ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শৈশবের সেই প্রথম মিছিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট সংসদে পাস, ঘাটতি প্রায় আড়াই লাখ কোটি কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার গত ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষায় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট টিএলপি ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা

১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। এনবিআর রিটার্ন দাখিলের সময়কালকে এবার চারটি ধাপে ভাগ করে দিয়েছে। সময়কাল-সংক্রান্ত সারণি দেখে যা বোঝা যায় তা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি:

প্রথম ধাপে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন আয়কর আইনের ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (২) মোতাবেক তারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা–এ দুটির মধ্যে যেটা কম হবে, সেই পরিমাণ টাকা কর প্রণোদনা বা ছাড় পাবেন। দ্রুত রিটার্ন সাবমিটের জন্য এ তিন মাসকে আমরা প্রণোদনাকালীন সময়সীমা বলতে পারি।

দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা বাড়তি কোনো প্রণোদনা পাবেন না, আবার তাদের অতিরিক্ত কোনো জরিমানারও দিতে হবে না। এই তিন মাসকে আমরা নিয়মিত বা স্বাভাবিক সময়সীমা বলতে পারি।

স্পষ্টভাবে বলা যায়, সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকায় যে কোনো মুহূর্তে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে পুরো করবর্ষজুড়ে। তবে আগেভাগে রিটার্ন দাখিল করলে একদিকে যেমন করদাতা প্রণোদনা পাবে অন্যদিকে তেমনি নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলে প্রত্যাশা সবার।

পলাশ কুণ্ডু
আয়কর আইনজীবী, এনবিআর তালিকাভুক্ত 
সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন 
[email protected]

শৈশবের সেই প্রথম মিছিল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
শৈশবের সেই প্রথম মিছিল

১৯৫৮ সাল। তখন আমি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক ছোট্ট বালক। বয়স সবে সাত ছুঁই ছুঁই। চারদিকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন থমথমে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং তার দলের রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরাধীনতার শৃঙ্খলে তখন পিষ্ট হচ্ছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

এমনই এক চরম দুঃসময়ে পিরোজপুরের রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্রদের ঢল। আইয়ুব সরকারের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রনেতারা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু সেদিনের সেই প্রতিবাদী মিছিলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আমাকে রাখা হয়েছিল একেবারে সম্মুখে, প্রথম কাতারে। কেন আমাকে একেবারে সামনে দেওয়া হয়েছিল? কারণ, তখন নাকি আমি দেখতে অসাধারণ সুদর্শন ছিলাম। কচি মুখের সেই নিষ্পাপ সৌন্দর্য আর চোখের দীপ্তি দেখে তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মনে হয়েছিল–এই ছোট্ট শিশুই যেন নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় প্রতীক!

আজ এত বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেদিন পিরোজপুরের রাজপথে শুধু একজন প্রথম শ্রেণির ছাত্র হাঁটেনি, হেঁটেছিল গণতন্ত্রের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসা। ছোটবেলার সেই দিনটিই আমার ভেতরে বুনে দিয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রথম বীজ। সেই ছোট্ট বয়সে না বুঝেই স্বৈরাচারবিরোধী যে মিছিলে হেঁটেছিলাম, জীবনের প্রতিটি বাঁকে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস হয়ে আছে। শৈশবের সেই মিছিল, সেই স্লোগান আর পিরোজপুরের ধুলোমাখা রাজপথ আজও আমার হৃদয়ে এক জ্বলন্ত ইতিহাস হয়ে জ্বলজ্বল করছে।

লিয়াকত হোসেন খোকন 
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]

কালিমার পতাকা নিয়ে বিতর্ক ও আমাদের উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
কালিমার পতাকা নিয়ে বিতর্ক ও আমাদের উদ্বেগ

সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য দেশের পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি কালিমাখচিত সাদা-কালো পতাকা টাঙানোর ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে এমন পতাকা টাঙানো এবং পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা অপসারণের খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব পতাকা নিয়ে মিছিলের ঘটনাও দেখা গেছে। কালিমা মুসলমানদের ঈমানের মূল ঘোষণা এবং ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সম্মানিত। তবে বাস্তবতা হলো, অতীতে আইএস, আল-কায়েদা ও অন্যান্য উগ্রবাদী সংগঠনও কালিমাখচিত সাদা-কালো পতাকা ব্যবহার করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের পতাকার রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই বলতে হয়, কোনো প্রতীক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি, বিভাজন বা উগ্র মতাদর্শের প্রচার যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্র, আলেম সমাজ, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তরুণদের বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখা। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে দেশকে পুনরায় উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদের ঝুঁকির দিকে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।

খান ইয়ামিন
আহ্বায়ক, আলেয়া সুলতানা স্মৃতি পাঠাগার
২ নম্বর হাবেলী গোপালপুর, মুজিব সড়ক, সদর, ফরিদপুর
[email protected]

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে কিছু কথা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে কিছু কথা

