ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ শেষ ইকুয়েডের, পদত্যাগ করলেন কোচ আপনার অফিসের কর্মপরিবেশ কতটা উপযোগী? মেক্সিকোর জয়ের পর উল্লাসে প্রাণ গেল দুজনের ভেনেজুয়েলায় ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশের ৬০০ কেজি আম উপহার সুইডেনকে বিধ্বস্ত করার পর যা বললেন এমবাপ্পে-দেশম টেক্সটাইল খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী জীবননগরে অবৈধভাবে গমের ভূষি তৈরি ও বাজারজাত করায় জরিমানা নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাজশাহী গড়তে কাজ করছে আরএমপি: ভূমিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় মাছপট্টি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে সাইবার নিরাপত্তা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী বর্ষাকালে নারীদের সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতা সখীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার নতুন ৩ উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন নারীর স্বাবলম্বিতা সময়ের অন্যতম দাবি পাঁচবিবিতে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্যারিয়ার গড়ুন ইস্টার্ন ব্যাংকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব বাঁশখালীতে আদম ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ‘জীবে দয়া করে যেই জন’,সেন্ট মার্টিনে ক্ষুধার্ত কুকুরের পাশে আরিজ অদম্য জান্নাতুল, থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধকতাও, দুই হাতের ভরসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জৈন্তাপুরে দুই ড্রেজার মেশিনসহ আটক ৩ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই: দেসাবের চাঁদপুরে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ বজ্রপাতের শঙ্কায় থমকে যেতে পারে বিশ্বকাপের ম্যাচ রংপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম, আক্রান্তরা বহিরাগত শিশু নির্যাতন ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বললেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজশাহীতে ডেঙ্গুর অশনিসংকেত হিলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল প্রতিহত করতে পুলিশের সর্তকতা

ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

স্বাভাবিক ই-সিগারেটের (ভ্যাপ) মতোই দেখতে ‘ইয়াকুজা’ ব্র্যান্ডের ডিভাইসটিতে কয়েকটি টান দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সি তরুণ ইছসান (ছদ্মনাম)। এর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার হাত-পা অবশ হয়ে আসে, মুখের কথা জড়িয়ে যায় এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

পরে ল্যাবটেস্টে জানা যায়, ওই ভ্যাপ কার্টিজে সাধারণ নিকোটিন বা কৃত্রিম সুগন্ধি নয় বরং ‘এটোমিডেট’ মেশানো ছিল, যা অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের অজ্ঞান করতে ব্যবহৃত একটি অ্যানেস্থেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়ায় এই তরল এখন তরুণদের কাছে ‘পড গেটার’ বা ‘কম্পন সৃষ্টিকারী পড’ নামে পরিচিত।

এটোমিডেট ছাড়াও সম্প্রতি ই-সিগারেটের তরলে সিন্থেটিক গাঁজা, মেথামফেটামিন এবং বিভিন্ন সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগের মিশ্রণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল নারকোটিকস অ্যাজেন্সি জানায়, ২০২৫ সালে তারা দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪৩ কেজি ড্রাগ মিশ্রিত ভেপ লিকুইড জব্দ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম চার মাসেই সেই রেকর্ড ভেঙে ৪৫ কেজি অবৈধ তরল জব্দ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৮ কোটি টাকা)।

দেশটির প্রশাসন বলছে, জনস্বাস্থ্যের চেয়ে কিছু বড় হতে পারে না।

মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পুনর্বাসন বিভাগের প্রধান বিনা আমপেরা বুকিত বলেন, ‘জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) ২০২১ সালের তথ্যমতে, ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ অর্থাৎ ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ই-সিগারেট ব্যবহার করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ‘ডিজিটাল বিষ’-এর হাত থেকে রক্ষা করতে সংসদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

ভেনেজুয়েলায় ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর রাজধানী কারাকাসে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিন বছর বয়সি এক ছেলে শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

