দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও রংপুরে এর মাত্রা এখনো কম। আক্রান্তদের বেশির ভাগই ঢাকা ও অন্যান্য এলাকা থেকে এসেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে স্থানীয়ভাবে মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে। সংক্রমণ রোধে রংপুর সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মোবাইল কোর্ট শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগও সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ একদিনে এ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লালমনিরহাট সদরে আটজন, নীলফামারি হাসপাতালে তিনজন, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ১০ জন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন ও রংপুরের উপজেলা হাসপাতালে একজন; সব মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ২৯ জন ভর্তি হয়েছিলেন। এতে কোনো মৃত্যু ঘটেনি।
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৮৬। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। ভর্তি রয়েছে দুজন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর নীলফামারীর ডোমার উপজেলা হাসপাতাল ভর্তি হই। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার হেলাল (২২) ঢাকার কোনাবাড়ির একটি গার্মেন্টস থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ নংম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা চলছে, এখন একটু সুস্থ।’
সারা দেশের মতো ডেঙ্গুর প্রকোপ রংপুরেও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) রাকিব হাসান বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে সব ওয়ার্ডে একযোগে মশার লার্ভিসাইড স্প্রে ও ফগিং শুরু হয়েছে। যেসব ঝোপঝাড়ে মশা থাকতে পারে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে যাতে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্ম না নেয়, সেজন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। আশা করি, রংপুর সিটি করপোরেশনে অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মশার প্রাদুর্ভাব কম থাকবে।’
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে বাড়লেও রংপুরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। যেহেতু এ সময়ে প্রকোপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বিভাগীয় মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকেও সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা, পানি ও ডোবায় যেন মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। প্রকোপ দেখা দিলে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’