দশ বছর আগে এই দিনে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা ঘটে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ওই বেকারিতে নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা।
নারকীয় ওই হামলায় মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যাদের ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, ছয়জন জাপানের, একজন ভারতীয়, একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনজন বাংলাদেশি নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে অভিযানে যাওয়া পুলিশের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের নিক্ষেপ করা বোমায় নিহত হন। ভয়াবহ এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে।
দশ বছর আগে বিভীষিকাময় সেই রাতভর চলে জঙ্গিদের নৃশংস তাণ্ডব। পরদিন সকালে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ওই অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জিম্মি থাকা ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলেন নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।
এ নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তৎকালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলা চালায়।
বিচার ও আদালতের রায়
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ‘নব্য জেএমবির’ সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০২৫ সালের জুনে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। বর্তমানে সেটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। তাদের মধ্যে আসলাম হোসেন ২০২৪ সালের ৬ জুন গণ-অভ্যুত্থানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।