জর্ডানের উদ্ধারকারী দল জানায়, শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা আনন্দে উল্লাস করছেন। কারণ অলৌকিকভাবে শিশুটি বেঁচে ছিল।

জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুটিকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিশুটির শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ স্বাভাবিক ছিল। উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

গত বুধবার (২৪ জুন) রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি ছিল ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প। এতে কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা এলাকার সব ভবনই বিধ্বস্থ হয়। রাজধানী কারাকাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রড্রিগেজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জানান, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/

ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ইন্দোনেশিয়ায় ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

স্বাভাবিক ই-সিগারেটের (ভ্যাপ) মতোই দেখতে ‘ইয়াকুজা’ ব্র্যান্ডের ডিভাইসটিতে কয়েকটি টান দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সি তরুণ ইছসান (ছদ্মনাম)। এর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার হাত-পা অবশ হয়ে আসে, মুখের কথা জড়িয়ে যায় এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

পরে ল্যাবটেস্টে জানা যায়, ওই ভ্যাপ কার্টিজে সাধারণ নিকোটিন বা কৃত্রিম সুগন্ধি নয় বরং ‘এটোমিডেট’ মেশানো ছিল, যা অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের অজ্ঞান করতে ব্যবহৃত একটি অ্যানেস্থেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়ায় এই তরল এখন তরুণদের কাছে ‘পড গেটার’ বা ‘কম্পন সৃষ্টিকারী পড’ নামে পরিচিত।

এটোমিডেট ছাড়াও সম্প্রতি ই-সিগারেটের তরলে সিন্থেটিক গাঁজা, মেথামফেটামিন এবং বিভিন্ন সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগের মিশ্রণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল নারকোটিকস অ্যাজেন্সি জানায়, ২০২৫ সালে তারা দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪৩ কেজি ড্রাগ মিশ্রিত ভেপ লিকুইড জব্দ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম চার মাসেই সেই রেকর্ড ভেঙে ৪৫ কেজি অবৈধ তরল জব্দ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৮ কোটি টাকা)।

দেশটির প্রশাসন বলছে, জনস্বাস্থ্যের চেয়ে কিছু বড় হতে পারে না।

মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পুনর্বাসন বিভাগের প্রধান বিনা আমপেরা বুকিত বলেন, ‘জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) ২০২১ সালের তথ্যমতে, ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ অর্থাৎ ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ই-সিগারেট ব্যবহার করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ‘ডিজিটাল বিষ’-এর হাত থেকে রক্ষা করতে সংসদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

শিশু নির্যাতন ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বললেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
শিশু নির্যাতন ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বললেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

শিশু নির্যাতনকে ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বলেছেন ভারতের মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ছয় থেকে আট বছর বয়সি তিনটি মেয়েকে বারবার যৌন নির্যাতনে দোষী এক ব্যক্তিকে বিশেষ পকসো আদালত কর্তৃক দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এ সময় আদালত শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অপরাধকে ‘খুনের চেয়েও জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বুধবার (১ জুন) দোষীর আপিল খারিজ করে ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘সামান্য অতিরঞ্জন’ সত্ত্বেও বেঁচে যাওয়া তিন শিশুর সাক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বাভাবিক এবং বিশ্বাসযোগ্য ছিল। আদালত পকসো আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, যার মধ্যে যৌন নির্যাতন, ভীতি প্রদর্শন, গৃহে অনধিকার প্রবেশ এবং অবৈধভাবে আটকে রাখা অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোর অধীনেও এই দণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, অভিযুক্তরা প্রায় এক বছর ধরে প্রতি শনিবার শিশুদেরকে বারবার একটি বাড়িতে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যেতেন, ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতেন এবং তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন। এক মা তার মেয়েকে অন্য এক শিশুর সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে শুনলে, এ নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ মামলা করে।

ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দেওয়া শিশুদের জবানবন্দি এবং বিচার চলাকালীন তাদের সাক্ষ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় আদালত মূল অভিযোগের ওপর মনোযোগ দিতে বলেন।

