শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপপর্ব। নানা রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা আর অগণিত আবেগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো। মাঠে যেমন ছিল গোল, অঘটন আর তারকাদের ঝলক, তেমনি গ্যালারিতেও ছিল এক অনন্য উৎসব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি ভেন্যুজুড়ে যেন প্রতিদিন বসেছিল ফুটবল মহাযজ্ঞ। দর্শক উপস্থিতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপপর্বের ৭২টি ম্যাচে মোট ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ জন দর্শক মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন। ম্যাচপ্রতি গড় দর্শক ৬৪,৫০৮ জন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে গ্রুপপর্বের সর্বোচ্চ গড় উপস্থিতিগুলোর একটি এটি। স্টেডিয়ামের আসন পূরণের হার ছিল অবিশ্বাস্য ৯৯.৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় প্রতিটি ম্যাচই ছিল কার্যত দর্শকঠাসা। গ্রুপপর্বেই মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেছে ৪৬ লাখেরও বেশি দর্শক অথচ ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে মোট দর্শক ছিল প্রায় ৩৫.৮ লাখ। ২০২৬ সংস্করণে শুধু গ্রুপপর্বেই সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে।
গ্রুপপর্বে সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত ছিল উদ্বোধনী ম্যাচে। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়েছিল এ ম্যাচে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ম্যাচটি দেখতে হাজির হয় ৮০,৮২৪ জন দর্শক। শুরু থেকেই এই বিশ্বকাপ যে দর্শক উন্মাদনার নতুন মাত্রা ছুঁতে যাচ্ছে, সেই বার্তাই দিয়েছিল এই ম্যাচ। আসলে প্রতিটি ম্যাচই গ্যালারিতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচেও ৮০,৬৬৩ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। আবার ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৮০,৫৪৫। আটটি ম্যাচে ৮০ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে।
সব ম্যাচ যে সমান দর্শক টেনেছে, তা নয়। গ্রুপপর্বে সবচেয়ে কম দর্শক ছিল ঘানা-পানামা ম্যাচে। ৪২,৯৪২ জন দর্শক এ ম্যাচটি উপভোগ করেন। টরন্টো স্টেডিয়ামে কানাডা-বসনিয়া ম্যাচটি দেখতে এসেছিলেন ৪৩,০০২ জন দর্শক। সংখ্যাটি তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বকাপের মানদণ্ডে এটিও যথেষ্ট বড় উপস্থিতি। তুলনামূলক কম দর্শক টানা ম্যাচগুলোর মধ্যে ছিল কিছু অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় ফুটবল জাতির ম্যাচ। তবে সেখানেও গ্যালারি কখনো পুরোপুরি ফাঁকা দেখা যায়নি– এটাই এবারের বিশ্বকাপের বড় বৈশিষ্ট্য।
৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে নতুন নতুন দেশের সমর্থকরা সরাসরি স্টেডিয়ামে এসে দলকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আয়োজক দেশও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। এবার একসঙ্গে তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। বড় আকারের স্টেডিয়াম ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা দর্শক টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তা ছাড়া তারকাদের উপস্থিতিও কম ভূমিকা রাখেনি। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পের ভূমিকা কম নয়।