ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমতায় ফিরল জার্মানি ৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু হলিউডের মঞ্চে নায়ক ইউস্তাকিও শেষ মুহূর্তের বজ্রভলি জাপানকে কাঁদিয়ে জিতল ব্রাজিল গোল পরিশোধ করল ব্রাজিল প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে জাপান ২৯ মিনিটে জাপানের প্রথম গোল হেক্সা মিশনের নকআউট পর্ব শুরু: জাপানি প্রাচীর ভাঙতে পারবে তো ব্রাজিল? চাঁদপুরে দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষাসেবা শেষে সম্মানজনক বিদায় শিক্ষকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে ফের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন তাইজুলের আলো ছড়ানো দিনেও জিম্বাবুয়ের বিশাল লিড এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ব্রাজিলের শুরুর একাদশে নেই নেইমার ৪ বছর পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ ঢাবির সিনেটে ১৪২২ কোটি টাকার বাজেট পেশ, নেই ইউজিসির গবেষণা বরাদ্দ বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে পরিচালিত দুই চুনা কারখানা উচ্ছেদ এফএলজি খাতে ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের রূপরেখা নিয়ে সেমিনার বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রদূত অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস তামিম ইকবাল এমসিসির আজীবন সদস্যপদ পাওয়ায় বেঙ্গল টাইগার্সের অভিনন্দন ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩১ এএম
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প
গোল্ডেন বুট। ছবি: সংগৃহীত

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং হ্যারি কেইনের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শিরোনাম হয়েছে অসংখ্যবার। এটি ছিল ফিফার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ফুটবলাররা সবাই এসেছেন, খেলেছেন এবং একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বিশ্বকাপ শুধু তারকাদের নিয়েই নয়, বিশেষ করে গ্রুপপর্বে। এখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলের রং, বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব চরিত্রই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। চার বছর আগে যেমন সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল, তেমন বড় দলগুলোর বিপক্ষে অর্থবহ কোনো অঘটন এবার দেখা যায়নি।তবে গল্পের অভাব ছিল না। 

আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জের দেশ কেপ ভার্দে হয়তো বিশ্বকাপে এসেছিল নকআউট পর্বে ওঠার প্রত্যাশা ছাড়াই। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠার আগেই অনেকে তাদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কেউ কি কল্পনা করতে পারত যে, উরুগুয়ে এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন থাকা একটি গ্রুপ থেকে তারা নকআউটে উঠবে? স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ড্র করা, এমনকি তাদের গোলশূন্যও আটকে রাখা ছিল অসাধারণ এক কীর্তি। শুধু তাই নয়, এর পর উরুগুয়ের বিপক্ষেও তারা ২-২ গোলে ড্র করে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে তারা গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে এবং শুক্রবার মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ নিশ্চিত করে।

কেপ ভার্দে হয়তো একমাত্র দল, যারা মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজটি তারা ঠিকই করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর পরিকল্পনার এর চেয়ে বড় সার্থকতা আর হতে পারে না। নতুন ফরম্যাটের ‘পোস্টার’ হয়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন তারকা হয়ে উঠেছেন। ম্যাচ শুরুর সময় ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল ৫০ হাজার। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লাখে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন তার অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৬৭ লাখ।

এর পর তার মা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার উচ্চ ব্যয়ের কারণে বিশ্বকাপে আসতে পারেননি, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে আসতে সক্ষম হন। এটি এমন এক গল্প, যা শুধু বিশ্বকাপই সৃষ্টি করতে পারে ভোজিনহার মতো একজন ফুটবলারের জন্য, যিনি পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া এবং পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের লিগে।

ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও, যারা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ, তারা নকআউটে উঠতে পারেনি। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি ড্র আদায় করেছিল। পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর কঠিন লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র করাও তাদের সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠতে সাহায্য করেছে। মরক্কোর বিপক্ষে হাইতির উইলসন ইসিদোর টুর্নামেন্টের সেরা গোলের অন্যতম দাবিদার একটি গোল করেছেন। 

বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বাড়ানোর ফলে আরও কিছু নতুন গল্পও তৈরি হয়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কানাডা, আইভরি কোস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা– এই চার দলই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তবে অবশ্যই এখন এটি অনেক সহজ। কারণ গ্রুপগুলো তুলনামূলক দুর্বল এবং পরের রাউন্ডে আরও বেশি দল উঠছে। ৩২ দলের প্রথম নকআউট পর্বের আকারই মূলত আগের বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টের সমান। প্রত্যাশামতোইl টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। অপ্রত্যাশিতভাবে, আফ্রিকার দেশগুলো ছিল দুর্দান্ত। তাদের ১০ দলের মধ্যে ৯টিই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। কনকাকাফ অঞ্চলের মোট ২০ পয়েন্টের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব পয়েন্টই এসেছে তিনটি সহ-আয়োজক দেশের কাছ থেকে।

