শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট (বামপন্থী বামপন্থী, প্রগতিশীল কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের একটি সমন্বিত মোর্চা)।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অংশ বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘কোনো কিছুই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে নয়। শিক্ষা সম্পর্কে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না বলে সরকার বদলালেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ে না।’
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা বলেন, ‘সমতল এবং পাহাড়ের সংখ্যালুঘু শিক্ষার্থীরা বরাবরই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বৈষম্যটা আরো বেশি। দুর্গম অঞ্চলের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা আরও প্রাথমিক স্তরেই ঝড়ে যায়। পাহাড় সমতলে সংখ্যালুঘুদের শিক্ষার বৈষম্য, দমনপীড়ন জারি রেখে বাংলাদেশ কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাখাতে ২৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা উচিত । এশিয়ার অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না। এ জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’
এসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন