কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার গানের ক্যারিয়ার ছয় দশকেরও বেশি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। গানের জন্য পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। এই শিল্পীর আজ ৮৬তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গান, ব্যক্তিজীবন ও নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ মিজান-
শুভ জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটি কীভাবে কাটাবেন?
ধন্যবাদ। আমাদের সময় তো জন্মদিন পালন করার বিষয় ছিল না। এখন জন্মদিন পালন করা হয়। প্রতিবারই আমার জন্মদিন ভুলে যাই। আমার বন্ধুবান্ধব ও ভক্তরা আমাকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠায়। এতে আমি ভীষণ আনন্দিত হই। আমার ভক্ত ও শ্রোতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমার গান শুনেছেন। আমাকে যে ভালোবাসা তারা দিয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবে না।
বিশেষ কোনো আয়োজন আছে?
চ্যানেল আই এবার আমার জন্মদিন উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছে। এই অনুষ্ঠানে আমার ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার নিয়ে নানা কথা বলেছি। এটি চ্যানেল আইতে আমার জন্মদিন উপলক্ষে প্রচার হবে।
শোনা যাচ্ছে আপনি নতুন আর কোনো গান গাইবেন না। এটা কি সত্যি?
ঠিকই শুনেছেন। অনেকেই আমার কাছে নতুন গান নিয়ে আসেন। অনেকেই নতুন গান গাওয়ার কথাও বলেন প্রায়ই, কিন্তু আমি রাজি হইনি। আর নতুন কোনো গান গাইতে চাই না। আমি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলাম। এরপর থেকেই শরীর কিছুটা দুর্বল। এ ছাড়া আরও কিছু কারণ আছে যেগুলো বলতে চাই না।
কারণগুলো কি ব্যক্তিগত?
না এটা বলা যাবে না। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বোধ। আসলে গান থেকে আমি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গিয়েছি। অনেক গানই গেয়েছি একজীবনে। আর কত গাইব। সবারই একটা সময় থামতে হয়। আমি মনে করি, আমার এখন থামা উচিত। আমার মনে হয়েছে, আমি একসময় যে গান গেয়েছি, তা অতিক্রম করতে পারব না। তাই সম্মান ও ভালোবাসা থাকতেই একজন শিল্পীকে থামতে হয়।
কোনো অভিমান বা অপ্রাপ্তি আছে?
আমার কোনো অভিমান বা অপ্রাপ্তি নেই। তবে আমার কিছুটা রাগ আছে। সেই রাগের কথা কাউকে বলতে চাই না। আমি শ্রোতাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি একজীবনে সেটা অনেক বেশি। সেটাই উপভোগ করতে চাই। তাই গান ও জীবন নিয়ে আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই।
এ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য কোনো পরামর্শ দেবেন?
আমার কোনো পরামর্শ নেই। এটা আসলে ভালো হবে না। আমি পরামর্শ দিলে আমার যুগের কথা চিন্তা করে দেব আর এখন সবকিছু অনেক বেশি আধুনিক। আমার সঙ্গে তাদের চিন্তার মিল হবে না। গান এখন আর শিল্পের মধ্যে নেই। গান এখন শতভাগ বিনোদনের পর্যায়ে চলে গেছে। আগে শিল্প ও বিনোদন পাশাপাশি ছিল। এখন শুধুই বিনোদন আছে, শিল্প নেই। তাই আমার জায়গা থেকে কারও জন্য কোনো পরামর্শ নেই। সবাই ভালো থাকুন– এটাই আমি চাই।