ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হামজারবাগে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা, আতঙ্কে বাসিন্দারা আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে দুদক: তথ্য উপদেষ্টা চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নয়্যার লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা

দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প
ছবি: এআই

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একই দিনে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি- চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস। একসময় বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা এই দুই দল এবারও শেষ পর্যন্ত হতাশার গল্পই লিখল। এক দল ইতিহাসের ভারে নুয়ে পড়েছে, অন্য দল যেন টাইব্রেকারের অভিশাপ থেকে বেরোতেই পারছে না।

জার্মানির বিদায়টা এসেছে আরও একবার অপ্রত্যাশিতভাবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে জার্মানরা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই জার্মানির প্রথম টাইব্রেকার পরাজয়। একসময় মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত শৃঙ্খলা আর বড় ম্যাচে স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক ছিল জার্মানি; সেই দল এখন টানা তিন আসরে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি।

২০১৪ সালে জার্মানি ব্রাজিলের মাটিতে মারাকানায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতেছিল। তখন মনে হয়েছিল, জার্মান ফুটবলের সামনে দীর্ঘ সোনালি যুগ অপেক্ষা করছে। কিন্তু এরপর চিত্র বদলে যায় নাটকীয়ভাবে। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, ২০২২-এও একই পরিণতি। এবার প্রথম রাউন্ড পার হয়ে ভালো করার ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। কিন্তু নকআউটের প্রথম ধাপেই যে এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। শেষ বত্রিশে থেমে গেছে তাদের যাত্রা। ফলে ২০১৪ সালের সাফল্য এখন যেন অনেক দূরের স্মৃতি।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কাহিনি আরও বেশি বেদনাময়। বিশ্বফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান অথচ “অমুকুটধারী” শক্তি হিসেবে পরিচিত ডাচরা আবারও বড় মঞ্চে হৃদয়ভাঙার গল্প লিখল। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

নেদারল্যান্ডসের জন্য এই পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার গল্প নয়; এটি যেন দীর্ঘ এক ট্র্যাজেডির নতুন অধ্যায়। টাইব্রেকারে হার তাদের জন্য নতুন কিছু নয়-বরং বহু বছরের যন্ত্রণা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরার পর আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। তারও আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একই প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারেই স্বপ্নভঙ্গ হয়। একই আসরে লুই ফন গালের দল দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালের দরজা খুলতে পারেনি।

এরও আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ডাচদের বেদনা ছিল আরও গভীর। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। বিশ্বকাপ ট্রফি তখন হাতছোঁয়া দূরত্বে ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা ফসকে যায়।

এমনকি আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপ নেদারল্যান্ডসকে বারবার আশা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরিয়েছে। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০- তিনবার ফাইনাল খেলেও একবারও শিরোপা জেতা হয়নি। “টোটাল ফুটবল”-এর জনক দেশটি তাই এখনও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার প্রতীক।

দুই দলের বিদায় ফুটবল বিশ্বকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। জার্মানি এখন নিজেদের পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে। প্রশ্ন উঠছে-তাদের ঐতিহ্যবাহী শক্তি কি হারিয়ে যাচ্ছে? অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জন্য প্রশ্ন মানসিকতার-বড় ম্যাচে কেন বারবার শেষ বাধায় থেমে যায় তারা?

বিশ্বকাপের মঞ্চ নির্মম। এখানে অতীতের গৌরব কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের এবারের বিদায় সেই সত্যই আবার মনে করিয়ে দিল-ইতিহাস যতই সমৃদ্ধ হোক, বর্তমানের লড়াইয়ে ব্যর্থ হলে গৌরব কেবল স্মৃতিতেই বেঁচে থাকে।

এসএন/

আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্ট
কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপপর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে নকআউট পর্বে (শেষ ৩২) জায়গা করে নিয়েছে তারা। যেখানে দলটির প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচটি কেপ ভার্দে ১-০ গোলে জিতবে বলে বিশ্বাস দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেসের। 

আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচই জিতেছে। দলটির হয়ে লিওনেল মেসি ছয়টি গোল করেছেন। তারা অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউটে উঠেছে।

স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ আমেরিকার দলটি এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট। টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, সেমিফাইনাল পর্যন্তও তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ পথ রয়েছে।

তবে নিজেদের আন্ডারডগ মনে করলেও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস বিশ্বাস করেন, তার দল আরও একটি ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানাতে পারে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামব। যখন একটি দলকে নিয়ে প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন সবকিছুই সম্ভব।’

কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের সব সময় চেষ্টা করা উচিত সবাইকে চমকে দেওয়ার বলেও মন্তব্য করেন নেভেস। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই লিখতে। আর সেই ভাগ্যের অংশই হলো চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়া। তাই আমরা আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির বিপক্ষে একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের প্রবল ইচ্ছা নিয়ে মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেওয়া।’

এসজি/

আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নয়্যার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নয়্যার
ম্যানুয়েল নয়্যার। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির হতাশাজনক বিদায়ের পর আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। বিশ্বকাপের আগে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নকআউটে (শেষ ৩২) হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এরপরই টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

