কক্সবাজারের চকরিয়ায় পরিবেশ ধ্বংসের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার মূল হোতা, চিহ্নিত বালুদস্যু ও সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী আসামি নাজিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য দুই আসামিকে (যারা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন) চড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল হওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে মূল অপরাধী নাজিম উদ্দিনের ক্ষেত্রে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
হামলার শিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদীর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ আদালতের এই আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার ছড়াখাল ও ফসলি জমিতে শ্যালোমেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসের চিত্র ধারণ করতে যান সাংবাদিকরা। এ সময় দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদীর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক এবং দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি এ কে এম ইকবাল ফারুকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বালুদস্যু নাজিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।
সন্ত্রাসীদের দা ও লাঠির আঘাতে সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের ডান হাত ভেঙে যায়। অন্য দুই সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ ও ইকবাল ফারুককেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলার পর সাংবাদিকদের চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো বালুদস্যু নাজিমের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা মুক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এই হামলার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ কে এম ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার মুখে পুলিশ মামলাটি নিতে বাধ্য হলেও রহস্যজনক কারণে মূল আসামি নাজিমকে গ্রেপ্তার করেনি। এই সুযোগে নাজিম উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান। এমনকি গত সোমবার চকরিয়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা চলাকালেও খোদ ওসি এবং বিএনপির এক সিনিয়র নেতার সঙ্গে তাকে প্রকাশ্য সাক্ষাৎ ও কানাকানি করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
রাজু দাশ/হীরা/