ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হামজারবাগে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা, আতঙ্কে বাসিন্দারা আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে দুদক: তথ্য উপদেষ্টা চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নয়্যার লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: তিস্তা চুক্তি, করিডর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য: বিরোধী দল ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ বাজেট পাসের পর সংসদের অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মূলতবি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের বিধান রেখে সাইবার নিরাপত্তা বিল পাস কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জিম্বাবুয়ের কাছে আড়াই দিনেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : মির্জা ফখরুল প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলায় আসামি দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম ২০২৫ সালে বাটার নগদ ২৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সংসদে আইন পাস আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা রূপগঞ্জ ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সংগীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ সংগীত সন্ধ্যা

চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করে তিনি।

এটি তার আমলে দ্বিতীয় বাজেট। ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। একইসাথে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন করা হয়।

বাজেট বক্তব্যে চসিক মেয়র নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, চসিকে অনুমোদিত জনবল ৪২২৬ জন। যা পর্যাপ্ত নয়। যেকারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করে চসিকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং নগর উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। অপরদিকে চসিকের প্রধান আয়ের উৎস গৃহকর। তাই বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কন্টেইনার টার্মিনাল ও অয়েল কোং লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট হাউজগুলোকে অবশ্যই রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, নগর দূষণ রোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গাছ। অনিয়ন্ত্রিত দখল, পাহাড় উজাড় ও বন ধ্বংসের কারণে সবুজ আচ্ছাদন কমে গেছে। তাই সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম শহরকে সবুজ-শ্যামল ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পাঁচ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে দশ লক্ষ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রযেছে। পরিবেশ দুষণের কারণে এখন কয়েকটি ঋতুর ছোঁয়া অনুভবও করা যাচ্ছে না। তাই কর্ণফুলিকে দূষণমুক্ত এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।

হকারদের কারণ নগরে যানজট হয়। এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সমস্যার সমাধানে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। 

কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল : চলমান নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা। দক্ষ জনবল গড়ার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান কাজের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন এবং অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমসহ চসিকের কার্যক্রমসমূহ ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ। বিএফআইডিসি রোডে চসিকের মালিকানাধীন ৮ একর জায়গা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ। এছাড়াও সম্ভাব্য ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। 

মেয়র জানান, নগরীর সড়ক অবকাঠামোর নকশাগত ধারণক্ষমতা যেখানে সর্বোচ্চ ১০ টন, সেখানে বন্দরের ভারী যানবাহন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে। একটি সড়কের গড় আয়ুষ্কাল যেখানে স্বাভাবিকভাবে তিন থেকে পাঁচ বছর থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব যানবাহনের কারণে সড়ক দ্রুত ভেঙে পড়ছে। 
এছাড়া, চট্টগ্রাম নগরীতে ছোটো-বড় মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও কম। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে চসিক কাজ করছে।

মেয়র জানান, দায়িত্ব নিয়ে তিনি চসিকের দেনা কমিয়েছেন। ২০২৪ সালের ০৩ নভেম্বর দায়িত্বগ্রহণের সময় চসিকের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা। এখন দেনা কমে হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনাধীন কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল, চসিকের আওতায় প্রাথমিক সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প। যার আনুমানিক ব্যয় ২২০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২১টি খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকা।  সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ২৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নিয়েছে চসিক।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প। ডেভেলপমেন্ট অফ স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ফর ডিফেরেন্ট এরিয়াস অফ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নামে ৪৫০ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এছাড়া চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহ আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নে ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিচ্ছে চসিক। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এছাড়া হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেল ক্রসিং-এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন আছে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্পও নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য সংগ্রহে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।

চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করে তিনি।

এটি তার আমলে দ্বিতীয় বাজেট। ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। একইসাথে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন করা হয়।

বাজেট বক্তব্যে চসিক মেয়র নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, চসিকে অনুমোদিত জনবল ৪২২৬ জন। যা পর্যাপ্ত নয়। যেকারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করে চসিকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং নগর উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। অপরদিকে চসিকের প্রধান আয়ের উৎস গৃহকর। তাই বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কন্টেইনার টার্মিনাল ও অয়েল কোং লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট হাউজগুলোকে অবশ্যই রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, নগর দূষণ রোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গাছ। অনিয়ন্ত্রিত দখল, পাহাড় উজাড় ও বন ধ্বংসের কারণে সবুজ আচ্ছাদন কমে গেছে। তাই সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম শহরকে সবুজ-শ্যামল ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পাঁচ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে দশ লক্ষ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রযেছে। পরিবেশ দুষণের কারণে এখন কয়েকটি ঋতুর ছোঁয়া অনুভবও করা যাচ্ছে না। তাই কর্ণফুলিকে দূষণমুক্ত এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।

হকারদের কারণ নগরে যানজট হয়। এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সমস্যার সমাধানে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। 

কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল : চলমান নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা। দক্ষ জনবল গড়ার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান কাজের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন এবং অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমসহ চসিকের কার্যক্রমসমূহ ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ। বিএফআইডিসি রোডে চসিকের মালিকানাধীন ৮ একর জায়গা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ। এছাড়াও সম্ভাব্য ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। 

