ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্যারিয়ার গড়ুন ইস্টার্ন ব্যাংকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব বাঁশখালীতে আদম ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ অদম্য জান্নাতুল, থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধকতাও, দুই হাতের ভরসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জৈন্তাপুরে দুই ড্রেজার মেশিনসহ আটক ৩ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই: দেসাবের চাঁদপুরে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ বজ্রপাতের শঙ্কায় থমকে যেতে পারে বিশ্বকাপের ম্যাচ রংপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, আক্রান্তরা বহিরাগত শিশু নির্যাতন ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বললেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজশাহীতে ডেঙ্গুর অশনিসংকেত হিলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল প্রতিহত করতে পুলিশের সর্তকতা বরগুনায় চোখ রাঙাচ্ছে গত বছরের হটস্পট গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২৫ চট্টগ্রামে ৮ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা সিরাজদিখানে আত্মীয়র রান্নাঘরে পুঁতে রাখা ছিল বৃদ্ধের মরদেহ পূর্বাচলে ৪টি থানা ও ৬টি তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত ময়মনসিংহে সন্ধ্যা নামতেই আতঙ্ক, বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আখাউড়া পৌরসভার বাজেট ঘোষণা সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান প্রান্তিক পর্যায়ে রেমিট্যান্স পৌঁছাতে নগদ ও রূপালী ব্যাংকের চুক্তি মিশরের বিপক্ষে ‘বাঁচো নয়তো মরো’ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় হিলি ইমিগ্রেশনে বাড়ছে যাত্রী পারাপার চকরিয়ায় ৩ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বালুদস্যু নাজিম কারাগারে ইউসিবিতে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নকআউটের আগে মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

বরগুনায় চোখ রাঙাচ্ছে গত বছরের হটস্পট

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বরগুনায় চোখ রাঙাচ্ছে গত বছরের হটস্পট
বরগুনা শহরের শহিদ স্মৃতি সড়কের পাশে গণপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত ডোবায় জমে থাকা দূষিত পানি ও আবর্জনার স্তূপে মশার উপদ্রব। ছবি: খবরের কাগজ

গত বছর দেশে ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পটে পরিণত হয়েছিল বরগুনা। এক বছর পেরিয়ে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি। শহরের বিভিন্ন ডোবা, ড্রেন ও আবর্জনার স্তূপ এখনো এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হয়ে আছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও জুলাই-আগস্টকে সামনে রেখে উদ্বেগ রয়েছে।

বরগুনা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহিদ স্মৃতি সড়কের পাশে গণপূর্ত বিভাগের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় জমে থাকা দূষিত পানি ও আবর্জনার স্তূপে মশার উপদ্রব চোখে পড়ে। আশপাশে অন্তত ২৫টি পরিবার ও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও ডোবাটি পরিষ্কার করা হয়নি।

সেখানে বসবাসকারী নিরালা বেগম জানান, গত বছর তাদের পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে সাতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এরপর একাধিকবার জানানো হলেও গত এক বছরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আর আসেননি।

২০২৫ সালে বরগুনা ছিল দেশের অন্যতম ডেঙ্গুর হটস্পট। সে সময় আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন শেষে ব্রেটো ইনডেক্স বেশি থাকা এলাকায় লার্ভার উৎস ধ্বংস, নিয়মিত ফগিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পানি সংরক্ষণে সতর্কতাসহ কয়েকটি সুপারিশ করে। তবে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এসব সুপারিশের অধিকাংশই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ২ হাজার ৯৩২ জন। ৩১ জুলাই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬০। শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হন ১ হাজার ৯২৮ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২২৮ জন। বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। শেষ এক দিনে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন আটজন।

বরগুনা পৌর শহরের আমতলার পাড় এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ নয়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করলেও সেই পানি ঢেকে রাখেন না।’

বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সদস্য জাহিদুল ইসলাম মেহেদী বলেন, ‘নাগরিকদের অসচেতনতার কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা ও দূষিত পানি জমে থাকার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে।’

চর কলোনি এলাকার বাসিন্দা খান নাঈম বলেন, ‘আমার ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন।’

বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বরগুনা পৌরসভা পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সমন্বয়ক রিপন মালী বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ভবন বা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ড্রেন, ডোবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন না এলে ঝুঁকি থেকেই যাবে।’

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা এবং মানুষের সচেতনতার কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জুলাই-আগস্টে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম।’

‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবার দিচ্ছেন দুজন স্বেচ্ছাসেবী। ছবি: খবরের কাগজ