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস পদবিটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই গুণীজনের একটাই অপরাধ, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক ছিলেন। তিনি তার চিকিৎসক হয়ে কী মহা-অপরাধটাই না করে ফেলেছেন। শুধু তার পদবিটা কেড়ে নিলেও হতো। তিনি সরকার থেকে যৎসামান্য যা ভাতা গ্রহণ করেছেন তাও ফেরত চাওয়া হয়েছে। একটি রাষ্ট্রে এমন জঘন্যতম কর্মকাণ্ড যদি চলতে থাকে, তাহলে তার অদূর ভবিষ্যৎ কারও জন্যই মঙ্গলজনক হয়ে ওঠে না। তবে এমন ঘটনার পেছনে কেউ কেউ মবিন খানের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তাকে আওয়ামী সরকার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক হওয়ায় রাজনৈতিক তকমা দিয়ে তার সঙ্গে অন্যায় করেছিল। তাকেও অবসরে যাওয়ার পর তার প্রাপ্যটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমি কারও প্রাপ্য কেড়ে নেওয়ারই পক্ষে নই। মবিন খানের বিষয়টি যেমন ন্যক্কারজনক ছিল তেমনি ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ঘটনাটিও হৃদয়বিদারক এবং অপমানজনক। মবিন খানের সঙ্গে যারা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডায় তাদের কী ধরনের নাজেহাল হতে হয়েছিল তা একটু উপলব্ধি করার দরকার ছিল। তারা যেমন কুকুর ছিল তেমন মুগর পেয়েছে। তাদের কাছ থেকে বর্তমান শাসকরা কেন শিক্ষা নিচ্ছে না? তারা আগের দলের প্রতিশোধ গ্রহণ করে হাসিনা সরকারের মতো দুর্দশাগ্রস্ত হবে? নাকি তাদের উচিত তারা ন্যক্কারজনক কাজগুলোকে পরিহার করবে। সারা দেশের মানুষ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করছেন। অনেকেই ধিক্কার জানাচ্ছেন। তারপরও সরকার তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে না। যা এ সরকারের জন্য একটি ঘৃণিত উদাহরণ হয়ে থাকবে, যা আওয়ামী লীগ সরকার মবিন খানের সঙ্গে করেছিল।

হাজি মো. রাসেল খান
খলিফবাড়ী, সিপাহীপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]

রমনা পার্কটি বাঁচান

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
রমনা পার্কটি বাঁচান

ঢাকার রমনা পার্কের উন্নতি যা হওয়া উচিত ছিল তেমন উন্নতি না দেখে নগরবাসী এতটাই হতাশ যে, এই সেদিন চীনের চাংচুং শহরের একটি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং এর আধুনিকতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে তখনই রমনা পার্ককে চাংচুং শহরের মতো পার্ক হিসেবে  গড়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করি। রমনা পার্কটি  বেসরকারি  উদ্যোগে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পত্রপত্রিকায় বহু লেখালেখি হয়েছে। চাংচুং শহরের সাউথ লেক হোটেলের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত এই লেকটি যে কেউ দেখলে মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ যেকোনো বয়সের পরিবেশ উদ্যোগে এ পার্কের লেকে আছে শিশুদের ছোট ছোট মাছ ধরার কায়দা, ঘুড়ে বেড়ানো, বিশ্রাম নেওয়ার  চমৎকার ব্যবস্থা, যথেষ্ট গাছ পালা ও ফুলের সমারোহ, পার্কের লেকগুলোর  পার বাধানো চমৎকার, হাঁটার প্রশস্ত  জায়গা, পানির বোতল বা নোংরা জিনিসপত্র  নির্দিষ্ট স্থানে ফেলানোর ব্যবস্থাও সুন্দর। জানিনা গণপূর্ত অধিদপ্তর রমনা পার্ক হতে কোন রাজস্ব পায় কিনা জানি না।

যাই হোক, যেকোনো মূল্যে রমনা পার্কটিকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিন আর যদি  সম্ভব হয় নগরীতে একটি পরিবেশ সৌন্দর্য পার্ক হিসেবে রমনা পার্কটিকে নগরবাসীর স্বার্থে এর আধুনিকতা, উন্নয়ন এবং বিদেশি পার্কের সমতুল্য হিসেবে নগরবাসীর স্বার্থে গড়ে তোলা বা উপহার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
 
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক, সচেতন নাগরিক সমাজ
১৭ ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
[email protected]

সাংবাদিকতার রূপ ও রূপান্তর

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
সাংবাদিকতার রূপ ও রূপান্তর

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যমের যেমন বিকাশ ঘটেছে, তেমনি সাংবাদিকতার ধরনেও এসেছে হরেকরকম বৈচিত্র্য। এক সময় সাংবাদিক বলতে কেবল খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনের চশমা পরা, গম্ভীর স্বভাবের পেশাদার মানুষদের বোঝাত। কিন্তু এখন সেই চেনা রূপের বাইরেও নানা পদের সাংবাদিকের দেখা মেলে। মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের অনেকেই রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে ঘুরে সত্য উন্মোচনে ব্যস্ত থাকেন। আবার কেউ কেউ কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে টেবিল টক বা কলাম লিখেই নিজেদের দায়িত্ব সারেন। মফস্বল বা গ্রামীণ সাংবাদিকরা স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ আর অধিকারের কথা তুলে ধরতে প্রতিনিয়ত লড়াই করেন, যাদের অনেকেরই কষ্টের তুলনায় পারিশ্রমিক সামান্য।

এদিকে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে ‘স্মার্টফোন সাংবাদিকতা’র প্রসার ঘটেছে। এখন একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ ঘটনাস্থল থেকে লাইভ বা ভিডিও প্রচার করতে পারেন। এতে যেমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে, তেমনি কিছু ‘ইউটিউব’ ও ‘ফেসবুক সাংবাদিক’ ভিউ-লাইকের আশায় ভিত্তিহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। আবার কিছু ভুঁইফোড় কার্ডধারী সাংবাদিকও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তাই প্রকৃত ও সৎ সাংবাদিকদের চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে রূপ বা মাধ্যম যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সমাজ ও দেশের কল্যাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই হোক সব ধরনের সাংবাদিকের মূল লক্ষ্য।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা 
[email protected]