মেয়র জানান, নগরীর সড়ক অবকাঠামোর নকশাগত ধারণক্ষমতা যেখানে সর্বোচ্চ ১০ টন, সেখানে বন্দরের ভারী যানবাহন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে। একটি সড়কের গড় আয়ুষ্কাল যেখানে স্বাভাবিকভাবে তিন থেকে পাঁচ বছর থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব যানবাহনের কারণে সড়ক দ্রুত ভেঙে পড়ছে। 
এছাড়া, চট্টগ্রাম নগরীতে ছোটো-বড় মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও কম। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে চসিক কাজ করছে।

মেয়র জানান, দায়িত্ব নিয়ে তিনি চসিকের দেনা কমিয়েছেন। ২০২৪ সালের ০৩ নভেম্বর দায়িত্বগ্রহণের সময় চসিকের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা। এখন দেনা কমে হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনাধীন কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল, চসিকের আওতায় প্রাথমিক সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প। যার আনুমানিক ব্যয় ২২০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২১টি খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকা।  সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ২৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নিয়েছে চসিক।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প। ডেভেলপমেন্ট অফ স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ফর ডিফেরেন্ট এরিয়াস অফ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নামে ৪৫০ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এছাড়া চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহ আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নে ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিচ্ছে চসিক। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এছাড়া হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেল ক্রসিং-এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন আছে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্পও নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য সংগ্রহে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।

বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। এই দিন দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজারেও বন্ধ থাকবে লেনদেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরের ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিন ‘ব্যাংক হলিডে’। প্রথা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর এই দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়।

অর্থবছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই) এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। তবে এদিন শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।

অর্থাৎ, নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। এই দিন ব্যাংক খোলা থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের লেনদেন সম্পন্ন হয় না।

নীতি অনুযায়ী ব্যাংক হলিডেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। তবে এ সময়ে কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা।

এদিকে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার পর ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়। কাজেই ব্যাংক বন্ধ থাকলে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না। তবে বুধবার ((১ জুলাই) পুঁজিবাজারে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে।

অন্তরা/

স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে। স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্তরা/

ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা
ছবি: খবরের কাগজ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন, সমালোচনাও করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন হতে পারে। এসব সংশোধনের পর আজ সোমবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের অর্থবিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এই বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। নতুন আরোপিত কর নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের নেতিবাচক সমালোচনা করেছে। 
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমালোচনা এড়াতে এনবিআরকে প্রস্তাবিত বাজেটের জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব কি না, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, আবাসন খাতে নিবন্ধনের খরচ কমানো, সঞ্চয়পত্রের ওপর আরোপিত কর, শিল্পের অনেক খাতে উৎসে করে ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখতে বলেন। 
 
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর খবরের কাগজকে বলেন, সরকার জনকল্যাণে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছে। এই বাজেটের কোনো ধারায় বা কোনো পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাতে সংশোধনী আনা হবে। তবে দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। 
 
চলতি অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।
 
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এনবিআর আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা ধার্য করতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে জানা গেছে। 
 
প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে আয়কর আইনের প্রথম তফসিলে সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধন করে ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ নামে নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।
 
প্রস্তাবিত অর্থবিল ব্যাখ্যা করে বলা যায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ মূলধনি কর দেওয়ার ধারা আনা হয়েছে। 
 
এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ‘স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। তা ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।’
 
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমালোচনা এড়াতে চূড়ান্ত অর্থবিলে এই ধারা বাতিল করার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই বলে এনবিআর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (ইটিআইএন) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করে বিভিন্ন ব্যাংক। এখন এনবিআর এই ধারা বাতিলের পক্ষেও মত দিয়েছে। 
 
প্রস্তাবিত অর্থবিলে ৫০ লাখ টাকার নিচে বার্ষিক বিক্রি বা টার্নওভার আছে এমন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণের ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভ্যাট কেটে নেওয়ার কথা অর্থবিলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে আশঙ্কা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়ে এনবিআরকে নতুনভাবে ভাবতে নির্দেশ দেন। এনবিআর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই ধারা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে। 
 
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জনতুষ্টির দায় আছে। ভোটের জন্য আবারও জনগণের কাছে যেতে হবে। তাই জনগণ যেসব পদক্ষেপের সমালোচনা করবে তা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। 

বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে থাকার পর গতকাল রবিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেক্সিমকো। ক্রেতা ফেরায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। সেই সঙ্গে সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস উভয় বাজারে মূল্যসূচক বাড়ল।

এর আগে টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ার। গতকাল লেনদেনের শুরুতে বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতাসংকট দেখা দেয়। এতে টানা ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে যায়। তবে গতকাল ক্রেতা ফেরায় দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা থেকে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছে বেক্সিমকো।

বেক্সিমকোর এমন ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৩৩টির এবং ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭০টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৩টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। ৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালট্যান্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬ টাকা ৫ পয়সা বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ফিড মিল, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুং হাই নিটিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেড ও রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২০৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬১টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।