শক্তি ও গতির বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছিলাম। আমরা তাদের মোকাবিলার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু সব সময় তা কার্যকর করতে পারিনি।’

৭৪ বছর ৭৯ দিন বয়সী ব্রুস এই ম্যাচের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ড গড়েছেন। নিজের ঐতিহাসিক রাতে দুঃখ নয়, স্বপ্নের কথাই বলেছেন তিনি, ‘ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে আমরা তাদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতেও বেশির ভাগ সময় পিছিয়ে ছিলাম। ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে শক্তি ও গতির উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

প্রিয় শিষ্যদের মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করতে ভুল করেননি এই অভিজ্ঞ কোচ। একই সঙ্গে বলেছেন গর্বের কথা, ‘খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। টুর্নামেন্টের দিকে ফিরে তাকালে আমাদের গর্বিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার কথা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছিল।’ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলের হারে যাত্রা শুরু হয়েছিল বাফানা বাফানাদের। পরে চেকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে উঠে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে।

যাই হোক, গর্বিত ব্রুস তার হতাশাও লুকিয়ে রাখেননি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে হতাশাই সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। কারণ আমরা জিততে চেয়েছিলাম। ড্রেসিংরুম এখন একেবারে নীরব। তবে বাস্তবতা হলো, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আমরা দারুণ খেলেছি এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছি। এই অর্জন ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নিজের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানলেন ব্রুস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের জার্সিতে মাঠ কাঁপানো ব্রুস জানিয়েছেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের পদ থেকে তিনি এখনই অবসর নিচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্রুস বেলজিয়ামে থাকা তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে আসছিলেন, ‘হতাশা বা মন খারাপের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আগামী দিনগুলোতে আমি ভেবে দেখব ভবিষ্যতে কী করব। তবে এটুকু নিশ্চিত, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’

২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর, ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন করে গড়ে তোলেন ব্রুস। তার অধীনে দলটি একটি সুশৃঙ্খল ও লড়াকু শক্তিতে পরিণত হয়, যা তাদের দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়ে এনে সেরা ৩২-এ জায়গা করে দেয়। ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের ওপর ভিত্তি করেই মূলত তিনি তার এই দল গঠন করেছিলেন। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে খেলেও গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৯৫২ এপ্রিলে হুম্বেকে জন্মগ্রহণ করা হুগো ব্রুস আন্ডারলেখটের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে ফুটবল অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি ঘরোয়া ও ইউরোপীয় ট্রফি জেতেন। পরবর্তী সময়ে ক্লাব ব্রুগেতে গিয়ে তার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন। বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবেও তিনি এক দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ক্লাব ব্রুগে এবং আন্ডারলেখটসহ বেশ কয়েকটি দলের হয়ে তিনি লিগ শিরোপা ও কাপ জিতেছেন। পাশাপাশি চারবার ‘বেলজিয়ান কোচ অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ক্যামেরুনকে ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ জেতানোর গৌরব অর্জন করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।