বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলনমেলায় মান্না স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দিনে ছোট দলগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকর ‘তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা যারা তথাকথিত বড় দুই ধারার বাইরে রয়েছি, আমাদের কি করার আছে? আগামী দিনগুলোতে কি আমরা আবার কোনো বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করব, নাকি নিজস্ব শক্তি নিয়ে এগোব? আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার।’
নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বা গণসংহতির মতো দলগুলোকে নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন মান্না। তিনি বলেন, ‘বড় দলগুলো যখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তখন তারা ছোটদের গুরুত্ব দেয় না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।’
পাঁচ বছর পর বা বড় কোনো অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মান্না তার দলীয় সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা যেন এমন জায়গায় না থাকি যেখানে জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। বড় দলের জোটে থেকে নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে মানুষের কাছে যাওয়া বেশি জরুরি। আমরা জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই।’
তিনি উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চাই, আগামীতে আমরা যারা একই চিন্তা করি, তারা এক ছাতার নিচে আসি। নিজেদের বাহুতে জোর থাকলে কোনো বড় শক্তির মুখাপেক্ষী হতে হবে না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’
মান্না তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন আর রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা কোনো দলের অন্ধ অনুসারী হতে আসিনি। নাগরিক ঐক্যের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। যদি কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব না।’
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/