এ ছাড়াও সামাজিক কলঙ্ক এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মানসিক আঘাতের কারণে পরিবারগুলোর দ্বিধার কারণে বেঞ্চ আরও বলেন, ‘যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যখন তা কোনো শিশুর সঙ্গে সম্পর্কিত, তখন অভিযোগ করতে বিলম্ব কখনোই অজুহাত হতে পারে না।’

তবে সাজা বহাল রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বলেন, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যই মূল তথ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে পকসো আইনের ২৯ ও ৩০ ধারার অধীনে বিপরীত দায়ভার বর্তায়, যা অভিযুক্তরা খণ্ডন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়?

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। গড়ে একজন ব্যবহারকারী প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় কাটান এসব প্ল্যাটফর্মে, যা বছরে ৪০ দিনেরও বেশি। আপনার যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এই হিসাবের সঙ্গে কতটা মেলে?

প্রতিবছর ৩০ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডে’। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ম্যাশেবল ২০১০ সালে দিনটি চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাড়তে থাকা প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া। ১৬ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এখন বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালে বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০ কোটিরও কম। ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৭ কোটিতে। আর ২০২৫ সালে এই সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৬৬ কোটিতে। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তার এ বৃদ্ধির বড় কারণ।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের তথ্য প্রকাশকারী প্ল্যাটফর্ম ডেটারিপোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, একজন সক্রিয় ব্যবহারকারী সপ্তাহে গড়ে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
এই হিসাবে একজন মানুষ বছরে ৪০ দিনের বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেন। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের গড় হার ৬৮ শতাংশ। তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এ হার আরও বেশি।

জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী রয়েছে পূর্ব এশিয়ায়। সেখানে ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। এরপর রয়েছে উত্তর ইউরোপ। সেখানে ব্যবহারকারীর হার ৭৯ শতাংশ। পশ্চিম ইউরোপে এ হার ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় ৭৪ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী রয়েছে মধ্য আফ্রিকায়। সেখানে মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। পূর্ব আফ্রিকায় এ হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। আর পশ্চিম আফ্রিকায় ১৯ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে ডেটারিপোর্টাল।

পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টা, গবেষণা সংস্থা কেপিওসের সহযোগিতায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

গত অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফেসবুক। প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০৭ কোটি। ফেসবুকে এখন সব ধরনের ভিডিওর জন্য ‘রিলস’ ডিফল্ট ফরম্যাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটি করে। ফেসবুক ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম এবং ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে।

গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫৮ কোটি। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিকভাবে যাত্রা শুরু করা টিকটকের ব্যবহারকারী প্রায় ১৯৯ কোটি বলে ধারণা করা হয়। তবে বিভিন্ন সূত্রে এ সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাড়তে থাকা ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে নানা দেশে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে কম বয়সীদের জন্য ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ও ‘অটোপ্লে’র মতো আসক্তিকর ফিচার নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ বিষয়ে কোনো একক আইন কার্যকর হয়নি। তবে কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পথ দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত ডিসেম্বরে দেশটি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে।

এরপর আরও কয়েকটি দেশ একই পথে হেঁটেছে। গত মার্চে ইন্দোনেশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। এ ধরনের আইন কার্যকর করা এশিয়ার প্রথম দেশ এটি।

একই মাসে কার্যকর হওয়া ব্রাজিলের ‘ডিজিটাল স্ট্যাটিউট অব চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্টস’ আইনে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট একজন অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো আসক্তিকর ফিচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে তুরস্ক ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি আইন পাস করে।

চলতি জুনে যুক্তরাজ্য সরকারও ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট মানুষের বিকল্প হতে কতদূর

