ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পূর্বাচলে ৪টি থানা ও ৬টি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত আখাউড়া পৌরসভার বাজেট ঘোষণা সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান মিশরের বিপক্ষে ‘বাঁচো নয়তো মরো’ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় হিলি ইমিগ্রেশনে বাড়ছে যাত্রী পারাপার চকরিয়ায় ৩ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বালুদস্যু নাজিম কারাগারে ইউসিবিতে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নকআউটের আগে মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ঋণ পরিশোধ ২৫১৬ কোটি ছাদের সুরক্ষায় বাজারে এলো রেইনবো রুফ কোট এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই সময় অপচয় রোধে ফিফার নতুন নিয়ম দারুণ সফল: কোলিনা দুপুরের মধ্যে ১৫ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা সাতকানিয়ায় মাথায় গোলপোস্ট পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মেহেরপুরে শিক্ষকের বাড়ি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার নতুন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে ‘এখন এআই দিয়ে যা হচ্ছে, হ্যারল্ড রশীদ তা আগেই করে ফেলেছেন’ পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দম্পতির মৃত্যু বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা
ছবি: সংগৃহীত

নকআউট পর্বের শুরু থেকেই লড়াই দারুণভাবে জমে উঠেছে। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতলেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডসের। দুটি দলই মঙ্গলবার শেষ বত্রিশ রাউন্ডের ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে। রোমাঞ্চকর ও নাটকীয়তায় ভরপুর এমন মঞ্চে মাঠে নামছে এবারের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের সমীহ জাগানো দল বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। সান ফ্রান্সিসকোর সান্ত ক্লারার লেভাইস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৬টায়।

‘বি’ গ্রুপ থেকে তৃতীয় সেরা দলের একটি হয়ে নকআউটে এসেছে বসনিয়া। স্বাগতিক কানাডার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মিশন শুরুর পর সুইজারল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ৪-১ গোলে। শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকিট কেটেছে নকআউটের। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপের সেরা হয়ে নকআউটে এসেছে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে সহজে হারালেও অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ ম্যাচে ছিটকে পড়া তুরস্কের কাছে হার মানে ৩-২ গোলে। যে কারণে বসনিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেশ সতর্ক মার্কিন শিবির।

নকআউট পর্বের এই ম্যাচটি এক ভিন্ন রঙের লড়াই। একদিকে স্বাগতিকরা নিজেদের মাটিতে ইতিহাস লেখার স্বপ্নে বিভোর। অন্যদিকে বসনিয়া অদম্য সাহস, ইস্পাতকঠিন মানসিকতা আর চমক দেখানোর প্রবল ইচ্ছা নিয়ে হাজির। এই ম্যাচে শুধু একটি জয় নয়, বাজি রাখা আছে গর্ব, আবেগ এবং স্বপ্নের ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তাদের গতি, প্রেসিং এবং আক্রমণে বৈচিত্র্য। কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে দলটি অনেক বেশি সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী। ফোলারিন বালোগুন, জিও রেইনা, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ-এই ত্রয়ী মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে পুলিসিচের সৃজনশীলতা ও বালোগুনের ফিনিশিং আমেরিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

অন্যদিকে বসনিয়া যেন নিঃশব্দ এক ঝড়। খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও দলটি খুব গোছালো। তাদের ফুটবল হয়তো চোখ ধাঁধানো নয়, কিন্তু কার্যকর। কম সুযোগ তৈরি করেও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জানে তারা। বসনিয়ার সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে এডিন জেকো। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকারের এটি শেষ বিশ্বকাপ। বয়স হয়তো বেড়েছে, কিন্তু বড় ম্যাচে গোলের ক্ষুধা এখনো অটুট। বসনিয়ার স্বপ্ন একটাই– আমেরিকার গতি থামিয়ে ম্যাচটিকে ধৈর্যের লড়াইয়ে নিয়ে যাওয়া। স্বাগতিক হওয়া যেমন আশীর্বাদ, তেমনি কখনো কখনো চাপেরও নাম। গ্যালারিভর্তি সমর্থক, কোটি মানুষের প্রত্যাশা-সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচে তারা ফেবারিট, কিন্তু নকআউটে ফেবারিট তকমার মূল্য খুব কম। একটি ভুল, একটি মুহূর্তের মনোযোগহীনতা সব স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।

