ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান মিশরের বিপক্ষে ‘বাঁচো নয়তো মরো’ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া চকরিয়ায় ৩ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বালুদস্যু নাজিম কারাগারে ইউসিবিতে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নকআউটের আগে মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ঋণ পরিশোধ ২৫১৬ কোটি ছাদের সুরক্ষায় বাজারে এলো রেইনবো রুফ কোট এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই সময় অপচয় রোধে ফিফার নতুন নিয়ম দারুণ সফল: কোলিনা দুপুরের মধ্যে ১৫ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা সাতকানিয়ায় মাথায় গোলপোস্ট পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মেহেরপুরে শিক্ষকের বাড়ি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার নতুন নিয়মে লাল কার্ড দেখলেন ইকুয়েডরের হিনক্যাপিয়ে ‘এখন এআই দিয়ে যা হচ্ছে, হ্যারল্ড রশীদ তা আগেই করে ফেলেছেন’ পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দম্পতির মৃত্যু বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর

চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে দুই দফা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের দুই নেতাও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত ১১টায় ছাত্রদলের উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল বনাম জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়। এ সময় ছাত্রদলের ভলান্টিয়াররা আয়োজকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

খেলার হাফটাইমে মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ দিশান ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াফির সঙ্গে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দিশানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। তবে এ সময় দিশান ও ইয়াফি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১২টার দিকে  জিরো পয়েন্ট এলাকায় দিশান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পলাশ মোল্লাসহ কয়েকজন মামুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে আশ্রয় নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সামনেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে আলাওল হলে নিয়ে যান ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্যসচিব উলফাতুর রহমান রাকিব।

ছাত্রদলের অভিযোগ, মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পলাশ মোল্লা ছাত্রশক্তির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রাকিব তাকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন এবং তিনিও ঘটনায় জড়িত।

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাকিবকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও সহকারী প্রক্টরও আহত হন।

ঘটনা সম্পর্কে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন বলেন, ’গতদিন দিশান ও ইয়াফি খেলা দেখার স্থানে সিগারেট খাচ্ছিল। আমি তাদের বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আজ আমি কয়েকজনকে নিয়ে খেলা দেখতে যাচ্ছিলাম। এ সময় দিশান, পলাশ মোল্লা, আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রেজাউরসহ আরও কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে। পরে আমরা একত্রিত হলে ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দিশান ও পলাশ মোল্লাকে মোটরসাইকেলে করে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের নামিয়ে দিয়ে ফিরে আসলে সেখানে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে দিশানের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মারধরের শিকার ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্যসচিব উলফাতুর রহমান রাকিব বলেন, ’আমি তখন ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পরে আমার বন্ধু পলাশ মোল্লা ফোন দিয়ে জানায় তাকে শাহজালাল হল থেকে মেডিকেলে নিয়ে যেতে। আমি মোটরসাইকেলে করে তাদের মেডিকেলে পৌঁছে দিই। এরপর ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডাকে। সেখানে গেলে আমাকে মারধর করা হয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পলাশ মোল্লা বলেন, ’ওই রাতে খেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের জুনিয়র দিশানকে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী মারধর করেছিলেন। পূর্বের সেই ঘটনার জের ধরে আজ রাতে জিরো পয়েন্টে দিশানের সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বলেন, ’জিরো পয়েন্টে আমাদের এক জুনিয়র মামুনের ওপর হামলা করা হয়। আমরা উপস্থিত হতে না হতেই দেখতে পাই ছাত্রশক্তি নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দুইজনকে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে চলে যায়। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।’

ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, ’আমাদের কর্মী মামুনের ওপর হামলার পর কারও মাথা ঠিক ছিল না। এজন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমাদের কোনো সদস্য যদি অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ’গতকালের খেলা এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতভেদের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। দুই পক্ষকে থামাতে গিয়ে আমি মাঝখানে ছিলাম। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। আমরা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আগামীকাল দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। আর সাংবাদিকদের যে হেনস্থা করা হয়েছে, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। আশা করি ছাত্রদলও এ বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে।’

আল আরাফ/খাদিজা রুমি/ 

এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম
এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই
ফাইল ফটো

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো দেশের সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের দাবি, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। 

তবে শিক্ষাবিদদের মতে, সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৪৭২ জন বেশি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা।

সারা দেশে মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম, শৌচাগার তল্লাশিসহ মোট ৩৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে যদি কোনোভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশের ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের ঘটনা ধরা পড়লে শুধু পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূচি অনুযায়ী, এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে।

অন্তরা/

চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
চবিতে খেলা দেখা নিয়ে মারামারি: প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ আহত
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে দুই দফা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের দুই নেতাও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত ১১টায় ছাত্রদলের উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল বনাম জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়। এ সময় ছাত্রদলের ভলান্টিয়াররা আয়োজকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

খেলার হাফটাইমে মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ দিশান ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াফির সঙ্গে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দিশানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। তবে এ সময় দিশান ও ইয়াফি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১২টার দিকে  জিরো পয়েন্ট এলাকায় দিশান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পলাশ মোল্লাসহ কয়েকজন মামুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে আশ্রয় নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সামনেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে আলাওল হলে নিয়ে যান ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্যসচিব উলফাতুর রহমান রাকিব।

