ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পজিশনে অনিশ্চয়তা ড্রয়ারে লোকানো ছিল অ্যান্টার্কটিকার বিরল ডাইনোসর জীবাশ্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে তৃতীয় দিনের সংঘর্ষে আহত ২০ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক, বয়সসীমা নেই বরগুনায় বজ্রাঘাতে ৫০ ফুট উঁচু তালগাছে অগ্নিকাণ্ড আখাউড়ায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদক ব্যবসা, গ্রেপ্তার ১ সমালোচনার জবাব দিলেন কোম্যান পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ যুবক দুপুরের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ওরিয়েন্টেশন ও বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল বেরোবিতে রাতেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা সন্তান হারানোর শোক নিয়েই খেলেছিলেন গাকপো, শেষ পর্যন্ত ভাঙল বিশ্বকাপের স্বপ্ন টাইব্রেকারে মরক্কোর রেকর্ড ১৭ দিন পর বিদ্যালয়ে উত্তোলন হলো জাতীয় পতাকা মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ নেইমারের খোঁচার পরই ভেস্তে গেল ভবিষ্যদ্বাণী ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০ নাটোরে আইনজীবীর ওপর হামলা, যুবক গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের মধুশিয়া গর্জন বন রক্ষায় জাবিতে মানববন্ধন ও পাপেট শো ব্রাজিলের কাছে হারলেও শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমছে জাপানের: মোরিয়াসু চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না মাকে দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ এক মাদরাসাশিক্ষার্থী ফরিদপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২

সাতকানিয়ায় ব্রাজিলের খেলা দেখে ফেরার পথে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
সাতকানিয়ায় ব্রাজিলের খেলা দেখে ফেরার পথে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ব্রাজিল-জাপানের খেলা দেখে রাতে বাড়িতে ফেরার পথে এনায়েত আলী ফকির (৪৬) নামে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রায়হান রনি (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) রাত ১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত এনায়েত আলী ফকির একই এলাকার মৃত উকিল উদ্দিনের ছেলে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

জানা যায়, এনায়েত আলী ফকির তার বাড়ির পাশে খাঁন মসজিদ এলাকা থেকে খেলা দেখে বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। পরে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন।

জানা যায়, একটি মারামারি মামলায় সম্প্রতি আদালত এনায়েত আলী ফকিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।

কয়েকদিন আগেও রাতের আঁধারে মুখোশ পরিহিত দূর্বৃত্তরা তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়াও আমরা আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফুল ইসলাম/থিওটোনিয়াস.

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
শৈলকুপায়  প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালক একেন মোল্লা মারা গেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার বিএনপির সভাপতি আব্দুল আওয়ালের সমর্থকদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিলো।

গত বৃহস্পতিবার জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। তথ্য দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ এনে আব্দুল আওয়ালের সমর্থক মতিয়ারের ওপর হামলা করে জামিরের লোকজন। পরে আওয়ালের লোকজন জামিরের অফিসে হামলা চালায়। এরই জের ধরে শনিবার সকালে জামিরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আওয়ালের লোকজনের ওপর ও বাড়িঘরে হামলা করে।

এ সময় ৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহত হন বগুড়া গ্রামের ভ্যানচালক একেন মোল্লা।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।

মাহফুজুর রহমান/তামান্না রুপা/

ফুলগাজীতে গৃহবধূ কাজল হত্যা মামলার প্রধান আসামি  গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ফুলগাজীতে গৃহবধূ কাজল হত্যা মামলার প্রধান আসামি  গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য ফেনীর ফুলগাজীর তালবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ কাজল আক্তারকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাদকাসক্ত আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার ভোরে ফুলগাজীর উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

র‍্যাবের জানায়, আরিফুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক এবং মাদকাসক্ত। কাজল আক্তার তার দূরসম্পর্কের মামি। দীর্ঘদিন ধরে ঋণগ্রস্ত আরিফুলকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। কিস্তির টাকা জোগাড় করতে ঘটনার দিন ভোরে আরিফুল কাজল আক্তারের ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় কাজল আক্তার ঘুম থেকে জেগে উঠলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আরিফুল কাজলের মাথা দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং হাত-পা বেঁধে হত্যা করে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

র‍্যাব আরও জানায়, হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, মূলত টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই আরিফুল কাজলের ঘরে প্রবেশ করেছিল।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ২৭ জুন গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে কাজল আক্তারের হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কাজল আক্তার তালবাড়িয়া গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

এ ঘটনায় রবিবার রাতে কাজলের বাবা আবদুর রশীদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা করেন।

তোফায়েল আহাম্মদ/ আজহার/

বিয়ে না করায় যুবককে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে, আটক ২

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
বিয়ে না করায় যুবককে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে, আটক ২
সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘বিয়ে না করায়’ সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিকা নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও নাইমার বয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জলিল মৃধার মেয়ে নাইমা জাহানের সঙ্গে পৌর এলাকার হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারা ঢাকায় আবাসিক হোটেলে কয়েক বার রাতযাপনও করেন। সম্প্রতি নাইমা জাহানের গর্ভে তিন মাসের বাচ্চা নষ্ট করেন সিয়াম। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকেন।

পুলিশ জানায়, এরই মধ্যে নাইমা জাহানকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষীপুরের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেন সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাইমা রবিবার রাতে লক্ষীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান রাতযাপন করেন। পরে ভোরে সিয়াম প্রেমিকা নাইমাকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন নাইমা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ ও দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন খবরের কাগজকে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেমিকা ও তার বন্ধুসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

অমিয়/

জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
জয়পুরহাট সদর উপজেলার দূর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ বন্দনা রানি দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তে পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার দূর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় গৃহবধূ বন্দনা রানী দাস হত্যার অভিযোগে স্বামী রাজকুমার দাসকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রাজকুমার তাকে হত্যা করেছে। 

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাটে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাজকুমার দাস বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। গত রাতে সেলাই মেশিন কিনে চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় স্বামী তার স্ত্রীকে মারধরও করেন। পরে ভোরে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান গৃহবধুর শ্বশুর। এ সময় পরিবারের লোকজন মরদেহ নামিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

বন্দনার বাবার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা জানায়, রাজকুমারের অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। এ কারণে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহতের বোন সাধনা বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী অন্য মেয়ের চক্করে পড়ে আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

নিহতের স্বামী রাজকুমার দাস হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্ত্রী সেলাই মেশিন কিনে চেয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় পরে দিতে চেয়েছি। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে ঘুমিয়ে যাওয়া পর রাত তিনটার দিকে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। আমি তাকে হত্যা করিনি‘’

জয়পুরহাট থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহ নিচে নামানো। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। 

সাগর কুমার/আজহার/

হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম
ছবির বামে কাইয়ুম মোল্লা ও ডানে মোল্লা শাহীন

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হামলা, সংঘর্ষ, মারধর, ভাঙচুর, বিচার-সালিশে প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু সাদাত শাহীন ওরফে মোল্লা শাহীন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নাম।

স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে মোল্লা শাহীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী বলয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ব্যক্তিগতভাবে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরছেন।

তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হরিরামপুরে সংঘটিত অধিকাংশ আলোচিত সহিংস ঘটনার নেপথ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাহীন ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার জেরে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে চালা ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা যুবদল সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে মারধরের অভিযোগ ওঠে মোল্লা শাহীন, কাইয়ুম মোল্লা, মুকুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ৫ জুন শিমুল বাদী হয়ে শাহীন, কাইয়ুম, মুকুলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার অধিকাংশ আসামি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিমুল অভিযোগ করেন, ‘শাহীন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য সাধারণ মানুষ ও নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপরও মারধর, চাপ ও হুমকি দিয়ে থাকেন।’ তিনি জানান, গত ৩ জুন একটি পারিবারিক বিরোধের সালিশে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। তার দাবি, ‘শাহীন নিজের বলয় শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীদেরও সম্পৃক্ত করেছেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাইয়ুম একসময় বয়রা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল প্রতিপক্ষ নয়, মোল্লা শাহীনের কর্মকাণ্ডে তার নিজ দলের অনেক নেতা-কর্মীও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, শাহীনের নির্দেশ বা অবস্থানের বাইরে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এ ধরনের অভিযোগ একাধিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

বলড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারেকও শাহীনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদের পরদিন গভীর রাতে মোল্লা শাহীনের নেতৃত্বে কাইয়ুম, শাহরুখসহ কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।’

এর আগে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বয়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান তুষারের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তুষার জানান, শাহীন ও তার সহযোগীরা তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ ঘটনায় করা একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

শাহীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাইয়ুম মোল্লার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার চালা ইউনিয়নের দড়িকান্দি রাজরা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাইয়ুম, শাহরুখসহ ১৫-২০ জন আমার দোকানে হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে। ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসবের মূলে আছে শাহীনের আশকারা।’

একই গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী চায়না বেগমের অভিযোগ, ‘একই দিন আমার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সোহানের সঙ্গে কাইয়ুম মোল্লার ছেলের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে কাইয়ুম ও তার সহযোগীরা আমার ছেলেকে মারধর করেন। পরে এ ঘটনায় কাইয়ুম মোল্লাসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়। এখনো ভয়ে থাকি আমাদের আবার কোনো ক্ষতি না করে।’

এ বিষয়ে কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘আমি মাটি ব্যবসায়ী। কারও না কারও সঙ্গে আমাকে ব্যবসা করতে হয়। এখন শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে থেকে ব্যবসা করছি। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগছে, তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা করেছেন।’ আপনি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত।’

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোল্লা শাহীন বলেন, ‘আমার ব্যাপারে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে আমি জড়িত নই। আর কাইয়ুম একজন ড্রেজার ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি মহল নিজেরা মারামারি করে আমার নামে অপপ্রচার করছে।’

জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান বলেন, ‘হরিরামপুরে একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এগোচ্ছি। মানুষকে যারা নির্যাতন করছেন, তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, ‘আমি অল্প কয়েক দিন হয় এসেছি। সম্প্রতি শিমুলকে মারধরের ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। মামলার অধিকাংশ আসামি পলাতক। আর কিছু ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা কোনো অভিযোগ দেননি। আর যেখানেই কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে।’ এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।