ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর বর্ণবাদের শিকার টাইব্রেকারে মিস করা ফুটবলাররা ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত! রেশন-ভাতা হারানোর শঙ্কায় মুসলিমরা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি আমি চাই: এমবাপ্পে রোনালদোর অনন্য রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, ধারের কাছেও নেই মেসি সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা! ফেভারিট বেলজিয়ামের সামনে লড়াকু সেনেগাল ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’ শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম কী? মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে বুনো উদ্ভিদ বেগুনি হুড়হুড়ে জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত!

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত!
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন–তেহরান সমঝোতা স্মারকের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরকালে গণমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্যগুলোয় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসরায়েলপন্থি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, তখন তার ডেপুটি জেডি ভ্যান্স ওই চুক্তির পক্ষে গণমাধ্যমে জোরালো প্রচার চালান।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এ সময় বলেন, “আমাদের ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। এবং ইরানের সঙ্গে একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘খুব ভালো ভিত্তি’ স্থাপিত হয়েছে।” এ ছাড়াও সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স সমঝোতা স্মারকটির প্রতি ইসরায়েলের প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে সেই দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।

ইসরায়েলিদের সমস্যা সমাধানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। আপনাদের প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারেন না।’

অন্যদিকে দেখা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন এবং এর পরিবর্তে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে রুবিও বাহরাইনে গিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ (হরমুজ প্রণালি) কোনো জাতি-রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়।’  

ফলে এসব মন্তব্যের জের ধরে আলোচনা শুরু হয়েছে ভ্যান্স ও রুবিওর আপাতদৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী মন্তব্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না। তবে হোয়াইট হাউস এ মতপার্থক্যের কথা অস্বীকার করেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনে কোনো মতভেদ নেই এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টাকে পুরো প্রশাসন পুরোপুরি সমর্থন করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ভ্যান্স ও রুবিও’র মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কোনো মতপার্থক্য থাকার ধারণাকে একটি ‘পুরোনো ও ভুয়া’ বয়ান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শতভাগ একমত।’ সূত্র: আল-জাজিরা

কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়?

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। গড়ে একজন ব্যবহারকারী প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় কাটান এসব প্ল্যাটফর্মে, যা বছরে ৪০ দিনেরও বেশি। আপনার যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এই হিসাবের সঙ্গে কতটা মেলে?

প্রতিবছর ৩০ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডে’। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ম্যাশেবল ২০১০ সালে দিনটি চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাড়তে থাকা প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া। ১৬ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এখন বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালে বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০ কোটিরও কম। ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৭ কোটিতে। আর ২০২৫ সালে এই সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৬৬ কোটিতে। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তার এ বৃদ্ধির বড় কারণ।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের তথ্য প্রকাশকারী প্ল্যাটফর্ম ডেটারিপোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, একজন সক্রিয় ব্যবহারকারী সপ্তাহে গড়ে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
এই হিসাবে একজন মানুষ বছরে ৪০ দিনের বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেন। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের গড় হার ৬৮ শতাংশ। তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এ হার আরও বেশি।

জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী রয়েছে পূর্ব এশিয়ায়। সেখানে ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। এরপর রয়েছে উত্তর ইউরোপ। সেখানে ব্যবহারকারীর হার ৭৯ শতাংশ। পশ্চিম ইউরোপে এ হার ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় ৭৪ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী রয়েছে মধ্য আফ্রিকায়। সেখানে মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। পূর্ব আফ্রিকায় এ হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। আর পশ্চিম আফ্রিকায় ১৯ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে ডেটারিপোর্টাল।

পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টা, গবেষণা সংস্থা কেপিওসের সহযোগিতায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

গত অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফেসবুক। প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০৭ কোটি। ফেসবুকে এখন সব ধরনের ভিডিওর জন্য ‘রিলস’ ডিফল্ট ফরম্যাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটি করে। ফেসবুক ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম এবং ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে।

গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫৮ কোটি। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিকভাবে যাত্রা শুরু করা টিকটকের ব্যবহারকারী প্রায় ১৯৯ কোটি বলে ধারণা করা হয়। তবে বিভিন্ন সূত্রে এ সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাড়তে থাকা ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে নানা দেশে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে কম বয়সীদের জন্য ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ও ‘অটোপ্লে’র মতো আসক্তিকর ফিচার নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ বিষয়ে কোনো একক আইন কার্যকর হয়নি। তবে কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পথ দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত ডিসেম্বরে দেশটি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে।

