২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সময়ক্ষেপণ কমাতে চালু করা নতুন নিয়ম প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারি কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা। তার দাবি, এসব নিয়মে খেলার গতি বেড়েছে, সময় নষ্টের প্রবণতা কমেছে এবং খেলোয়াড়দের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
ফিফার এক বিবৃতিতে কোলিনা বলেন, গোল কিক ও থ্রো-ইনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ সেকেন্ড এবং বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সবাই একে ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।’
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ৭২ ম্যাচে মাত্র একজন খেলোয়াড় নির্ধারিত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। কোলিনা জানান, এখন বদলি হওয়া খেলোয়াড়রা দ্রুত সাইডলাইনের দিকে গিয়ে মাঠ ছাড়ছেন। এতে দল এগিয়ে থাকলেও সময় নষ্ট করছেন না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বদলি হওয়া খেলোয়াড় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে তার পরিবর্তে নামতে যাওয়া খেলোয়াড় সঙ্গে সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর অন্তত এক মিনিট এবং পরবর্তী স্টপেজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ওই সময় দলটিকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে হবে।
এদিকে, গোল কিক ও থ্রো-ইনের পাঁচ সেকেন্ডের নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে মোট ১৫ বার। এর মধ্যে গোল কিকে দেরি করায় চারবার প্রতিপক্ষ কর্নার কিক পেয়েছে এবং থ্রো-ইনে দেরি করায় ১১ বার বলের দখল হারিয়েছে সংশ্লিষ্ট দল।
কোলিনা আরও জানান, মাঠে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে খেলা শুরুর পর অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার নিয়ম চালুর ফলে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ ও চোটের ভান করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের মাঠে ডাকার ঘটনাও আগের তুলনায় কমেছে।
টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও কোচদের আচরণও ছিল নিয়ন্ত্রিত। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন খেলোয়াড় ও দুজন কোচ হলুদ কার্ড দেখেছেন।
এ ছাড়া টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দেওয়া ১০টি লাল কার্ডের মধ্যে ছয়টি এসেছে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করার কারণে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সময় মুখ ঢেকে কথা বলার অপরাধে লাল কার্ড দেখা প্রথম খেলোয়াড় হন প্যারাগুয়ের উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন।
জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন তাহের বাতিল হওয়া গোল নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি জানান, গোলের আগে বিল্ড-আপে জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল করেছিলেন, যা ভিএআরে স্পষ্ট হয়। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাপ্পু/অন্তরা/