পর্যটন মৌসুম শেষ হলেই জনশূন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নেমে আসে হাহাকার। পর্যটকদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে যে কুকুরগুলো বেঁচে থাকে, মৌসুম শেষে সেগুলোই তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ে। খাবারের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলো অনেক সময় স্থানীয় মানুষকেও আক্রমণ করে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুধার্ত এই প্রাণীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ফাইন্ডিং হোপ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আরিজ উল মুল্কের অর্থায়নে নিয়মিত খাদ্যসহায়তায় দ্বীপের কয়েক হাজার কুকুরের কষ্ট যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে স্থানীয় মানুষের আতঙ্ক। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবার কুকুরের নির্বীজকরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস।

স্থানীয়রা জানান, পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করেই বেশির ভাগ কুকুর বেঁচে থাকে। কিন্তু পর্যটক কমে গেলে বা মৌসুম শেষ হলে তারা আবার খাদ্যসংকটে পড়ে।

সেন্ট মার্টিনের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের বলেন, ‘আগে খাবারের অভাবে কুকুরগুলো ছোট ছোট শিশুদের কামড়ে দিত। এমনকি জেলেরা মাছ ধরতে গেলেও কুকুরগুলো তাদের পেছনে পেছনে ঘুরত এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করত।’

তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে একটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কুকুরদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আগের মতো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে দ্বীপের মানুষ এই ভোগান্তি ও আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবেন না।
জানা যায়, সেন্ট মার্টিনের ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করেন ফাইন্ডিং হোপের চেয়ারম্যান আরিজ উল মুল্ক। তার পাঠানো অর্থে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার কুকুরকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কুকুরগুলো আগের তুলনায় শান্ত হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. এরশাদ জানান, দ্বীপে দিন দিন কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বিভিন্ন এনজিও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কুকুরদের টিকাও দেওয়া হয়েছে। তবুও তাদের সংখ্যা কমছে না, বরং বাড়ছেই। তিনি বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমে কুকুরগুলো হোটেল-রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই তখন তারা সাধারণত স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মৌসুম শেষ হলে খাবারের অভাবে তারা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় মানুষের ওপর হামলা করে। আমার বাবা ও ভাইয়ের ছেলেও কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।’

ফাইন্ডিং হোপের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা সাইফুল ইসলাম বিসজ বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সংগঠনটির উদ্যোগে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবার ও চিকিৎসার জন্য একটি দল সেন্ট মার্টিনে আসে। পরে বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা ফিরে গেলেও আরিজ উল মুল্ক বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার কুকুরকে খাবার খাওয়ানো হয়। তার নেতৃত্বে চারজন স্বেচ্ছাসেবক এ কাজে অংশ নেন। প্রতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ বস্তা চাল, ডিম ও সবজি দিয়ে খিচুড়ির মতো খাবার রান্না করে কুকুরগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্যের অভাবে একসময় আড়াই হাজারেরও বেশি কুকুর মারা গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বেঁচে থাকার জন্য অনেক জীবিত কুকুর মৃত কুকুরের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল।’

সেন্ট মার্টিনে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে শিগগিরই কুকুরের নির্বীজকরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

অদম্য জান্নাতুল, থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধকতাও, দুই হাতের ভরসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
অদম্য জান্নাতুল, থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধকতাও, দুই হাতের ভরসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন
দুই হাতে ভর করে কলেজের সিঁড়ি দিয়ে নামছেন জান্নাতুল। ছবি: খবরের কাগজ

জন্ম থেকেই দুই পা নেই জান্নাতুল ফেরদৌসের। দুই হাতের ওপর ভর করেই চলতে হয় তাকে। তবুও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছাড়েননি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী। দারিদ্র্য আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন কলেজে পড়াশোনা।

তবে প্রতিদিন প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে যাওয়া তার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যাতায়াতে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ১২০ টাকা, যা দিনমজুর বাবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে মাসে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় দিন কলেজে যেতে পারেন জান্নাতুল। বাকি সময়টুকু কাটে ঘরের চার দেওয়ালে একা একা পড়াশোনা করে।

উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের ভেংরি গ্রামের রাজমিস্ত্রীর সহকারী দরিদ্র পরিবারের সন্তান জান্নাতুল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ২০২৫ সালে ভেংরি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ৫৬ অর্জনের পর বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু তার শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় বাধা এখন দারিদ্র্য।

সাহসী জান্নাতুল বলেন, ‘আমি দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে চলাফেরা করি। নিয়মিত কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বাবার পক্ষে প্রতিদিন যাতায়াতের খরচ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই অনেক ক্লাস করতে পারি না। যদি একটি তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে প্রতিদিন কলেজে যেতে পারতাম। আমি শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় মা সাহারা খাতুনের। তিনি বলেন, ‘মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না। অর্থের অভাবে ওর জন্য কিছুই করতে পারছি না। একজন মা হিসেবে এরচেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে!’

বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি দিনমজুর মানুষ। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। মেয়েটা খুব মেধাবী। ওর ইচ্ছা অনেক বড়, কিন্তু অভাবের কাছে আমি অসহায়। যদি কেউ একটি স্কুটির ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমার মেয়েটা নিয়মিত কলেজে যেতে পারত এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত।’

হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জান্নাতুল অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী একজন শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই তার শেখার আগ্রহ কমাতে পারেনি। কলেজের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।’

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে জান্নাতুলের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আলোকিত হবে।’

জান্নাতুলের গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সংগ্রামের গল্প নয়; এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস আর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। প্রতিদিন দুই হাতের ভরসায় এগিয়ে চলা এই তরুণী সমাজের কাছে খুব বেশি কিছু চান না- শুধু একটি তিন চাকার স্কুটি, যা তাকে নিয়মিত কলেজে পৌঁছে দেবে এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

জৈন্তাপুরে দুই ড্রেজার মেশিনসহ আটক ৩

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পিএম
জৈন্তাপুরে দুই ড্রেজার মেশিনসহ আটক ৩
ছবিঃ খবরের কাগজ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সবুড়ী নদীর ঢুলটিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার মেশিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় অভিযান চালিয়ে কাশেম (২৫), রুহুল আমিন (২৪) ও ইয়াকুবকে (২৮) আটক করা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় সবুড়ী নদীতে অভিযান চালান। এ সময় ঢুলটিরপাড় এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা অবস্থায় দুটি নৌকাসহ তিনজনকে আটক করে। 

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৫ অনুযায়ী আটকরা তাদের দোষ স্বীকার করায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  

সুনন্দা রায় বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় রাংপানি নদী, সবুড়ী নদী, বড়গাং নদী, শ্রীপুর পাথর কোয়ারিসহ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ও টিলা কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এই তিনজনকে আটক করা হয়। তারা অপরাধ স্বীকার করায় এবং আগামী দিনে এরকম অপরাধ করবে না মর্মে অঙ্গীকার করায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শাকিলা ববি/অদিতি/

চাঁদপুরে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
চাঁদপুরে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে যৌথ অভিযানে একটি গোডাউন থেকে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ও ১০০ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজারে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও উপজেলা মৎস্য অফিস যৌথ অভিযান চালায়।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পি দত্ত রনি। তিনি গোডাউনের দায়িত্বে থাকা একজনকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, গোডাউন থেকে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ নতুন কারেন্টজাল ও ১০০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। পরে এ জাল কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে এনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

অভিযানে মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের টহল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফয়েজ/খাদিজা রুমি/

রংপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, আক্রান্তরা বহিরাগত

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
রংপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, আক্রান্তরা বহিরাগত
বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশার লার্ভা। ছবিটি সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও রংপুরে এর মাত্রা এখনো কম। আক্রান্তদের বেশির ভাগই ঢাকা ও অন্যান্য এলাকা থেকে এসেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে স্থানীয়ভাবে মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে। সংক্রমণ রোধে রংপুর সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মোবাইল কোর্ট শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগও সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ একদিনে এ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লালমনিরহাট সদরে আটজন, নীলফামারি হাসপাতালে তিনজন, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ১০ জন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন ও রংপুরের উপজেলা হাসপাতালে একজন; সব মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ২৯ জন ভর্তি হয়েছিলেন। এতে কোনো মৃত্যু ঘটেনি।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৮৬। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। ভর্তি রয়েছে দুজন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর নীলফামারীর ডোমার উপজেলা হাসপাতাল ভর্তি হই। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার হেলাল (২২) ঢাকার কোনাবাড়ির একটি গার্মেন্টস থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ নংম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা চলছে, এখন একটু সুস্থ।’

সারা দেশের মতো ডেঙ্গুর প্রকোপ রংপুরেও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) রাকিব হাসান বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে সব ওয়ার্ডে একযোগে মশার লার্ভিসাইড স্প্রে ও ফগিং শুরু হয়েছে। যেসব ঝোপঝাড়ে মশা থাকতে পারে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে যাতে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্ম না নেয়, সেজন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। আশা করি, রংপুর সিটি করপোরেশনে অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মশার প্রাদুর্ভাব কম থাকবে।’

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে বাড়লেও রংপুরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। যেহেতু এ সময়ে প্রকোপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বিভাগীয় মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকেও সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা, পানি ও ডোবায় যেন মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। প্রকোপ দেখা দিলে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’