ছাত্রদলের অভিযোগ, মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পলাশ মোল্লা ছাত্রশক্তির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রাকিব তাকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন এবং তিনিও ঘটনায় জড়িত।

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাকিবকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও সহকারী প্রক্টরও আহত হন।

ঘটনা সম্পর্কে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন বলেন, ’গতদিন দিশান ও ইয়াফি খেলা দেখার স্থানে সিগারেট খাচ্ছিল। আমি তাদের বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আজ আমি কয়েকজনকে নিয়ে খেলা দেখতে যাচ্ছিলাম। এ সময় দিশান, পলাশ মোল্লা, আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রেজাউরসহ আরও কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে। পরে আমরা একত্রিত হলে ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দিশান ও পলাশ মোল্লাকে মোটরসাইকেলে করে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের নামিয়ে দিয়ে ফিরে আসলে সেখানে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে দিশানের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মারধরের শিকার ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্যসচিব উলফাতুর রহমান রাকিব বলেন, ’আমি তখন ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পরে আমার বন্ধু পলাশ মোল্লা ফোন দিয়ে জানায় তাকে শাহজালাল হল থেকে মেডিকেলে নিয়ে যেতে। আমি মোটরসাইকেলে করে তাদের মেডিকেলে পৌঁছে দিই। এরপর ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডাকে। সেখানে গেলে আমাকে মারধর করা হয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পলাশ মোল্লা বলেন, ’ওই রাতে খেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের জুনিয়র দিশানকে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী মারধর করেছিলেন। পূর্বের সেই ঘটনার জের ধরে আজ রাতে জিরো পয়েন্টে দিশানের সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বলেন, ’জিরো পয়েন্টে আমাদের এক জুনিয়র মামুনের ওপর হামলা করা হয়। আমরা উপস্থিত হতে না হতেই দেখতে পাই ছাত্রশক্তি নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দুইজনকে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে চলে যায়। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।’

ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, ’আমাদের কর্মী মামুনের ওপর হামলার পর কারও মাথা ঠিক ছিল না। এজন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমাদের কোনো সদস্য যদি অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ’গতকালের খেলা এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতভেদের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। দুই পক্ষকে থামাতে গিয়ে আমি মাঝখানে ছিলাম। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। আমরা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আগামীকাল দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। আর সাংবাদিকদের যে হেনস্থা করা হয়েছে, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। আশা করি ছাত্রদলও এ বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে।’

আল আরাফ/খাদিজা রুমি/ 

১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর অতিক্রম করে ১০৬ বছরে পদার্পণ করছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে জ্ঞানচর্চার এই বিদ্যাপীঠ শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান এবং জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান বাতিঘর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

বাংলার ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমেই সংযুক্ত হয়েছে। ভাষার অধিকারের প্রশ্নে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন; প্রতিটি পর্বেই এই ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের ভাষা, সাহসের ঠিকানা। ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শুধু দর্শক হয়ে থাকেননি; বরং সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, উৎসর্গ করেছেন জীবন, লিখেছেন জাতির নতুন অধ্যায়।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই জ্ঞানচর্চায় খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জন্ম, বিকাশ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ খুব বেশি নেই। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও বিবর্তনের জীবন্ত দলিল।

এই প্রতিষ্ঠানের জন্মও ঘটে দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের দাবির প্রেক্ষাপটে ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ পূর্ববঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ঢাকার উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার এবং উচ্চশ্রেণির মুসলমানদের মিলিত উদ্যোগে এগিয়ে যায় সেই স্বপ্ন। জগন্নাথ হলের জন্য জমি ও অর্থ দান করেন বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল। কার্জন হলের জন্য ভাওয়াল রাজকুমাররা জমি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন মুসলিম নেতারাও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯১২ সালে ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির প্রতিবেদন এবং একই বছরের স্যাডলার কমিশনের ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় পাস হয় ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯২০।’ এরপর ১৯২১ সালের ১ জুলাই রমনার সবুজ প্রান্তরে প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজকের সেই দিনটিই উদযাপিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে।

এবারের ১০৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ প্রতিপাদ্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠান বরাবর সমাজ, রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রঙিন হবে পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। টিএসসি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করবেন জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে দেবে আন্তর্জাতিকতার ভিন্ন মাত্রা।

এরপর টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। একই দিনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগেও আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নেবেন।

দিবসটি ঘিরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কেবল তার র‌্যাঙ্কিং, গবেষণা কিংবা অবকাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কতটা সমাজকে বদলে দিতে পেরেছে, মানুষের মুক্তচিন্তাকে কতটা বিকশিত করেছে এবং সংকটের মুহূর্তে কতটা সাহসের সঙ্গে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তার প্রকৃত মহিমা। সেই বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।

