ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ওরিয়েন্টেশন ও বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল টাইব্রেকারে মরক্কোর রেকর্ড মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ নেইমারের খোঁচার পরই ভেস্তে গেল ভবিষ্যদ্বাণী ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০ নাটোরে আইনজীবীর ওপর হামলা, যুবক গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের মধুশিয়া গর্জন বন রক্ষায় জাবিতে মানববন্ধন ও পাপেট শো ব্রাজিলের কাছে হারলেও শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমছে জাপানের: মোরিয়াসু চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না মাকে দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ এক মাদরাসাশিক্ষার্থী ফরিদপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে? জার্মানিকে হারানোয় প্যারাগুয়েতে ছুটির ঘোষণা নরসিংদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার সালথায় প্রবাসী স্বামীর অর্থ আত্মসাৎ, স্ত্রী গ্রেপ্তার ঢাকায় অ্যাপোলো ক্লিনিকে আন্তর্জাতিক সিএমই অনুষ্ঠিত সাতকানিয়ায় ব্রাজিলের খেলা দেখে ফেরার পথে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম মাদারীপুর পৌরসভার ১১০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা টাইব্রেকার রোমাঞ্চে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে মরক্কো কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি নতুন তিন উপজেলা, ১ থানা ও  ঢাকার সীমানা পুনর্গঠন প্রস্তাব ফেনীতে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান ফেলিক্সের ‘গলদে ভরা’ প্রকল্প ভিএআর বিতর্ক: জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের নেপথ্য কাহিনী দুই লেনে আটকে পদ্মা সেতুর সুফল

শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে?

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে?
ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কঠিন এক লড়াইয়ে জয় পেয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো। মনটেরিতে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে ডাচদের হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।

ম্যাচের শুরুতে কোডি গাকপোর গোলে লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে দুর্দান্ত এক গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান ইসা দিওপ। 

এরপর অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের কেউই গোল করতে না পারলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে স্তব্ধ করে জয় ছিনিয়ে নেয় মরক্কো, যেখানে দলটির হয়ে জয়সূচক শেষ শটটি নেন ইসমায়েল সাইবারি।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে কানাডিয়ানরা।

আগামী ৪ জুলাই হিউস্টন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ১১ টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে একাধিক হামলা করেছে রাশিয়া। এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ১০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৯ জুন) ইউক্রেনের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে এ হামলা হয়।

তিনি বলেন, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি স্কুল, ব্যক্তিগত বাড়ি এবং গাড়ি হামলার শিকার হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ‘রাশিয়া দনিপ্রোতে অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ইউরোপের নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে যথাসম্ভব সক্রিয় থাকা অপরিহার্য।’

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপোরিঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রুশ ড্রোন হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত এবং সাত বছর বয়সি এক বালকসহ আরও আটজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রামে একটি সাদা মিনিবাসের ভিডিও পোস্ট করেছেন, যার মেঝে রক্তাক্ত ও পেছনের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভেতরে এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

ফেদোরভ বলেন, বিকেলে আরেকটি হামলায় একটি বেসামরিক ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে আগুন লেগে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই হামলাগুলো নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

থিওটোনিয়াস/

জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির স্টাডে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এতে জড়িত সন্দেহভাজন বন্দুকধারী এবং দ্বিতীয় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) পুলিশের এক মুখপাত্র সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানায়, একটি যুবকেন্দ্রের কাছে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দূর্বৃত্তরা। বর্তমানে তারা শহরের বাইরে একটি বড় অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘আমরা আপনাদের নিরাপত্তার জন্য এলাকাটি ছেড়ে যেতে এবং এর থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করছি।’

পুলিশের মুখপাত্র জানান, একজন পুরুষ অপরাধী এবং তার এক নারী সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও পুলিশের একটি পৃথক বিবৃতিতে তৃতীয় এক সন্দেহভাজনকে আটক করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি কোনো নারীহত্যার ঘটনা নয়, বা এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা এ জাতীয় কিছু জড়িত নেই। বরং এটি একটি বৃহত্তর পারিবারিক ট্র্যাজেডি।

উল্লেখ্য, জার্মানিতে বন্দুক আইন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কঠোর এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর ঘটনাও কম ঘটে। ২৫ বছরের কম বয়সি যে কাউকে বন্দুকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে একটি মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

থিওটোনিয়াস/

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের
ট্রাম্পের পূর্বে আর কোনো প্রেসিডেন্ট এই সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা অভূতপূর্বভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। দেশটির শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ ছাড়া অন্য যেকোনো স্বাধীন সরকারি সংস্থার প্রধানকে যেকোনো সময় বরখাস্ত করতে পারবেন।

আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ ৯১ বছরের পুরোনো এক আইনি নজির বাতিল হয়ে গেল, যা এতদিন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার স্বার্থে এই স্বাধীন সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর নিজের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল রিজার্ভের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যতিক্রম রেখেছে। আদালত ৫-৪ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে অপসারণ করতে চেয়েছিল। 

জো বাইডেন কর্তৃক মনোনীত এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ফেড গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগ এনে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করতে চেয়েছিলেন। যদিও কুক শুরু থেকেই এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা রুখে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে লিখেছেন, প্রেসিডেন্টকে যদি যেকোনো সময়, যেকোনো কারণে, আগাম নোটিশ ছাড়া এবং কোনো আইনি তদারকি ছাড়াই ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যকে অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা এই পদের সুরক্ষাকে স্রেফ খেয়ালখুশি মতো চাকরিতে পরিণত করবে।