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
মানুষের বিকল্প হতে কতদূর
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিওতে তাদের নিখুঁত নাচ কিংবা চোখ ধাঁধানো ডিগবাজি দেখে পুরো বিশ্ব মুগ্ধ। চীনের হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবটগুলো এখন বিশ্বজুড়ে এক বড় আকর্ষণ। প্রযুক্তির এই চমৎকার রূপটি এখন আলোড়ন তৈরি করেছে চীনের ভাড়ার বাজারে। তবে এই ব্যবসাই একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির আসল সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে দিচ্ছে। রোবটগুলো দেখতে যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, বাস্তবে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে তারা এখনো অনেক দূরে।

হাংঝুর ই-কমার্স লাইভস্ট্রিমার আই লিন গত বছর একটি অনুষ্ঠানে রোবটদের নাচ দেখেন। এতে তিনি নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজে পান। তিনি ৩০ হাজার ডলার খরচ করে নিজের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড রোবট কেনেন। এরপর শুরু করেন রোবট ভাড়ার ব্যবসা। প্রতিদিন ৩ হাজার ইউয়ান (৪৪৩ ডলার) ভাড়ায় গ্রাহকরা এই রোবট নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ভিড় জমাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজাতে মানুষ এগুলো ভাড়া করছে।

তবে এই ব্যবসাই প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। কারখানা বা ঘরের কাজে মানুষের জায়গা নিতে এদের এখনো বহু বছর বাকি। আই লিন বলেন, ‘আজকের রোবটগুলো নিজে নিজে কাজ করতে পারে না। এগুলো মূলত বড় আকারের খেলনা।’

তবুও বেইজিং এই প্রযুক্তিতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও কমতে থাকা কর্মক্ষম জনসংখ্যা সামলাতে চীন একে কৌশলগত প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারে আসতে পারে। এর বাজার হবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হতে আরও অন্তত এক দশক লাগবে।

বর্তমানে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রোবট ভাড়ার বিজ্ঞাপনে সয়লাব। দেশটিতে এখন ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি রোবট ভাড়ার ব্যবসা রয়েছে। চীনের অন্যতম প্রধান রোবট নির্মাতা ‘এজিবোট’ গত বছর ‘শেয়ারবোট’ নামে একটি ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান চালু করে। তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫০০ ইউয়ানে (৫১৭ ডলার) রোবট ভাড়া করা যায়। চালুর তিন মাসের মধ্যে তারা ৫,৫০০টির বেশি অর্ডার পেয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ঝাও জিয়াওহং জানান, রোবটের নতুনত্ব কমে আসায় ভাড়ার দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে একই ধরনের রোবট বেশি চলে আসায় মানুষের মধ্যে ক্লান্তি চলে আসছে।

বাস্তব জগতের কাজের তথ্যের অভাব এই শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ। রোবট নির্মাতারা শারীরিক কাজের তথ্যের জন্য ঘণ্টায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত খরচ করছেন। গবেষণাগারে প্রশিক্ষকরা রিমোট দিয়ে রোবটদের প্যাকেট বাছাই বা ডায়াপার পরিবর্তনের মতো কাজ বারবার শেখাচ্ছেন।

এ ছাড়া হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। রোবটের হাতের কার্যক্ষমতা এখনো অনেক কম। যন্ত্রাংশ বেশি হওয়ায় তাপ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় সমস্যা। এর উৎপাদন খরচ বেশি এবং স্থায়িত্ব কম। চীনের অন্যতম বড় রোবট কোম্পানি ‘ইউবিটেক’ জানিয়েছে, তাদের উন্নত রোবটগুলো নির্দিষ্ট কিছু কাজে মানুষের মাত্র ৮০ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে।

তবুও চীন স্বয়ংক্রিয় ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী। বেইজিং, সাংহাইয়ের মতো শহরে রোবট এখন কফি বা বিয়ার পরিবেশন করছে। ২০২৩ সালে বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবটকে পরবর্তী বড় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে চীনে ১৪০টির বেশি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। তারা আনাড়ি হলেও ধীরে ধীরে জনগণের নজরে আসছে।