চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি শপথ নিতে পারবেন না তিনি। তবে তিনি জানিয়েছেন আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবেন। জনগণকে পাশে নিয়ে এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবেন। ফাইনালি তিনিই জিতবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রায়কে ঘিরে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিকস্থানে গাছ কেটে ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ ও আসলাম চৌধুরীর নেতাকর্মী- অনুসারীরা।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আদালতের দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের কুমিরা, সলিমপুর ও ভাটিয়ারী এলাকায় সড়ক গাছ ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নেতা কর্মিরা। তবে বিক্ষিপ্ত-বিছিন্নভাবে করা ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাতে উপজেলা কমিটির দলীয় সিদ্ধান্তের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে গোলাবাড়িয়া এলাকার আসলাম চৌধুরীর অনুসারী সমর্থক মোহাম্মদ ইছহাক খান বলেন, মহাম্যান্য হাইকোর্টে ৩’শর অধিক নেতা কর্মি উপস্থিত ছিলো। রায়ে তারা হতাশ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণের আশা আঙ্খার প্রতিফল যেখানে হয় না সেখানে আমরা যারা রাজনীতি করি জনগণের মন খারাপ তো একটু থাকবেই। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তো কিছু বলা যায় না। আমরা আশা করছিলাম জনগণের রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতিরা প্রতিফলন করবেন। যেহেতু আমরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সব জায়গায় বৈধ ছিলাম। অবৈধ ছিলাম না। আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবো। জনগণকে পাশে নিয়ে আমার এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবো। ফাইনালি আমরাই জিতবো। রায়কে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীরা নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিলো, আমি তাদের সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপি নেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগে আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন এখনো চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেনি।
১৫ জুন সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত নিযুক্ত দুই অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী আদালতকে সহায়তা করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা.কমল কদর বলেন, ওনি ঋণখেলাপি নন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার তাকে ঋণখেলাপি করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কমিটি বৈঠক করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি। আসলাম চৌধুরী ছাড়া বিকল্প কোন প্রার্থী মেনে নেবেন না বলে দাবি করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আসলাম চৌধুরীর রায়ের বিষয়টি জানা ছিল না। তবে আমরা সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার কোন সুযোগ নেই।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড ও কুমিরা এলাকায় বিএনপি নেতা কর্মীরা ব্যারিকেড দিয়েছে। তবে কুমিরায় দেওয়া ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হলেও বাড়বকুণ্ডে বিকেল পর্যন্ত ছিলো।
মুসলেহ উদ্দীন/এসএন