অতিরিক্ত কোটার সুবিধা পাওয়া কুরাসাও, হাইতি এবং পানামা–এই তিন দল মিলিয়ে করেছে মাত্র তিনটি গোল এবং হজম করেছে ২১টি। কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল এশিয়ার। নয়টি দল নিয়ে অংশ নিয়ে ২৭ ম্যাচে তারা জিতেছে মাত্র তিনটি। ম্যাচপ্রতি গড়ে পেয়েছে মাত্র ০.৬৭ পয়েন্ট। শুধু অস্ট্রেলিয়া ও জাপানই গ্রুপপর্ব পেরোতে পেরেছে। এই বিশ্বকাপে এশিয়ার সরাসরি কোটা চার থেকে বেড়ে আটে উন্নীত হয়েছিল। প্লে-অফ পেরিয়ে ইরাকও জায়গা করে নিয়েছিল। যেখানে আফ্রিকা নতুন ফরম্যাটের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে, সেখানে এশিয়া এবং কনকাকাফ যেন তার ঠিক উল্টো চিত্রই তুলে ধরেছে।

গ্রুপপর্বে কনফেডারেশনগুলো

কনফেডারেশন     ম্যাচ    জয়    ড্র    হার    পয়েন্ট    গড় গোল
কনমেবল        ১৮    ‌৯    ৬    ৩    ৩৩    ১.৮৩
উয়েফা        ৪০    ২০    ১২    ৮    ৭২    ১.৮০
কাফ            ৩০    ১০    ১০    ১০    ৪০    ১.৩৩
কনকাকাফ        ১৮    ৬    ২    ১০    ২০    ১.১১
এএফসি        ২৭    ৩    ৯    ১৫    ১৮    ০.৬৭
ওএফসি        ৩    ০    ১    ২    ১    ০.৩৩

সমতায় ফিরল জার্মানি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
সমতায় ফিরল জার্মানি
কাই হাভার্টজ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিকে সমতায় ফেরালেন কাই হাভার্টজ। ৫৪ মিনিটে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের খেলা শেষে এক গোলে পিছিয়ে ছিল জার্মানি। ৪৫ মিনিটের খেলায় ৭৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছে দলটি। শটও নিয়েছে পাঁচটি। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। উল্টো ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এনসিসো।

নাঈম/

৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ এএম
৪১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে আছে প্যারাগুয়ে
ছবি: সংগৃহীত

শেষ বত্রিশের ম্যাচে ডালাসে খেলছে জার্মানি–প্যারাগুয়ে। ফেবারিট হলেও ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় গোল করতে পারেনি জার্মানি। দুটি শট নিলেও দুটিই লক্ষ্যহীন। তবে অবশেষে ৪১তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নিলেন প্যারাগুয়ের জুলিও এনসিসো।

নাঈম/

জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩০ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম
জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু
ছবি: সংগৃহীত

রাউন্ড অব ১৬-এর টিকিট নিশ্চিত করতে জয় ছাড়া বিকল্প নেই দুই দলের হাতে। তাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই মাঠে লড়বে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে।

জার্মানি একাদশ
নয়্যার (গোলরক্ষক), কিমিখ, রুডিগার, তাহ, ব্রাউন, মেচা, পাভ্লোভিচ, সানে, উনদাভ, উইর্টজ, হাভার্টজ

প্যারাগুয়ে একাদশ
গিল (গোলরক্ষক), আলোনসো, কানালে, গোমেজ, কাকেরেস, এনসিসো, গালারজা, কুবাস, বোবাদিল্লা, আলমিরন, আভালোস

নাঈম/

গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ এএম
গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ
ছবি: সংগৃহীত

চার বছর পরপর এমন একটি সময় আসে, যখন পৃথিবীর ক্রীড়া মানচিত্র যেন একটিমাত্র খেলার দখলে চলে যায়। সেই খেলার নাম ফুটবল। বিশ্বকাপ শুরু হলেই সংবাদপত্রের প্রথম পাতা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি চায়ের আড্ডাও দখল করে নেয় গোল, পাস, অফসাইড আর নাটকীয় সব মুহূর্ত। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট, একের পর এক চমক আর নকআউট পর্বের উত্তেজনা বিশ্বকাপকে আরও বড় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর প্রভাব এতটাই প্রবল যে, একই সময়ে ঘটে যাওয়া আরও অনেক বড় ক্রীড়া ঘটনাও প্রায় আড়ালে চলে গেছে।

