ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ শেষ ইকুয়েডের, পদত্যাগ করলেন কোচ আপনার অফিসের কর্মপরিবেশ কতটা উপযোগী? মেক্সিকোর জয়ের পর উল্লাসে প্রাণ গেল দুজনের ভেনেজুয়েলায় ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশের ৬০০ কেজি আম উপহার সুইডেনকে বিধ্বস্ত করার পর যা বললেন এমবাপ্পে-দেশম টেক্সটাইল খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী জীবননগরে অবৈধভাবে গমের ভূষি তৈরি ও বাজারজাত করায় জরিমানা নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাজশাহী গড়তে কাজ করছে আরএমপি: ভূমিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় মাছপট্টি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে সাইবার নিরাপত্তা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী বর্ষাকালে নারীদের সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতা সখীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার নতুন ৩ উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন নারীর স্বাবলম্বিতা সময়ের অন্যতম দাবি পাঁচবিবিতে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্যারিয়ার গড়ুন ইস্টার্ন ব্যাংকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব বাঁশখালীতে আদম ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ অদম্য জান্নাতুল, থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধকতাও, দুই হাতের ভরসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জৈন্তাপুরে দুই ড্রেজার মেশিনসহ আটক ৩ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই: দেসাবের চাঁদপুরে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ বজ্রপাতের শঙ্কায় থমকে যেতে পারে বিশ্বকাপের ম্যাচ রংপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, আক্রান্তরা বহিরাগত শিশু নির্যাতন ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বললেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজশাহীতে ডেঙ্গুর অশনিসংকেত হিলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল প্রতিহত করতে পুলিশের সর্তকতা

ময়মনসিংহে সন্ধ্যা নামতেই আতঙ্ক, বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে সন্ধ্যা নামতেই আতঙ্ক, বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

সন্ধ্যা নামতেই যেন আরেক শহরে রূপ নেয় ময়মনসিংহ। বাসার জানালা-দরজা বন্ধ করেও স্বস্তি নেই। কয়েল, স্প্রে কিংবা বৈদ্যুতিক ব্যাট- কোনোটাই মশার দাপট থামাতে পারছে না। দিনেও রেহাই মিলছে না। মশার উৎপাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। আর সেই চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে।

হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন তিনজন। বর্তমানে আটজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও একটি শিশু। ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের ১৩, ১৪, ১৫ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১২৬ জন। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সংক্রমণ তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুনে এসে পরিস্থিতির দৃশ্যপট বদলে গেছে। জানুয়ারিতে ভর্তি হন ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ১১ জন, এপ্রিলে ৯ জন ও মে মাসে ২০ জন। কিন্তু জুনেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে, যা ছয় মাসের মোট রোগীর প্রায় ৪২ শতাংশ। এ ছাড়া শুধু জুনেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ২০২৫ সালে মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ২ হাজার ৯৪৮ জন। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৯ জন।

নগরজুড়ে মশার রাজত্ব

ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে– মশার উপদ্রব এখন অসহনীয়। সন্ধ্যার পর শিশু, বৃদ্ধ কিংবা কর্মজীবী মানুষ কারও স্বস্তি নেই। শুধু বাসাবাড়ি নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, দোকানপাট- সব জায়গাতেই মশার উৎপাত বেড়েছে।

ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ঘরে বসে থাকাই কষ্টকর হয়ে যায়। কয়েল জ্বালাই, স্প্রে করি, তারপরও মশা কমে না। বাচ্চারা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। সকালে স্কুলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।’

কাঁচিঝুলি এলাকার গৃহিণী ফরিদা পারভীন বলেন, ‘ড্রেন আর আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার না হওয়ায় মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ফগিং মেশিনে ওষুধ ছিটানো হলেও তেমন কোনো সুফল দেখা যায় না।’

হামিদ উদ্দিন রোডের বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে যায়। ডেঙ্গুর ভয় এখন প্রতিটি পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

নগরবাসীর অভিযোগের বিপরীতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের দাবি, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার, কাদা-ময়লা অপসারণ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ বলেন, শুধু ফগিং মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাড়ির ছাদ, টব, ফুলের পাত্র বা আশেপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকুনুজ্জামান রোকন বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।

আজহার/অমিয়/

জীবননগরে অবৈধভাবে গমের ভূষি তৈরি ও বাজারজাত করায় জরিমানা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০১ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
জীবননগরে অবৈধভাবে গমের ভূষি তৈরি ও বাজারজাত করায় জরিমানা
ছবিঃ খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অবৈধভাবে পণ্য (তীর গমের ভূষি) তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১ জুলাই) জীবননগর এলাকায় কীটনাশক ও ভূষির প্রতিষ্ঠানে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী, অবৈধভাবে পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করায় সাইফুল হকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহীন ট্রেডার্সকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়াও মূল্য তালিকা হালনাগাদ করা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য, ঔষধ বা বীজ বিক্রি না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।  

