আর্জেন্টিনা যেখানে যায়, সেখানেই যেন নীল-সাদা রঙের উৎসব। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেই দৃশ্য আরও একবার ফুটে উঠেছে মায়ামিতে। ম্যাচের টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, আরও বেশি আর্জেন্টাইন সমর্থককে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আগামী শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে। ম্যাচকে ঘিরে টিকিটের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আর্জেন্টাইন সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেছেন শুধুমাত্র দলকে সমর্থন জানাতে। তাই এএফএ গ্যালারিতে তাদের শক্তি বাড়াতে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি জানান, যত বেশি সম্ভব সমর্থককে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে, ‘যত বেশি সম্ভব মানুষ যেন মাঠে উপস্থিত থাকতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। এমন দর্শকসমাগম হবে, তা কেউই আশা করেনি। আমরা জানতে চাইছি, এখনও কী পরিমাণ টিকিট অবশিষ্ট আছে, যাতে মানুষ সেগুলো কিনে মাঠে প্রবেশ করতে পারে।’
তাপিয়া জানান, আগেভাগে বিক্রি হওয়া কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবহার না হওয়া টিকিটও আবার বিক্রির জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আরও বেশি সমর্থক ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্যও তুলে ধরেছেন এএফএ সভাপতি। তার ভাষ্য, টিকিট না থাকলেও প্রায় ৫০ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক ইতোমধ্যেই মায়ামিতে পৌঁছে গেছেন, শুধু জাতীয় দলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
‘আমরা ফিফার সঙ্গে কথা বলেছি। যারা আগেভাগে টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু ব্যবহার করবেন না, তাদের টিকিট সম্ভবত আবার বিক্রির জন্য ছাড়া হবে, যাতে আরও বেশি মানুষ মাঠে আসতে পারেন। টিকিট ছাড়াই ৫০ হাজার মানুষ ভ্রমণ করেছেন… জাতীয় দল এমনই সমর্থন তৈরি করে। তাই যতটা সম্ভব মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে, যদিও সবাই মাঠে ঢুকতে পারবেন না।’
সমর্থকদের উন্মাদনার পাশাপাশি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন তাপিয়া। তার মতে, দলটি শুধু শেষ ১৬-এ ওঠার জন্য নয়, শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে, ‘আমাদের লক্ষ্য ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে খেলা এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করা। এই দল সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা জানি, এটি খুব কঠিন এবং ভিন্ন ধরনের একটি বিশ্বকাপ। আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আমাদের ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে।’
অনিক/