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় খবর হওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ডের ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ভারতকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারানোই যেখানে বিরল ঘটনা, সেখানে আয়ারল্যান্ড শুধু সিরিজই জেতেনি, করেছে হোয়াইটওয়াশও। ক্রিকেট ইতিহাসে এটি তাদের অন্যতম বড় অর্জন। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন ফলাফল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিক সময়ে এই জয় নিয়ে দিনের পর দিন বিশ্লেষণ চলত। ভারতীয় ক্রিকেটের দুর্বলতা, আয়ারল্যান্ডের উন্নতি, বিশ্বকাপের আগে দুই দলের প্রস্তুতি–সবই হতো আলোচনার বিষয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপে সেই ঐতিহাসিক সাফল্যও অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে।

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক। টিম টাইগ্রেস এখন খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অ্যাওয়ে টেস্টে নাকানিচুবানি খাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাকাল হয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এর মাঝে আবার অজিদের বিপক্ষে এসেছে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়। স্বাভাবিকভাবেই টাইগারদের ভালো-মন্দ পারফরম্যান্সে প্রশংসা আর নিন্দার ঝড় উঠার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু ফুটবল উৎসবের মাঝে এ নিয়ে আলোচনার সময় কই ভক্তদের? অদ্ভুত হলেও সত্য যে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, সেই বিশ্বকাপ নিয়েই এখন মাতাল বাংলাদেশিরা। দেশের কেউ এখন ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ পর্তুগাল বা অন্য দলের।

গতকাল টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট উইম্বলডন শুরু হয়েছে। সাধারণ সময়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে টেনিসপ্রেমীদের উৎসব। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার পর উইম্বলডনের সংবাদও পেছনের সারিতে চলে গেছে। এর চেয়েও বড় খবর ছিল সেরেনা উইলিয়ামসকে ঘিরে। কিংবদন্তি এই টেনিস তারকার প্রত্যাবর্তন স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হওয়ার মতো ঘটনা। ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই কিংবদন্তিকে ঘিরে কোটি ভক্তের আগ্রহ থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সেই আলোচনাও অনেকটাই ম্লান।

ক্রিকেটের অন্যতম বড় বৈশ্বিক আসর নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও চলছে একই সময়ে। বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটাররা শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামছেন। প্রতিদিনই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। নতুন তারকা উঠে আসছেন, ভাঙছে রেকর্ড, তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস। তবুও এই টুর্নামেন্ট যেন প্রত্যাশিত আলো পাচ্ছে না। বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচের পর যে পরিমাণ বিশ্লেষণ, আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একেবারেই নীরব।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কও বিদায় বলেছেন সব ধরনের ক্রিকেটকে। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে তার অবদান অনস্বীকার্য। এমন একজন অধিনায়কের অবসর সাধারণ সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় সংবাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় সেই সংবাদও জায়গা করে নিতে পারেনি।

ফুটবলের প্রভাব এত বেশি কেন?
বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজন। ফুটবল এমন একটি খেলা–যা প্রায় প্রতিটি মহাদেশ, প্রতিটি সংস্কৃতি এবং শত শত কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে–
•     সংবাদমাধ্যমের বড় অংশের জনবল বিশ্বকাপ কভারেজে ব্যস্ত থাকে।
•     টেলিভিশনের সম্প্রচারসূচি বদলে যায়।
•     সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে থাকে বিশ্বকাপ।
•     অন্যান্য খেলার সংবাদ তুলনামূলক কম গুরুত্ব পায়।
•     দর্শকদের মনোযোগও প্রায় পুরোপুরি ফুটবলের দিকে চলে যায়।

ফলে একই সময়ে যত বড় ঘটনাই ঘটুক না কেন, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বকাপের বিশাল ঢেউয়ের নিচে চাপা পড়ে যায়। এটি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি ফুটবল বিশ্বকাপেই এমনটা হয়েছে। অলিম্পিক বাদ দিলে পৃথিবীর আর কোনো ক্রীড়া আয়োজন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মনোযোগ টানতে পারে না। ফলে ক্রিকেট, টেনিস, গলফ, অ্যাথলেটিকস কিংবা মোটরস্পোর্টস–সব খেলাই এই সময়ে কিছুটা হলেও প্রচারের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য খেলাগুলোর গুরুত্ব কমে যায়। বরং সাময়িকভাবে বিশ্ব ক্রীড়ার আলো এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজলেই আবার বদলে যাবে দৃশ্যপট।

গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১১ এএম
গর্ব নিয়ে বিদায় ব্রুস-দক্ষিণ আফ্রিকার
দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল টিম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ইতিহাস দীর্ঘ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথমবার নকআউটে উঠে রাউন্ড-৩২-এ বিদায়ঘণ্টা বেজেছে বাফানা বাফানাদের। সহ-আয়োজক কানাডার কাছে হেরে তারা এখন বাড়ির বিমান ধরার অপেক্ষায়। বিদায় নিলেও মাথা উঁচু আফ্রিকানদের। কেননা প্রথমবার নকআউটে উঠেই ইতিহাস গড়েছে তারা। বিদায়ের আগমুহূর্তে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস, যিনি নিজেও থামছেন স্মরণীয় এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে।

হলিউডের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস নাটকীয় এক বিদায়ের সাক্ষী হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ইনজুরি টাইমের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে তারা। সেই এক গোলই বিদায় করে দিয়েছে ব্রুস ও তার দলকে। যদিও এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই কোচের, ‘ম্যাচটি কঠিন হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। প্রতিপক্ষের শক্তি ও গতির বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছিলাম। আমরা তাদের মোকাবিলার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু সব সময় তা কার্যকর করতে পারিনি।’

৭৪ বছর ৭৯ দিন বয়সী ব্রুস এই ম্যাচের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ড গড়েছেন। নিজের ঐতিহাসিক রাতে দুঃখ নয়, স্বপ্নের কথাই বলেছেন তিনি, ‘ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে আমরা তাদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতেও বেশির ভাগ সময় পিছিয়ে ছিলাম। ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে শক্তি ও গতির উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

প্রিয় শিষ্যদের মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করতে ভুল করেননি এই অভিজ্ঞ কোচ। একই সঙ্গে বলেছেন গর্বের কথা, ‘খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। টুর্নামেন্টের দিকে ফিরে তাকালে আমাদের গর্বিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার কথা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছিল।’ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলের হারে যাত্রা শুরু হয়েছিল বাফানা বাফানাদের। পরে চেকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে উঠে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে।

যাই হোক, গর্বিত ব্রুস তার হতাশাও লুকিয়ে রাখেননি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে হতাশাই সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। কারণ আমরা জিততে চেয়েছিলাম। ড্রেসিংরুম এখন একেবারে নীরব। তবে বাস্তবতা হলো, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আমরা দারুণ খেলেছি এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছি। এই অর্জন ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নিজের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানলেন ব্রুস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের জার্সিতে মাঠ কাঁপানো ব্রুস জানিয়েছেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের পদ থেকে তিনি এখনই অবসর নিচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্রুস বেলজিয়ামে থাকা তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে আসছিলেন, ‘হতাশা বা মন খারাপের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আগামী দিনগুলোতে আমি ভেবে দেখব ভবিষ্যতে কী করব। তবে এটুকু নিশ্চিত, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’

২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর, ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন করে গড়ে তোলেন ব্রুস। তার অধীনে দলটি একটি সুশৃঙ্খল ও লড়াকু শক্তিতে পরিণত হয়, যা তাদের দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়ে এনে সেরা ৩২-এ জায়গা করে দেয়। ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের ওপর ভিত্তি করেই মূলত তিনি তার এই দল গঠন করেছিলেন। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে খেলেও গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৯৫২ এপ্রিলে হুম্বেকে জন্মগ্রহণ করা হুগো ব্রুস আন্ডারলেখটের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে ফুটবল অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি ঘরোয়া ও ইউরোপীয় ট্রফি জেতেন। পরবর্তী সময়ে ক্লাব ব্রুগেতে গিয়ে তার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন। বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবেও তিনি এক দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ক্লাব ব্রুগে এবং আন্ডারলেখটসহ বেশ কয়েকটি দলের হয়ে তিনি লিগ শিরোপা ও কাপ জিতেছেন। পাশাপাশি চারবার ‘বেলজিয়ান কোচ অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ক্যামেরুনকে ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ জেতানোর গৌরব অর্জন করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।