ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শৈশবের সেই প্রথম মিছিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট সংসদে পাস, ঘাটতি প্রায় আড়াই লাখ কোটি কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প

একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে; একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে আরো ১১৪ জনের।

এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এ ছাড়া হামের লক্ষণ নিয়ে ৬২৫ জন মারা গেছে বলে তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারাদেশে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬৯ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮০, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে ৮ জন মারা গেছে।

এদিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার একই সময় পর্যন্ত) হামের লক্ষণ নিয়ে ৮৮৬ জন হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে ৮২১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০৪ জন, রাজশাহীতে ২৪, সিলেটে ৫৪, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১৩২, ময়মনসিংহে ৪৬, খুলনায় ৬৩, রংপুরে ৮ জন রয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট রোগী ভর্তির হয়েছে ৮৪ হাজার ৬২৭ জন; যার মধ্যে ৮০ হাজার ৯৭৪ জন এরইমধ্যে ছাড়া পেয়েছেন।

এসএন/

ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী
ছবি: খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলীতে মারধরের একটি মামলায় ঘটনাস্থলে না থেকেও দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা দাবি করেছেন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তালতলী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুই শিক্ষার্থী এ অভিযোগ করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া এলাকার রায়হান সাকিব ও মো. নাইম। 

জানা গেছে, উপজেলার হেলেঞ্চাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৮ জুন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১ জুন আশরাফ হোসেন সরদার বাদী হয়ে তালতলী থানায় মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন এই দুই শিক্ষার্থীও।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলে, ঘটনার সময় তারা কেউই ঘটনাস্থলে ছিল না। একজন কড়ইবাড়িয়া বাজারে এবং অন্যজন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। তবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তারা আরও জানায়, ২০২২ সালেও একই বাদীর করা একটি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছিল। পরে পুলিশি তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সেই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

রায়হান সাকিব ও মো. নাইম বলেন, তারা বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যদি দুই শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তাহলে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।

মহিউদ্দিন/নাঈম

রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভ্রমণের জন্য দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন) দুপুরে চাঁদাবাজির শিকার হওয়ায় এর প্রতিকার চেয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, শাহিন আলম নামের এক ব্যক্তি তার এক সহযোগীসহ ইউএনও'র কাছে প্রথমে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য হোটেল বুকিং বিমানের টিকেট করে দেওয়ার দাবি জানান। এরপর হোটেল বুকিং অভিমানের টিকেট কেটে দিতে ইউএনও রাজি না হওয়ায় চক্রটি নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়া হলে নানাভাবে অপদস্থ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

চক্রটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করার অভিযোগও রয়েছে।

এরপর ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১% বরাদ্দের কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে এমন অপপ্রচার চালায়।
ইউএনও আরো বলেন, ১% বরাদ্দের টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা ইউএনওর নেই। এই বরাদ্দ ব্যয় করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু স্যার ১% বরাদ্দের প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে বরাদ্দ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাতের সুযোগ নেই।

সামাজিকভাবে অপপ্রচার করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করায় আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

এসএন/

কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
কাজের প্রলোভনে অপহরণ, টেকনাফের পাহাড়ি আস্তানা থেকে চার যুবক উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফেনী ও হবিগঞ্জের চার যুবককে অপহরণ করে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় একটি অপহরণকারী চক্র। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে অপহরণকারীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চার যুবককে উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া যুবকরা হলেন, ফেনী জেলার গণিপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলে এমাম হোসেন (১৮), একই এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), ফেনী জেলার রামপুর গ্রামের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) এবং হবিগঞ্জ জেলার ফুটি ঝুড়ি উপজেলার বাসিন্দা জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর‌ ১২ টা থেকে ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে ভিকটিমদের উদ্ধার করে টেকনাফ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানায়, অপহরণের সঙ্গে জড়িত রাসেল নামে এক ব্যক্তি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা। ফেনীতে কাজ করার সুবাদে তিনি অপহৃত যুবকদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের টেকনাফে ডেকে এনে পাহাড়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ২৭ জুন তাদের টেকনাফে নিয়ে আসা হয়।

ভিকটিমদের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর ফোন করে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে ভিকটিমদের মারধর করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অপহৃত হোসাইনের মা দিল বাহার বলেন, আমার ছেলে কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছে জানতাম না। শনিবার ফোন করে জানানো হয়, আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এত টাকা দিতে পারব না বললে ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় মঙ্গলবার জানতে পারি, আমার ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ফেনী ও সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকার চার যুবককে কাজের কথা বলে ডেকে এনে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড় এলাকায় জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আমার নেতৃত্বে উপপরিদর্শক মোর্শেদের সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল এবং র‌্যাবের একটি টিম যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে চার ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মোঃ শাহীন/এসএন

