বরগুনার তালতলীতে মারধরের একটি মামলায় ঘটনাস্থলে না থেকেও দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা দাবি করেছেন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তালতলী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুই শিক্ষার্থী এ অভিযোগ করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া এলাকার রায়হান সাকিব ও মো. নাইম।
জানা গেছে, উপজেলার হেলেঞ্চাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৮ জুন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১ জুন আশরাফ হোসেন সরদার বাদী হয়ে তালতলী থানায় মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন এই দুই শিক্ষার্থীও।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলে, ঘটনার সময় তারা কেউই ঘটনাস্থলে ছিল না। একজন কড়ইবাড়িয়া বাজারে এবং অন্যজন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। তবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তারা আরও জানায়, ২০২২ সালেও একই বাদীর করা একটি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছিল। পরে পুলিশি তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সেই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।
রায়হান সাকিব ও মো. নাইম বলেন, তারা বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যদি দুই শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তাহলে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।
মহিউদ্দিন/নাঈম