এরপর আরও কয়েকটি দেশ একই পথে হেঁটেছে। গত মার্চে ইন্দোনেশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। এ ধরনের আইন কার্যকর করা এশিয়ার প্রথম দেশ এটি।

একই মাসে কার্যকর হওয়া ব্রাজিলের ‘ডিজিটাল স্ট্যাটিউট অব চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্টস’ আইনে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট একজন অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো আসক্তিকর ফিচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে তুরস্ক ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি আইন পাস করে।

চলতি জুনে যুক্তরাজ্য সরকারও ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট মানুষের বিকল্প হতে কতদূর

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
মানুষের বিকল্প হতে কতদূর
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিওতে তাদের নিখুঁত নাচ কিংবা চোখ ধাঁধানো ডিগবাজি দেখে পুরো বিশ্ব মুগ্ধ। চীনের হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবটগুলো এখন বিশ্বজুড়ে এক বড় আকর্ষণ। প্রযুক্তির এই চমৎকার রূপটি এখন আলোড়ন তৈরি করেছে চীনের ভাড়ার বাজারে। তবে এই ব্যবসাই একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির আসল সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে দিচ্ছে। রোবটগুলো দেখতে যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, বাস্তবে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে তারা এখনো অনেক দূরে।

হাংঝুর ই-কমার্স লাইভস্ট্রিমার আই লিন গত বছর একটি অনুষ্ঠানে রোবটদের নাচ দেখেন। এতে তিনি নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজে পান। তিনি ৩০ হাজার ডলার খরচ করে নিজের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড রোবট কেনেন। এরপর শুরু করেন রোবট ভাড়ার ব্যবসা। প্রতিদিন ৩ হাজার ইউয়ান (৪৪৩ ডলার) ভাড়ায় গ্রাহকরা এই রোবট নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ভিড় জমাতে বা বিয়ের অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজাতে মানুষ এগুলো ভাড়া করছে।

তবে এই ব্যবসাই প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। কারখানা বা ঘরের কাজে মানুষের জায়গা নিতে এদের এখনো বহু বছর বাকি। আই লিন বলেন, ‘আজকের রোবটগুলো নিজে নিজে কাজ করতে পারে না। এগুলো মূলত বড় আকারের খেলনা।’

তবুও বেইজিং এই প্রযুক্তিতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও কমতে থাকা কর্মক্ষম জনসংখ্যা সামলাতে চীন একে কৌশলগত প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারে আসতে পারে। এর বাজার হবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হতে আরও অন্তত এক দশক লাগবে।

বর্তমানে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রোবট ভাড়ার বিজ্ঞাপনে সয়লাব। দেশটিতে এখন ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি রোবট ভাড়ার ব্যবসা রয়েছে। চীনের অন্যতম প্রধান রোবট নির্মাতা ‘এজিবোট’ গত বছর ‘শেয়ারবোট’ নামে একটি ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান চালু করে। তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫০০ ইউয়ানে (৫১৭ ডলার) রোবট ভাড়া করা যায়। চালুর তিন মাসের মধ্যে তারা ৫,৫০০টির বেশি অর্ডার পেয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ঝাও জিয়াওহং জানান, রোবটের নতুনত্ব কমে আসায় ভাড়ার দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে একই ধরনের রোবট বেশি চলে আসায় মানুষের মধ্যে ক্লান্তি চলে আসছে।

বাস্তব জগতের কাজের তথ্যের অভাব এই শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ। রোবট নির্মাতারা শারীরিক কাজের তথ্যের জন্য ঘণ্টায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত খরচ করছেন। গবেষণাগারে প্রশিক্ষকরা রিমোট দিয়ে রোবটদের প্যাকেট বাছাই বা ডায়াপার পরিবর্তনের মতো কাজ বারবার শেখাচ্ছেন।