স্পোর্টশাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এবার কি সত্যিই শেষ? জবাবে নয়্যার সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘হ্যাঁ’। এ ছাড়া ম্যাজেন্টা টিভিকে নয়্যার বলেন, ‘না, আমি আর খেলব না। এভাবে ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হওয়াটা খুবই তিক্ত।’

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ সমতায় ছিল।

প্রথমার্ধে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। বিরতির পর কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে জোনাথান তাহ হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের মাধ্যমে গোলটি বাতিল করা হয়।

টাইব্রেকারে নয়্যার ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকালেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টেমাডে এবং জোনাথান তাহ পেনাল্টি মিস করায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

এর আগে ২০২৪ ইউরো শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন নয়্যার। তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আর জাতীয় দলে ফিরবেন না। তার অনুপস্থিতিতে হফেনহাইমের গোলরক্ষক অলিভার বাউমান জার্মানির এক নম্বর গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। বার্সেলোনার মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন চোটে থাকায় তিনি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলেছিলেন।

যদিও শুরুতে নয়্যার ও জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান- দুজনই তার ফেরার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নাগেলসমানই বিশ্বকাপের জন্য বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে আবারও প্রথম পছন্দ হিসেবে দলে ফেরান। এতে বাউমানকে বেঞ্চে বসতে হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি, কারণ প্রথম নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানিকে।

২০০৯ সালে জার্মানির জার্সিতে অভিষেক হওয়া নয়্যার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের শেষ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে তিনি মোট ১২৮টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়লেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন নয়্যার। গত মাসেই বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে সই করেছেন তিনি।

এসজি/

দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প
ছবি: এআই

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একই দিনে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি- চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস। একসময় বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা এই দুই দল এবারও শেষ পর্যন্ত হতাশার গল্পই লিখল। এক দল ইতিহাসের ভারে নুয়ে পড়েছে, অন্য দল যেন টাইব্রেকারের অভিশাপ থেকে বেরোতেই পারছে না।

জার্মানির বিদায়টা এসেছে আরও একবার অপ্রত্যাশিতভাবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে জার্মানরা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই জার্মানির প্রথম টাইব্রেকার পরাজয়। একসময় মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত শৃঙ্খলা আর বড় ম্যাচে স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক ছিল জার্মানি; সেই দল এখন টানা তিন আসরে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি।

২০১৪ সালে জার্মানি ব্রাজিলের মাটিতে মারাকানায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতেছিল। তখন মনে হয়েছিল, জার্মান ফুটবলের সামনে দীর্ঘ সোনালি যুগ অপেক্ষা করছে। কিন্তু এরপর চিত্র বদলে যায় নাটকীয়ভাবে। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, ২০২২-এও একই পরিণতি। এবার প্রথম রাউন্ড পার হয়ে ভালো করার ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। কিন্তু নকআউটের প্রথম ধাপেই যে এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। শেষ বত্রিশে থেমে গেছে তাদের যাত্রা। ফলে ২০১৪ সালের সাফল্য এখন যেন অনেক দূরের স্মৃতি।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কাহিনি আরও বেশি বেদনাময়। বিশ্বফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান অথচ “অমুকুটধারী” শক্তি হিসেবে পরিচিত ডাচরা আবারও বড় মঞ্চে হৃদয়ভাঙার গল্প লিখল। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

নেদারল্যান্ডসের জন্য এই পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার গল্প নয়; এটি যেন দীর্ঘ এক ট্র্যাজেডির নতুন অধ্যায়। টাইব্রেকারে হার তাদের জন্য নতুন কিছু নয়-বরং বহু বছরের যন্ত্রণা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরার পর আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। তারও আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একই প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারেই স্বপ্নভঙ্গ হয়। একই আসরে লুই ফন গালের দল দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালের দরজা খুলতে পারেনি।

এরও আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ডাচদের বেদনা ছিল আরও গভীর। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। বিশ্বকাপ ট্রফি তখন হাতছোঁয়া দূরত্বে ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা ফসকে যায়।

এমনকি আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপ নেদারল্যান্ডসকে বারবার আশা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরিয়েছে। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০- তিনবার ফাইনাল খেলেও একবারও শিরোপা জেতা হয়নি। “টোটাল ফুটবল”-এর জনক দেশটি তাই এখনও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার প্রতীক।

দুই দলের বিদায় ফুটবল বিশ্বকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। জার্মানি এখন নিজেদের পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে। প্রশ্ন উঠছে-তাদের ঐতিহ্যবাহী শক্তি কি হারিয়ে যাচ্ছে? অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জন্য প্রশ্ন মানসিকতার-বড় ম্যাচে কেন বারবার শেষ বাধায় থেমে যায় তারা?

