ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হয়েছে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ দিয়ে। যোগ করা সময়ের নাটকীয় জয়সূচক গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা। ম্যাচজুড়েই দুই দল লড়াই করলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৯২তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ক্লিয়ার করা বল বক্সের ঠিক বাইরে পেয়ে কোনো ভুল করেননি স্টিফেন ইউস্তাকিও। দুর্দান্ত এক বজ্রভলিতে বল পাঠিয়ে দেন জালের নিচের কোণায়। তার সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানাডা।
এই জয়ে ইতিহাসও গড়েছে কানাডা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই তাদের প্রথম জয়, আর সেই জয় এসেছে ইনজুরি টাইমের জয়সূচক গোলে। শেষ ষোলোয় কানাডার প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো। দুই দলের মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ০-১ কানাডা
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল কানাডা।
২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে গ্রিসকে টাইব্রেকারে হারানো কোস্টারিকার ১২ বছর পর প্রথম কনকাকাফ দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অতিক্রম করল কানাডা।
স্টিফেন ইউস্তাকিওর গোলটি ফিফা বিশ্বকাপে কোনো কনকাকাফ দলের হয়ে সর্বশেষ সময়ে (স্টপেজ টাইমে) করা জয়সূচক গোল। এর আগে বিশ্বকাপে কনকাকাফ দলের হয়ে স্টপেজ টাইমে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ল্যান্ডন ডোনোভান, ২০১০ সালের গ্রুপপর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে (৯০+১ মিনিটে)।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১৮ সালের পর প্রথম ইনজুরি টাইমের জয়সূচক গোলটি করলেন ইউস্তাকিও। এর আগে ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হয়ে এমন গোল করেছিলেন নাসের শাদলি।
ইউস্তাকিও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা তৃতীয় সক্রিয় এমএলএস খেলোয়াড়। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ল্যান্ডন ডোনোভান (২টি গোল) ও ব্রায়ান ম্যাকব্রাইড।
এই বিশ্বকাপে কানাডা করেছে ৯ গোল। এক আসরে কোনো কনকাকাফ পুরুষ দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম নকআউট ম্যাচে জয় পাওয়ার পথে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করা প্রথম দল কানাডা।
ম্যাচের ছয় মিনিটেই প্রথম শট অন টার্গেট নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পর পুরো ম্যাচে তারা আর একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এই ম্যাচে সেট-পিস থেকে পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ইউস্তাকিও। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো খেলোয়াড়ের যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেট-পিস সুযোগ তৈরির রেকর্ড এটি। ২০০৬ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে আন্দ্রেয়া পিরলোও পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
কানাডার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি) ছিল মাত্র ০.১৩। বিশ্বকাপে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এক্সজি। এর আগে প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের এক্সজি ছিল ০.০৭।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও সাতটি শট অন টার্গেট যোগ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি শট অন টার্গেটের মালিক এখন কানাডা (২৮টি)। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো কনকাকাফ দলের যৌথভাবে সর্বোচ্চ শট অন টার্গেটের রেকর্ডও এটি। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোও ২৮টি শট অন টার্গেট করেছিল।
বিশ্বকাপে বিরতিতে সমতায় থাকা কোনো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো হারেনি (১ জয়, ২ ড্র, ০ হার)। অন্যদিকে, বিরতিতে সমতায় থাকা অবস্থায় বিশ্বকাপে এটিই কানাডার প্রথম জয়। এর আগে এমন তিনটি ম্যাচের সবগুলোতেই তারা হেরেছিল।
২০ বছর ২৮২ দিন বয়সে এমবেকেজেলি এমবোকাজি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাদশে নামা সবচেয়ে কম বয়সী আফ্রিকান ফুটবলার হলেন, ২০১৪ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার কেনেথ ওমেরুওয়ের (২০ বছর ২৫৬ দিন) পর। (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদে)
৩৪ বছর ১৫৮ দিন বয়সে রনওয়েন উইলিয়ামস বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাদশে নামা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী আফ্রিকান ফুটবলার। তার ওপরে আছেন ১৯৯৮ সালে ডেনমার্কের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার পিটার রুফাই (৩৪ বছর ৩০৮ দিন)।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৩২ নম্বর কানাডা ও ৫৪ নম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন মাত্র তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে দুই দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৩০-এর বাইরে ছিল। এর আগে ২০০৬ সালে (৩৫) সুইজারল্যান্ড বনাম (৪৫) ইউক্রেন এবং ২০১০ সালে (৩১) প্যারাগুয়ে বনাম (৪৫) জাপান মুখোমুখি হয়েছিল। দুটি ম্যাচই ০-০ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল।
গড় বয়স ২৬ বছর ১৮৬ দিন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুর একাদশ ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান দলের সবচেয়ে কম বয়সী একাদশ, ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার (২৬ বছর ৭২ দিন) পর।
৭৪ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হুগো ব্রুস বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হয়েছেন।