এ ছাড়া হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। রোবটের হাতের কার্যক্ষমতা এখনো অনেক কম। যন্ত্রাংশ বেশি হওয়ায় তাপ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় সমস্যা। এর উৎপাদন খরচ বেশি এবং স্থায়িত্ব কম। চীনের অন্যতম বড় রোবট কোম্পানি ‘ইউবিটেক’ জানিয়েছে, তাদের উন্নত রোবটগুলো নির্দিষ্ট কিছু কাজে মানুষের মাত্র ৮০ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে।

তবুও চীন স্বয়ংক্রিয় ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী। বেইজিং, সাংহাইয়ের মতো শহরে রোবট এখন কফি বা বিয়ার পরিবেশন করছে। ২০২৩ সালে বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবটকে পরবর্তী বড় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে চীনে ১৪০টির বেশি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। তারা আনাড়ি হলেও ধীরে ধীরে জনগণের নজরে আসছে।

ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত!

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত!
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন–তেহরান সমঝোতা স্মারকের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরকালে গণমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্যগুলোয় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসরায়েলপন্থি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, তখন তার ডেপুটি জেডি ভ্যান্স ওই চুক্তির পক্ষে গণমাধ্যমে জোরালো প্রচার চালান।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এ সময় বলেন, “আমাদের ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। এবং ইরানের সঙ্গে একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘খুব ভালো ভিত্তি’ স্থাপিত হয়েছে।” এ ছাড়াও সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স সমঝোতা স্মারকটির প্রতি ইসরায়েলের প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে সেই দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।

ইসরায়েলিদের সমস্যা সমাধানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। আপনাদের প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারেন না।’

অন্যদিকে দেখা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন এবং এর পরিবর্তে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে রুবিও বাহরাইনে গিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ (হরমুজ প্রণালি) কোনো জাতি-রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়।’  

ফলে এসব মন্তব্যের জের ধরে আলোচনা শুরু হয়েছে ভ্যান্স ও রুবিওর আপাতদৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী মন্তব্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না। তবে হোয়াইট হাউস এ মতপার্থক্যের কথা অস্বীকার করেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনে কোনো মতভেদ নেই এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টাকে পুরো প্রশাসন পুরোপুরি সমর্থন করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ভ্যান্স ও রুবিও’র মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কোনো মতপার্থক্য থাকার ধারণাকে একটি ‘পুরোনো ও ভুয়া’ বয়ান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শতভাগ একমত।’ সূত্র: আল-জাজিরা

লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯টি শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহনা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৪টি শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি পাঁচজন শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ছাদ ধসে পড়ার ঠিক ওই মুহূর্তটিতে কোচিং সেন্টারটির ভেতরে ৩০ জনেরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়ায় অনেকেই ভেতরে আটকা পড়ে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটির ওপরের তলায় নতুন করে কিছু নির্মাণকাজ চলছিল। আজ মঙ্গলবার নিচতলায় যখন শিশুদের নিয়মিত ক্লাস চলছিল, ঠিক তখনই ওপরের তলার ছাদটি ধসে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। 

হৃদয়বিদারক এই ছাদ ধসের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের অভিযোগে পুলিশ ওই ভবনের মালিকসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

এসএন/

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ জন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ জন
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার মানুষ গত সপ্তাহের পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন। জীবিতদের খুঁজে বের করার সুযোগ দ্রুত কমে আসায় তৈরি হওয়া এ মানবিক সংকট বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। 

সোমবার (২৯ জুন) কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার উত্তরাঞ্চলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়াও কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। এতে অর্থসংকটে থাকা সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে এবং ইতোমধ্যেই গৃহহীনদের আশ্রয় ও খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।

উদ্ধারকারীরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ খুঁজে বের করা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সময়সীমা গত শনিবার শেষ হয়েছে।

বেসামরিক এক প্রতিরক্ষাকর্মী তার ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে বলেন, ’খাবার বা ঘুম ছাড়াই আমাদের শক্ত থাকতে হবে। তবে যতক্ষণ না আমি মরদেহটি দেখছি, আমার আশা আছে।’

তবে খুব ধীরে উদ্ধার কাজ করায় এবং তাদের গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপক প্রচারের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কর্মকর্তারা।

যদিও পুলিশ ও সেনারা লা গুয়াইরার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের মধ্যে টুনা মাছের ক্যান ও ক্র্যাকার্স বিতরণ করেছে।

অন্যদিকে দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, রাজ্যের ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনস্থাপন করা হয়েছে এবং ১৫টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/