বিশ্বকাপের মঞ্চ নির্মম। এখানে অতীতের গৌরব কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের এবারের বিদায় সেই সত্যই আবার মনে করিয়ে দিল-ইতিহাস যতই সমৃদ্ধ হোক, বর্তমানের লড়াইয়ে ব্যর্থ হলে গৌরব কেবল স্মৃতিতেই বেঁচে থাকে।

এসএন/

জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার
ছবি: সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লজ্জা নিবারণ করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। হারারে টেস্টে হেরেছে ৩ দিনেরও কম সময়ে রেকর্ড ইনিংস ও ৮৫ রানে। যে হারে জিম্বাবুয়ে পেয়েছে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। তাদের আগের বড় জয় ছিল ২০২৫ সালে এই হারাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ও ৭৩ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে তাদের আগের বড় জয় ছিল ২৫ বছর আগে ২০০১ সালে বুলাওয়েতে ইনিংস ও ৩২ রানে। এটা ছিল দুই দেশের প্রথম টেস্ট। 

আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইটি করে চারটি টেস্ট টানা জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে মঙ্গলবার দিনটি ‘কালো’ হয়ে থাকবে। জিম্বাবুয়ে যে দলের কাছে তারা এত বড় ব্যবধানে হেরেছে, সেই জিম্বাবুয়ে খুব একটা শক্তিশালী দল নয়। তারা খেলতে নামেই হারকে মেনে নিয়ে। ২০১৩ সালের পর হারারে টেস্টের আগ পর্যন্ত তারা ৩৭ টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে মাত্র ৪টি টেস্টে। যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান (২ বার) ও বাংলাদেশ (২ বার)। ড্র করতে পেরেছে মাত্র ৪টি টেস্ট। একই সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা ৯টি টেস্ট খেলে জয় পেয়েছিল মাত্র ২টি টেস্টে যথাক্রমে ১৫১ রান ও ৩ উইকেটে। এবার সেখানে হারের ব্যবধান আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশে হেরেছে মূলত ব্যাটি ব্যর্থতার কারণে। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে করে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ৪৫ রান বেশি করে ১৮৫ রানে। প্রথম ইনিংসে খেলেছিল ৪৭.২ ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছে আরও কম ৪৫ ওভার। তৃতীয় দিন ১ উইকেটে ৪০ রান নিয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩ উইকেট হারিয়ে শতরান পার হয়ে যায়।

প্রথম ইনিংসে মড়ক লেগে ২১ রানে হারিয়েছিল ৭ উইকেট। এবার সে রকম মড়ক লাগেনি। কিন্তু কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে মুমিনুল ৬০ রানের ইনিংস খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে কেউই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলতে পরেননি। মুমিনুল ১৩ রান করেন। সর্বোচ্চ ৩৪ রানে আসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০, অভিষেক টেস্ট খেলা, অমিত হাসান ২৮ ও ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় করেন ২২ রান। রঙিন পোষাকে দারুণ ফর্মে থাকা তাওহীদ হৃদয় টেস্ট অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি। উভয় ইনিংসে (৩ ও ৯) দুই অঙ্কের ঘরেও যেতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের চার পেসার মিলে যেমন বাংলাদেশের সব কটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ভাগাভাগি করে। দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা সে কাজটি করেন। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন নিয়ামহুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেন মুজারাবানি। প্রথম ইনিংসে বাকি ৬ উইকেট তিন পেসার সমান ২টি করে নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আসে কিছু পরিবর্ত। ৩ উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা। নিয়ামহুরি এবার নেন ২ উইকেট। ১ উইকেট নেন ব্রাড ইভান্স। ফলে চা বিরতির আগেই বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের এমন লজ্জ্বার হারে দেশের বাইরে বাংলাদেশের হয়ে তাইজুলের সেরা বোলিং ১৩৮ রানে ৭ উইকেট ঢাকা পড়ে যায়। ১৪০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন ইনোসেন্ট কাইয়া।

পলাশ/নাঈম

কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
কঙ্গোর বিপক্ষে মাইনোকে একাদশে চান রুনি
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি মনে করেন, ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বের ম্যাচে কোবি মাইনোকে মূল একাদশে সুযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, মাইনোর বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং দক্ষতা ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নতুন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে দলে নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছেন এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের শেষ চারটি প্রীতি ম্যাচে খেললেও চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাকে বেঞ্চেই থাকতে হয়েছে।

অন্যদিকে, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা অ্যান্ডারসন গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই ইংল্যান্ডের মূল একাদশে খেলেছেন।

নিজের টকশো দ্য ওয়েইন রুনি শো-তে ইংল্যান্ডের আদর্শ মিডফিল্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুনি বলেন, ‘আমি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে ডেকলান রাইসকে রাখব। তার সামনে খেলবে কোবি মাইনো ও জুড বেলিংহাম।’

মাইনোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই সে কার্যকর। তবে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সংকীর্ণ জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণে রাখা। তার পায়ের কাজ ও পাসিং অসাধারণ। বর্তমান স্কোয়াডে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে খেলার মতো খেলোয়াড় খুব কমই আছে।’

রুনির সঙ্গে একমত পোষণ করেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার এমিল হেসকি। তিনি বলেন, পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের শেষ দিকে মাইনোকে সুযোগ না দিয়ে ৩৬ বছর বয়সী জর্ডান হেন্ডারসনকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

হেসকির ভাষ্য, ‘মাইনোর সামনে আরও কয়েকটি বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে সুযোগ দিলে ভবিষ্যতের জন্যও লাভ হতো। তার জায়গায় আমি থাকলে অবশ্যই হতাশ হতাম।’

নাঈম/