প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের পর সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য। জানা গেছে, টাইব্রেকারের ষষ্ঠ শট নিতে রাজি হননি দলের চার ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শট নেন জোনাথন তাহ, কিন্তু তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এরপরই জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড জানায়, টাইব্রেকারের প্রথম পাঁচজন শুটারের তালিকা আগেই নির্ধারিত ছিল। তবে খেলা ষষ্ঠ শটে গড়াবে, এমনটা দলের পরিকল্পনায় ছিল না। ষষ্ঠ শটের জন্য লিয়ন গোরেৎজকা, ওয়ালদেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন এবং মালিক চাওকে অনুরোধ করা হলেও কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন লিয়ন গোরেৎজকা। জাতীয় দলের হয়ে ৭২টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডারকে অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ দুবার শট নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাতেও রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পড়ে জোনাথন তাহের ওপর। কিন্তু পেশাদার ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও ম্যাচে বা টাইব্রেকারে পেনাল্টি নেননি এই ডিফেন্ডার। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল তার শটে। তাহের নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হোসে কানালে গোল করে প্যারাগুয়ের জয় এবং জার্মানির বিদায় নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনার পর জার্মানির সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
ফুটবল বিশ্লেষক মারিয়ন হর্ন লিখেছেন, ‘আমরা সব দিক থেকেই দ্বিতীয় সারির দেশে পরিণত হচ্ছি। অর্থনীতি প্রতিদিন দুর্বল হচ্ছে। দেউলিয়া হওয়ার খবর নিয়মিত শুনছি। ফুটবল দলও তাদের গৌরব হারাচ্ছে। লোথার ম্যাথাউসের কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে এই দলের বেশি চিন্তা ছিল কার মা ব্যক্তিগত বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে খেলা দেখতে যাবেন, আর কার মা যাবেন না। ম্যাচ নিয়ে তারা যথেষ্ট ভাবেনি। আমাদের সন্তানেরা এটাই জানবে, জার্মানি এখন পরাজিতদের একটি দল।’
অমিয়/