ট্রাম্পের সমালোচকদের মতে, লিসা কুককে সরানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সুদের হার নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প দ্রুত সুদের হার কমাতে চান, যাতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ কমে এবং সাধারণ মানুষ সস্তায় ঋণ পায়। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ফেডারেল রিজার্ভ রক্ষা পেলেও অন্যান্য স্বাধীন সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য একচ্ছত্র ক্ষমতা অনুমোদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ৬ রক্ষণশীল বিচারপতি। এর ফলে ১৯৩৫ সালের পর থেকে চলে আসা বিখ্যাত ‘হামফ্রিস এক্সিকিউটর’ মামলার রায় বাতিল হয়ে গেল, যে রায়ে বলা হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রেসিডেন্ট চাইলেই কারণ ছাড়া স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের সরাতে পারবেন না।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায়ে লেখেন যে, সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে এই আইনি সুরক্ষা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। এর ফলে ট্রাম্প ইতোপূর্বে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের রেবেকা স্লটারসহ বিভিন্ন কমিশনের যেসব কর্মকর্তাদের কোনো কারণ ছাড়াই বরখাস্ত করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আইনি বৈধতা নিশ্চিত হলো।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ক্ষেত্রে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং নজিরবিহীন এক ঐতিহাসিক রায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, আদালতের তিন উদারপন্থি বিচারপতির পক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাস্টিস সোনিয়া সোতোমেওর সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের ফলে মার্কিন প্রশাসনে অস্থিরতা, বশ্যতা এবং এমনকি স্বৈরাচারী নিপীড়নের পথ সুগম হতে পারে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, প্রেসিডেন্ট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হলেন, তবে এই ক্ষমতা তাকে দেশের জনগণ বা সংবিধান দেয়নি, দিয়েছে এই আদালতের ছয়জন বিচারপতি। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো উচিত নয়: ভারতকে উদ্দেশ্য করে চীন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো উচিত নয়: ভারতকে উদ্দেশ্য করে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভূকৌশলগত উদ্বেগ উপেক্ষা করেই বাংলাদেশের তিস্তা নদীর ব্যাপকভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) নিজেদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং জোর দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত। এ প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো উচিত নয়।

তৃতীয় পক্ষ বলতে মূলত ভারতকেই ইঙ্গিত করেছে চীন। ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের নিকটবর্তী এই সংবেদনশীল প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেই উদ্বেগকে উপেক্ষা করেই এরই মধ্যে প্রকল্পটির যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। তাই এই সহযোগিতা যেকোনো ধরনের তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা উচিত।’

তিস্তা নদী অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে চীন এই প্রকল্পটিকে মূলত বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।

গুও জিয়াকুন বলেন, ‘তিস্তা নদীর ব্যাপকভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার হলো একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশ সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধ্যমতো সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’ 

তিনি আরও জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় সমন্বয় সাধন করতে চায়। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় আরও বাড়াতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো একটি যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই (টেকনিক্যাল ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উভয় পক্ষই এই বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এই পর্যায়ে ছিল না। চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’

বাংলাদেশ ও চীন তিস্তাসহ অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। ফলে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে যে কোনো ধরনের নতুন ঘোষণার দিকে ভারত এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না’র মধ্যে আগের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা মূলত তিস্তা প্রকল্পটিকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়।

ভারতের মূল উদ্বেগ মূলত কৌশলগত কারণে। তিস্তা নদী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। ‘চিকেনস নেক’ বা মুরগির গলা নামে পরিচিত এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সংযুক্ত করেছে। এই কৌশলগত ও সংবেদনশীল এলাকায় চীনের মতো কোনো বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি বা প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। আর এই কারণেই বাংলাদেশ-চীন যৌথ তিস্তা প্রকল্পকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। সূত্র: এনডিটিভি

চীন-রাশিয়ার যৌথ বিমান টহল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
চীন-রাশিয়ার যৌথ বিমান টহল
ছবি: সংগৃহীত

জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে একটি যৌথ কৌশলগত বিমান টহল পরিচালনা করেছে চীন ও রাশিয়ার বিমানবাহিনী গত শনিবার (২৭ জুন) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত এ টহলটি চীন-রাশিয়ার ১১তম যৌথ বিমান টহল; যা আঞ্চলিক শান্তি স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে তাদের সংকল্প সক্ষমতার প্রদর্শন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সেস এবং চানিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এয়ারফোর্স এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি যৌথ ঘণ্টার টহল পরিচালনা করেছে এই অভিযানের সময় উভয় দেশের বিমান কঠোরভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিদেশি আকাশসীমার কোনো লঙ্ঘন হয়নি চীনা গণমাধ্যম সিসিটিভির এক ভিডিওতে দেখা গেছে, যৌথ টহলের সময় চীনা পক্ষ এইচ-৬কে বোমারু বিমান এবং জে-১৬, জে-১০সি জে-১১বি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে

এই যৌথ টহলের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান শনিবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, চীন রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলো জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে তাই জাপান যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেসূত্র: গ্লোবাল টাইমস