 

বগুড়ায় কুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
বগুড়ায় কুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া শহরে একটি পথ কুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ স্বপন (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে বগুড়া শহরের বকসিবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাণী নির্যাতনের মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পৃথক অস্ত্র মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বগুড়া সদর শাখার আহ্বায়ক মোঃ এমরান হোসেন (৩১)  সোমবার  দুপুরে খবর পান যে, বগুড়া মহানগরের কানছগাড়ী এলাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের গলিতে একটি কুকুর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় সাদা-কালো রঙের গুরুতর আহত কুকুরটিকে ড্রেন থেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত সেটিকে জলেশ্বরীতলার মহিলা ক্লাব মোড়ে অবস্থিত ডাঃ আকাশ পেটস কনসাল্টেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ লুৎফর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কাজী আশরাফুল ইসলাম এবং ডাঃ আকাশের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসক দল আহত প্রাণীটির চিকিৎসা দেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠে যে, কানছগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোঃ স্বপন (৪৫) কুকুরটির ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় মোঃ এমরান হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগের পর মামলা দায়ের হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বগুড়ার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, গ্রেফতারের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আসামীর দেহ তল্লাশি করে তার পকেট থেকে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে চাকুটি জব্দ করে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাণী নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রিপন দাস/এসএন

দুই পা নেই, তবুও স্বপ্নের পথে অদম্য জান্নাতুল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
দুই পা নেই, তবুও স্বপ্নের পথে অদম্য জান্নাতুল
স্বপ্নের পথে জান্নাতুল ফেরদৌস। ছবি: সংগৃহীত

জন্ম থেকেই দুটি পা নেই। হাঁটতে পারেন না, ছুটতে পারেন না। দুই হাতের ওপর ভর করেই এগিয়ে চলতে হয় জীবনের প্রতিটি পথ। তবুও থেমে যায়নি তার স্বপ্ন। প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে লালন করে এগিয়ে চলেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১৯ বছর বয়সি জান্নাতুল ফেরদৌস।

জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের ভেংরি গ্রামের রাজমিস্ত্রীর সহকারী দরিদ্র পরিবারের সন্তান জান্নাতুল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ২০২৫ সালে ভেংরি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ৫৬ অর্জনের পর বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু তার শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় বাধা এখন দারিদ্র্যতা।

প্রতিদিন কলেজে যেতে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয় তাকে। প্রতিদিন যাতায়াতে খরচ হয় প্রায় ১২০ টাকা। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করা বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে প্রতিদিন এই খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ফলে মাসে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় দিন কলেজে যেতে পারেন জান্নাতুল। বাকি সময় ঘরে বসেই চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।

সাহসী শিক্ষার্থী জান্নাতুল বলেন, আমি দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে চলাফেরা করি। নিয়মিত কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বাবার পক্ষে প্রতিদিন যাতায়াতের খরচ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই অনেক ক্লাসই করতে পারি না। যদি একটি তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে প্রতিদিন কলেজে যেতে পারতাম। আমি শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।আমি ভবিষ্যতে চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে আসে মা সাহারা খাতুনের। তিনি বলেন, মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না। অর্থের অভাবে ওর জন্য কিছুই করতে পারছি না। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে! 

আবেগাপ্লুত বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি দিনমজুর মানুষ। সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়েটা খুব মেধাবী। ওর ইচ্ছা অনেক বড়, কিন্তু অভাবের কাছে আমি অসহায়। যদি কেউ একটি স্কুটির ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমার মেয়েটা নিয়মিত কলেজে যেতে পারতো ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতো। 

হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জান্নাতুল অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী একজন শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই তার শেখার আগ্রহ কমাতে পারেনি। কলেজের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে জান্নাতুলের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আলোকিত হবে। 

জান্নাতুলের গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সংগ্রামের গল্প নয়, এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস আর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। প্রতিদিন দুই হাতের ভরসায় এগিয়ে চলা এই তরুণী সমাজের কাছে খুব বেশি কিছু চান না। শুধু একটি তিন চাকার স্কুটি যা তাকে নিয়মিত কলেজে পৌঁছে দেবে, উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করবে এবং একদিন নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এনে দেবে। হয়তো একজন মানুষের ছোট্ট একটি সহায়তাই বদলে দিতে পারে জান্নাতুল ফেরদৌসের পুরো জীবন।


সিরাজুল ইসলাম শিশির/এসএন