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম। 

মিজানুর রহমান/অদিতি/

চুয়াডাঙ্গায় মাছপট্টি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় মাছপট্টি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
ছবিঃখবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের মাছপট্টি কবরস্থানের সামনে থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় বস্তুটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে সেটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাছপট্টির আড়তে প্রতিদিনের মতো মাছ কেনাবেচা চলছিল। এ সময় কবরস্থানের সামনে লাল স্কচটেপে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন ব্যবসায়ীরা। বস্তুটি বোমা হতে পারে, এমন সন্দেহে তারা তাৎক্ষণিক থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়। পরে  সতর্কতার সঙ্গে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদে নেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে। এটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

মিজান/হীরা/

সখীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পিএম
সখীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ছবিঃখবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের এক দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পারভীন (৪৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে সখীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে বাসার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত পারভীন ওই ওয়ার্ডের মৃত হুমায়ূন খানের স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভারে চাকরিরত ছেলে ফাহাদের সঙ্গে মোবাইলে তার শেষ কথা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে ফাহাদসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। একই দিন সন্ধ্যায় ফাহাদ ঢাকা থেকে ফিরে সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল রাত থেকেই পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এর একপর্যায়ে আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 

টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, সকালে ডোবা থেকে এক নারীর মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।

জুয়েল/হীরা/

পাঁচবিবিতে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
পাঁচবিবিতে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন
ছবিঃ খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাটাবুকা, খাসবাগুড়ী ও বনখুর মৌজায় রাস্তা নির্মানে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। 

এ সময় বক্তব্য রাখেন জমির মালিক মুরাদ হোসেন, শহিদুল ইসলাম পাপ্পু, গোফফার হোসেন, শুভ হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী ও ফছির উদ্দীন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, পাটাবুকা, খাসবাগুড়ী ও বনখুর মৌজায় রাস্তা নির্মাণে কৃষকদের জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু অধিগ্রহণ করা জমির জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম, যা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। তাই প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির ন্যায্যমূল্যের দাবি জানান তারা।  

সাগর কুমার/অদিতি/

‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবার দিচ্ছেন দুজন স্বেচ্ছাসেবী। ছবি: খবরের কাগজ

পর্যটন মৌসুম শেষ হলেই জনশূন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নেমে আসে হাহাকার। পর্যটকদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে যে কুকুরগুলো বেঁচে থাকে, মৌসুম শেষে সেগুলোই তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ে। খাবারের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলো অনেক সময় স্থানীয় মানুষকেও আক্রমণ করে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুধার্ত এই প্রাণীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ফাইন্ডিং হোপ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আরিজ উল মুল্কের অর্থায়নে নিয়মিত খাদ্যসহায়তায় দ্বীপের কয়েক হাজার কুকুরের কষ্ট যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে স্থানীয় মানুষের আতঙ্ক। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবার কুকুরের নির্বীজকরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস।

স্থানীয়রা জানান, পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করেই বেশির ভাগ কুকুর বেঁচে থাকে। কিন্তু পর্যটক কমে গেলে বা মৌসুম শেষ হলে তারা আবার খাদ্যসংকটে পড়ে।

সেন্ট মার্টিনের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের বলেন, ‘আগে খাবারের অভাবে কুকুরগুলো ছোট ছোট শিশুদের কামড়ে দিত। এমনকি জেলেরা মাছ ধরতে গেলেও কুকুরগুলো তাদের পেছনে পেছনে ঘুরত এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করত।’

তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে একটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কুকুরদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আগের মতো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে দ্বীপের মানুষ এই ভোগান্তি ও আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবেন না।
জানা যায়, সেন্ট মার্টিনের ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করেন ফাইন্ডিং হোপের চেয়ারম্যান আরিজ উল মুল্ক। তার পাঠানো অর্থে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার কুকুরকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কুকুরগুলো আগের তুলনায় শান্ত হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. এরশাদ জানান, দ্বীপে দিন দিন কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বিভিন্ন এনজিও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কুকুরদের টিকাও দেওয়া হয়েছে। তবুও তাদের সংখ্যা কমছে না, বরং বাড়ছেই। তিনি বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমে কুকুরগুলো হোটেল-রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই তখন তারা সাধারণত স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মৌসুম শেষ হলে খাবারের অভাবে তারা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় মানুষের ওপর হামলা করে। আমার বাবা ও ভাইয়ের ছেলেও কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।’

ফাইন্ডিং হোপের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা সাইফুল ইসলাম বিসজ বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সংগঠনটির উদ্যোগে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর খাবার ও চিকিৎসার জন্য একটি দল সেন্ট মার্টিনে আসে। পরে বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা ফিরে গেলেও আরিজ উল মুল্ক বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার কুকুরকে খাবার খাওয়ানো হয়। তার নেতৃত্বে চারজন স্বেচ্ছাসেবক এ কাজে অংশ নেন। প্রতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ বস্তা চাল, ডিম ও সবজি দিয়ে খিচুড়ির মতো খাবার রান্না করে কুকুরগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্যের অভাবে একসময় আড়াই হাজারেরও বেশি কুকুর মারা গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বেঁচে থাকার জন্য অনেক জীবিত কুকুর মৃত কুকুরের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল।’

সেন্ট মার্টিনে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে শিগগিরই কুকুরের নির্বীজকরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।