একদিকে আমেরিকার গর্জন, অন্যদিকে বসনিয়ার নীরব ঝড়, একদিকে গ্যালারির গর্জন, অন্যদিকে আন্ডারডগের সাহস। একদিকে স্বপ্নের ভার, অন্যদিকে হারানোর কিছু না থাকার স্বাধীনতা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি আবেগের এক বিস্ফোরণ। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কোন দল ইতিহাস গড়ে বাজিমাত করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, বসনিয়াকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই। পচেত্তিনো বলেন, ‘নকআউট ম্যাচে ফেবারিট বলে কিছু থাকে না। ৯০ মিনিটে একটি ভুল পুরো টুর্নামেন্ট শেষ করে দিতে পারে।’ তিনি বিশেষভাবে বসনিয়ার জমাট রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সেট-পিসে বসনিয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। 

মার্কিন অধিনায়ক টিম রিম বলেন, ‘বসনিয়াকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটা বিশ্বকাপের নকআউট। এখানে প্রতিটি দলই নিজেদের প্রমাণ করে এসেছে।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বসনিয়া খুব সংগঠিত দল। তারা দ্রুত ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। আমাদের শুরু থেকেই মনোযোগী থাকতে হবে।’

অন্যদিকে বসনিয়ার কোচ সার্জেই বারবারেজ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল ভয় পেয়ে খেলবে না। সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার বারবারেজ বলেন, ‘আমরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি। লড়াই করতে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্র ভালো দল, তাদের গতি ও আক্রমণভাগ শক্তিশালী। কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। আমরা নিজেদের ফুটবল খেলব।’
 
বসনিয়ার অভিজ্ঞ ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক এডিন জেকো বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচই খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে স্মরণীয় হয়ে থাকে। আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্র ফেবারিট। কিন্তু ফুটবল কাগজে-কলমে খেলা হয় না। মাঠেই সব প্রমাণ করতে হয়।’

মুখোমুখি পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ: ৩
যুক্তরাষ্ট্র জয়: ২
ড্র: ১
বসনিয়া জয়: ০
যুক্তরাষ্ট্রের গোল: ৫
বসনিয়ার গোল: ৩

** বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ।

মিশরের বিপক্ষে ‘বাঁচো নয়তো মরো’ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মিশরের বিপক্ষে ‘বাঁচো নয়তো মরো’ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত সকারুসরা। প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানালেও মাঠে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বোস।

বোস বলেন, ‘এটি বাঁচো নয়তো মরো ধরনের ম্যাচ। সালাহ বিশ্বমানের ফুটবলার। তাকে থামানোর জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি এবং কোচের নির্দেশনায় সেই পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।’

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের নৈপুণ্য দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে দলটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি সকারুসরা।

তরুণ ডিফেন্ডারদের দৃঢ় পারফরম্যান্সে ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষের একাধিক তারকা ফুটবলারকে নিষ্ক্রিয় রাখতে সক্ষম হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এবার তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মিশরের দুই আক্রমণভাগের তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশকে সামলানো।

অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হ্রুস্তিকের বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, রক্ষণে দৃঢ় থাকা এবং আক্রমণে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগানো। মিশর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে, যা আমাদের জন্য পাল্টা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।’

রক্ষণভাগ টানা দুই ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখলেও আক্রমণভাগে এখনও প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে জর্ডান বোসের বিশ্বাস, গোল পাওয়াটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দল বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই বেস ক্যাম্প ছেড়ে ডালাসে পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১২টায়  ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।

পাপ্পু/অন্তরা/

নকআউটের আগে মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম
নকআউটের আগে মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে সেনেগাল। হাঁটুর চোটের কারণে দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

সেনেগালের কোচ পাপে তিয়াও নিশ্চিত করেছেন, গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে চোট পাওয়া মেন্ডি টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো মাঠের বাইরে থাকছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সৌদি আরবে নিজের ক্লাব আল-আহলিতে গিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার রাতে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আশা করছেন তিয়াও।

কোচ বলেন, ‘খেলার মতো ফিট না হলেও আগামীকাল সে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে থাকবে। তাকে কাছে পেয়ে আমরা আনন্দিত। আশা করছি, টুর্নামেন্টের বাকি সময় সে দলের সঙ্গেই থাকবে।’

২০১৯ সালে অভিষেকের পর সেনেগালের হয়ে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী মেন্ডি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দলের চারটি ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন।

মেন্ডির অনুপস্থিতিতে আবারও গোলবারের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা মোঁরি দিয়াওয়ের। ফরাসি ক্লাব ল্য হাভরের এই গোলরক্ষক নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে এবং ইরাকের বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৫-০ গোলের জয়ে তিনি কোনো গোল হজম করেননি।

দিয়াওয়ের প্রশংসা করে তিয়াও বলেন, ‘মোঁরি অসাধারণ খেলেছে এবং ক্লিন শিট রেখেছে। আগামী ম্যাচেও গোলরক্ষকের কাছ থেকে একই ধরনের পারফরম্যান্স আশা করছি।’

সেনেগালের দলে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে আছেন ফরাসি ক্লাব নিসের ইয়াভান দিউফ।

নতুন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
নতুন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে
পিয়েরো হিনক্যাপিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইকুয়েডর। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফিফার নতুন নিয়মের আওতায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনক্যাপিয়ে।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল হিমেনেসের করা দুটি গোলে এগিয়ে যায় সহ-আয়োজক মেক্সিকো। সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা শেষ ১৬-এ জায়গা করে নেয়।

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে, ইকুয়েডরের বিদায় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো হিমেনেসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হিনক্যাপিয়ে। এ সময় নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। বিষয়টি নজরে আসার পর রেফারি নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

ফিফার সাম্প্রতিক এই নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তবে সেটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। তবে, নিজের ক্লাবের সতীর্থ বা পরিচিত কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপের সময় মুখ ঢাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতি বেনফিকার গিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানির কথিত আপত্তিকর মন্তব্য গোপন করার চেষ্টা নিয়ে বিতর্কের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ ধরনের আচরণ রোধে কঠোর অবস্থান নেন। এরপরই নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা হয়।

চলতি বিশ্বকাপে এই নিয়মে লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিনক্যাপিয়ে। এর আগে ‘ডি’ গ্রুপের এক ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে একই কারণে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকেও মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।

পাপ্পু/অন্তরা/

ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল স্বাগতিক মেক্সিকো। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকালে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। 

জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ইকুয়েডর এদিন নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় লাতিন আমেরিকার দলটি।

সকাল ৭টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে খেলা প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে বিরতি সত্ত্বেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থনে চাঙা দলটি প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

ম্যাচের আগের রাতে ইকুয়েডর দলের হোটেলের সামনে জড়ো হয়ে ড্রাম বাজানো ও আতশবাজি ফাটিয়ে ফুটবলারদের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন মেক্সিকোর সমর্থকেরা। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল ইকুয়েডর শিবির। তবে মাঠের খেলায় সেই ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর সুযোগ পায়নি তারা।

প্রথম ২০ মিনিটেই অন্তত তিনটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল মেক্সিকো। ১৭ বছর বয়সি গিলবার্তো মোরা দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। 

আরেকবার রাউল জিমেনেসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে মেক্সিকোর ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ২২তম মিনিটে। রবার্তো আলভারাদোর পাস পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান জুলিয়ান কিনোনেস। বক্সের কাছে এসে ডান দিকে কাট করে নেওয়ার পর তার জোরালো শট ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা এবং ম্যাচের ভিত গড়ে ফেলে।

এর ৯ মিনিট পরে দ্বিতীয় গোল করে মেক্সিকো। ইকুয়েডরের বক্সের কাছে নিজেদের মধ্যে পাস খেলে নেন জিমেনেজ এবং কিনোনেস। বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন জিমেনেজ।

১৯৮৬ সালের পর প্রথম বার নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ জিতল মেক্সিকো।

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ, ব্যয়বহুল যাতায়াত, বিশাল আয়োজনে লজিস্টিকসের চ্যালেঞ্জ এবং শহরভেদে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার গল্পও। স্টেডিয়াম থেকে স্টেডিয়ামে ঘুরে বিশ্বকাপ কভার করতে গিয়ে মাঠের বাইরের সেই বাস্তব চিত্রই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অভিজ্ঞতায় প্রথমত, সবকিছু কিলোমিটারের পরিবর্তে মাইলে মাপা হয়, এবং প্রতিটি স্টেডিয়াম গুগল ম্যাপসের দেখানো দূরত্বের চেয়ে কিছুটা বেশি দূরে বলে মনে হয়। টুর্নামেন্টটি দ্রুতই ভূগোল, লজিস্টিকস এবং ‘কাছাকাছি’র যুক্তরাষ্ট্রের সংজ্ঞার একটি পাঠে পরিণত হয়েছে।

