চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লাইসেন্সবিহীন অ্যাজেন্সি খুলে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচার ও আদম ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, ভালো ভিসা দেওয়ার নাম করে হাফেজ মুহিব্বুল্লাহ নামে এক সৌদি প্রবাসী ইমামের কাছ থেকে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মিজানুর রহমান।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাঁশখালীর পুকুরিয়া এলাকার হাফেজ মুহিব্বুল্লাহ মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ৩নং ওয়ার্ড এলাকার জাফর আহমদের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন অ্যাজেন্সি খুলে আদমব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি পুকুরিয়া এলাকার ১নং ওয়ার্ড এলাকার মোহাম্মদ হোসনের ছেলে প্রবাসী হাফেজ মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ গত বছর দেশে এলে মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে তার কাছে ভালো বেতনে মক্কা আফগানি মসজিদের সামনে আবাসিক হোটেলের সুবিধাজনক ভিসা আছে বলে বিক্রির প্রস্তাব দেন। কম দামে পরিচিতজনের কাছে ওই সুবিধাজনক ভিসা বিক্রি করে দিতে নানা প্রস্তাব দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে কলেমা পড়ে মুহিব্বুল্লাহকে ভাই ডাকেন প্রতারক মিজান।
এসবে প্রলুব্ধ হয়ে সৌদি ইমাম চাম্বলের মিজানুর রহমানের কাছে ৩ লাখ ৭০ হাজার করে ১১টি ভিসার জন্য ব্যাংক, বিকাশ ও নগদ মাধ্যমে সর্বমোট ৩৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা দেন। কথা ছিল আবাসিক হোটেল ভিসা এবং ১৫০০/১৬০০ টাকা সৌদি রিয়ালের বেতন হবে। কিন্তু দেখা গেল ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরব পাঠান মিজান।
পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই ছয়জন সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে যান। মুহিব্বুল্লাহ তাদের ভিসা করে দেওয়ার জন্য মিজানকে বললেও মিজান নানা টালবাহানা করেন।
অপরদিকে যে ৫ জন দেশে আছেন, তাদেরও আর বিদেশ নিয়ে যাননি মিজান। ঘটনার পর ইমাম হাফেজ মুহিব্বুল্লাহ এ আর ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ মিজানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিতে থাকেন। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় অবশেষে মামলা করেন মুহিব্বুল্লাহ।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার সাথে যেভাবে কথা ছিল সেভাবেই হয়েছে। সাড়ে ৪ লাখ করে ভিসার দাম ছিল। আমি আরও ১০-১২ লাখ টাকা পাব।’
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মিজান একজন ভিসা প্রতারক ও মানবপাচারকারী। সৌদি ইমাম মুহিব্বুল্লাহ তার খপ্পরে পড়েছেন। আদালত মামলাটি নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’
শফকত/হীরা/