ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর হস্তক্ষেপের পর জোনাথান তাহের হেড থেকে আসা গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ঐতিহাসিক পরাজয়ের পেছনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু 'ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি' বা ভিএআর (VAR)। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির নিশ্চিত জয়সূচক একটি গোল ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ধাক্কা সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নেয় হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১০৫তম মিনিটে (অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে) নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার কিক থেকে চমৎকার হেডে গোল করে জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার জোনাথান তাহ। কিন্তু মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ ভিএআর রিভিউয়ের পর গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।
রেফারিকে প্রতারিত করেছেন প্যারাগুয়ে কিপার?
ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্নার থেকে বল আসার সময় জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দিয়ে বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, সংস্পর্শটি অত্যন্ত মৃদু ছিল এবং গোলরক্ষক বেশ নাটকীয়ভাবেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই সিদ্ধান্তকে 'সম্পূর্ণ স্ক্যান্ডাল' বলে আখ্যা দিয়েছেন জার্মানির প্রধান কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান। ম্যাচ শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এটি একটি পরিষ্কার স্ক্যান্ডাল। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক রেফারি এবং ভিএআর কর্মকর্তাদের ধোঁকা দিয়েছে। আমরা নোংরাভাবে হলেও ম্যাচটি জিতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আমাদের সেই জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।'
আন্তর্জাতিক ফুটবল পণ্ডিত এবং সাবেক তারকারাও রেফারির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার বিবিসি-তে বলেন, 'আমি এই সিদ্ধান্তের সাথে মোটেও একমত নই। বক্সের ভেতর ফুটবলারদের গায়ে গা লাগবেই। প্যারাগুয়ের কিপার অরল্যান্ডো গিল বড্ড সহজে মাটিতে পড়ে গেছেন।' সাবেক মার্কিন গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেল সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, 'গোলরক্ষক যখন দেখলেন তাহ হেডে গোল করতে যাচ্ছেন, তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার নাটক শুরু করেন এবং সফলভাবে পার পেয়ে যান।' এছাড়া পিটার স্মাইকেলও একে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
অতিরিক্ত সময়ের সেই গোল বাতিলের মানসিক ধাক্কা পেনাল্টি শুটআউটে স্পষ্ট ফুটে ওঠে জার্মানির পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো পেনাল্টি শুটআউটে না হারা জার্মানি এবার তিনটি স্পট-কিক মিস করে বসে। আর্সেনাল তারকা কাই হাভার্টজ এবং নিউক্যাসলের নিক ভোল্টমেডের শট রুখে দিয়ে প্যারাগুয়ের নায়ক বনে যান সেই বিতর্কিত গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।
শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে গোল বাতিল হওয়া জোনাথান তাহ তার পেনাল্টি শটটি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে জার্মানির ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। প্যারাগুয়ের হোসে কানালে শেষ পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে লাতিন আমেরিকার দেশটি, আর চরম এক ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে মার্কিন মুলুক ছাড়তে হচ্ছে জার্মানিকে।
আজহার/