তবে সমর্থকদের চেয়ে সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সহজ। ফিফা নির্দিষ্ট হোটেলগুলো থেকে মিডিয়ার জন্য বিশেষ শাটল বাস চালায়। যতক্ষণ আপনি সময়মতো সেখানে পৌঁছাতে পারবেন- যদিও খুব কম লোকেরই সেখানে থাকার সামর্থ্য আছে, বিশেষ করে এমন দেশগুলোর সাংবাদিকদের, যেখানে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে- ততক্ষণ আপনি বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

তবে ভক্তরা ততটা ভাগ্যবান নন। যারা নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সিতে যাতায়াত করেন, তারা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ম্যাচের দিনগুলোতে নিউজার্সি ট্রানজিটের যাওয়া-আসার পাসের দাম প্রায় ৯৮ মার্কিন ডলার, যেখানে সাধারণ দিনে একই যাত্রায় ২০ ডলারের কিছু বেশি খরচ হয়।

জিলেট স্টেডিয়াম বা লেভিস স্টেডিয়ামের মতো নয়, টুর্নামেন্ট চলাকালে যে কয়েকটি ভেন্যুকে তাদের আসল নাম ধরে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, মেটলাইফ স্টেডিয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি একটি বিশাল বাটির মতো স্টেডিয়াম, যেখানে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। সৌভাগ্যবশত, পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ এবং ফিফার উচ্চ টিকিটমূল্য সত্ত্বেও আসনগুলো পূর্ণ ছিল।

অন্যদিকে, আটলান্টা একটি মনোরম বিস্ময় হয়ে উঠেছে। স্টেডিয়ামটি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে অবস্থিত। এর আগে অলিম্পিক আয়োজন করার অভিজ্ঞতা থাকায়, শহরটি এ ধরনের বড় আয়োজনের ব্যাপারে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বলেই মনে হয়। ওয়ার্ল্ড অব কোকাকোলা এবং জর্জিয়া অ্যাকোয়ারিয়াম সেইসব ভক্তদের জন্য আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা করে, যারা অনেকের জন্য জীবনে একবারের এই যাত্রায় এসেছেন।

এখানে গণমাধ্যমকর্মীরাও বেশ আরাম-আয়েশে আছেন। এখানকার চমৎকার বুফে লাঞ্চ দেশের ক্রিকেট সাংবাদিকদের জন্য সাধারণ ব্যাপার হলেও, ফুটবল সংবাদদাতাদের জন্য তা প্রায় কিংবদন্তিতুল্য। দ্বিতীয়বার খাবার নেওয়ার পর আমাদের বেশিরভাগই ‘পেশাগত কারণে’ আটলান্টায় থাকার মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভেবেছিলাম।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর একটি অভ্যাস আছে, যা ভ্রমণকারী ভক্ত এবং সাংবাদিকদের বারবার অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। নিউইয়র্ক ছাড়া বাকি শহরগুলো আশ্চর্যজনকভাবে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যেই বেশিরভাগ শহরের কেন্দ্রস্থল জনশূন্য হয়ে যায়, এবং উদযাপন বা শোক প্রকাশের জন্য কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফিলাডেলফিয়ায় সন্ধ্যা সাতটার একটি ম্যাচের পর আমরা রাতের খাবারের খোঁজে শহরজুড়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে লাগলাম। অবশেষে, আমরা একটি টাকোর দোকান খুঁজে পেলাম, যেটি বীরত্বের সঙ্গে যেন কারফিউ উপেক্ষা করেছিল।

নিউইয়র্কে ফেরার বাসটি মধ্যরাতের অনেক পরে পৌঁছায়। ফলে ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচের পর আমাদের শত শত জনকে একটি বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হয়।

আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে ডালাস সম্ভবত সবচেয়ে ভালো কাজ করেছে। ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচ থাকায়, শহরটির আয়োজক কমিটি সমর্থক ও ক্লান্ত সংবাদকর্মী- উভয়কেই স্বাগত জানাতে আন্তরিক প্রচেষ্টা করেছে। এর মিডিয়া সেন্টারটি প্রথম শ্রেণির, যা সাংবাদিকদের ম্যাচের দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোতে আর্লিংটনে প্রতিদিন যাতায়াতের কষ্ট থেকে মুক্তি দেয় এবং আমাদের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের আরামের ব্যবস্থা করে।

তবে আগত সমর্থকদের টার্গেট ও ওয়ালমার্টে তীর্থযাত্রার মতো করে যাওয়ার উত্তেজনা দেখে ট্যাক্সিচালকেরা পুরোপুরি হতবাক।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/