সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও সরকার অনুমোদিত সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কনটেন্ট ব্লক এবং ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৯তম দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়।
বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এম. আব্দুল গফুর, জাহিরুল ইসলাম, জি. এম. নজরুল ইসলাম ও আমির হামজা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। তবে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি উত্থাপনকালে মন্ত্রী বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতর্কিত, ক্ষতিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ভুল তথ্য (মিস ইনফরমেশন) ও মানহানির সংজ্ঞা যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমন কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। তিন দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে বিলটি পাস করা হয়।
এলিস/নাঈম