তাই ১০৬ বছরে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুই অতীতের গৌরবের স্মৃতিস্তম্ভ নয়। এটি আগামী দিনেরও প্রেরণা, যেখানে জ্ঞানের আলো, মুক্তচিন্তার সাহস এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে এবং অতীতের মতো আগামী দিনেও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম আশ্রয় হয়ে থাকবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিদ্যায়তনটি। শুভ জন্মদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এআই-ভিত্তিক ডায়নামিক প্রেসক্রিপশন প্ল্যাটফর্ম ‘বায়োনাইট’ (Bionyte)। ভেটেরিনারিয়ান ও ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এ প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রথম এআই-ভিত্তিক ডায়নামিক ভেটেরিনারি প্রেসক্রিপশন সিস্টেম হিসেবে দাবি করছেন এর নির্মাতারা।

মানুষের চিকিৎসার তুলনায় পশু চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল কিংবা পোলট্রিসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য আলাদা ডোজ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। এর ওজন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে ওষুধের মাত্রা। এই জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে বায়োনাইট।

ক্লাসরুম থেকে শুরু

বায়োনাইটের প্রতিষ্ঠাতা আনিসুর রহমান খান বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের লেভেল-৫, সেমিস্টার-১-এর শিক্ষার্থী।তিনি জানান, ফার্ম অ্যানিম্যাল মেডিসিন কোর্স করার সময় একই ওষুধের ডোজ প্রাণীর ওজন অনুযায়ী বারবার হিসাব করতে হতো। এতে সময় যেমন বেশি লাগত, তেমনি ভুল হওয়ার আশঙ্কাও থাকত।

 তিনি বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই ভাবতে শুরু করি, কীভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে এই কাজ আরও দ্রুত ও সহজ করা যায়।
সেই ভাবনা থেকেই আনিসুর রহমান খান ভেটেরিনারি চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বায়োনাইট।

দেড় বছরের গবেষণা ও উন্নয়ন

২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োনাইটের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে প্রায় দেড় বছর ধরে চলে গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ। প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সফটওয়্যার নির্মাণের বেশির ভাগ কাজ নিজেই সম্পন্ন করেছেন আনিসুর রহমান। পাশাপাশি ড্রাগ ডোজ ক্যালকুলেশন, চিকিৎসা নির্দেশনা এবং বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য প্রস্তুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে কাজ করে

বায়োনাইটের প্রেসক্রিপশন মডিউলে ব্যবহারকারী প্রথমে প্রাণীর প্রজাতি, ওজন, রোগের ইতিহাস এবং ক্লিনিক্যাল লক্ষণ ইনপুট করেন। এরপর এআই-সমর্থিত সিস্টেমটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগ, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং ওষুধ ও ডোজসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে ম্যানুয়ালি রোগ নির্বাচন করেও প্রেসক্রিপশন তৈরি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও প্রজাতি ও ওজনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ডোজ ক্যালকুলেশনের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে ডোজ হিসাব করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়। এ ছাড়া প্রেসক্রিপশন সম্পাদনার সুবিধাও রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সংযোজন, অপসারণ কিংবা ডোজ পরিবর্তন করা যায় সহজেই।

এআই ও তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তির সমন্বয়

বায়োনাইটে নিজস্বভাবে তৈরি ডোমেইনভিত্তিক রুলস ও অ্যালগরিদমের পাশাপাশি আধুনিক রিজনিং-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ডোজ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন স্বীকৃত উৎস থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ভেটেরিনারি ড্রাগ ম্যানুয়াল, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ড্রাগ নির্দেশিকা, একাডেমিক নোট, ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন এবং বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ।

প্রাথমিক পর্যায়েই ইতিবাচক সাড়া

বর্তমানে বায়োনাইট পরীক্ষামূলক ও সীমিত ব্যবহার পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৩ বার ড্রাগ রিডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত প্রেসক্রিপশন প্রস্তুতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় ডোজ ক্যালকুলেশনের ফলে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন ফিচার সংযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তার। এ ছাড়া ভেটেরিনারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মডিউল, রোগের প্রবণতা বিশ্লেষণ, ডেটা-চালিত রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সম্ভাব্য জুনোটিক ঝুঁকি (প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামিত হতে পারে এমন রোগ) শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেবার বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বায়োনাইটের প্রতিষ্ঠাতা আনিসুর রহমান খান বলেন, ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করাই আমাদের লক্ষ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমন্বয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি (প্রাণীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, প্রসূতিবিদ্যা এবং স্ত্রী-রোগসংক্রান্ত বিশেষায়িত শাখা) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্ল্যাটফর্মটি দেখেছি। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে অনেক শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং উন্নয়ন প্রয়োজন। আমি আশা করি, সময়ের সঙ্গে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসা খাতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’

ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন
সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনার নিজ কক্ষে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। গঠিত কমিটিকে উপাচার্যের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭৪তম (সাধারণ) সভার ৩২ নং প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ অফিস কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভাইস-চ্যানসেলর মহোদয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছেন তা বিবেচনার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়। প্রস্তাবটি আলোচনার পর এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গঠিত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য বরারব রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়।

৪ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে আহ্বায়ক ও একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মাছুদুল হক তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (পি আর এল) ড. আশরাফুর রহমান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন- কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। 

পরে গত ৭ মার্চ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা), মো. গোলাম মওলাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম