ওয়াশিংটন–তেহরান সমঝোতা স্মারকের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরকালে গণমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্যগুলোয় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসরায়েলপন্থি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, তখন তার ডেপুটি জেডি ভ্যান্স ওই চুক্তির পক্ষে গণমাধ্যমে জোরালো প্রচার চালান।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এ সময় বলেন, “আমাদের ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। এবং ইরানের সঙ্গে একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘খুব ভালো ভিত্তি’ স্থাপিত হয়েছে।” এ ছাড়াও সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স সমঝোতা স্মারকটির প্রতি ইসরায়েলের প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে সেই দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
ইসরায়েলিদের সমস্যা সমাধানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। আপনাদের প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারেন না।’
অন্যদিকে দেখা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন এবং এর পরিবর্তে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে রুবিও বাহরাইনে গিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ (হরমুজ প্রণালি) কোনো জাতি-রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়।’
ফলে এসব মন্তব্যের জের ধরে আলোচনা শুরু হয়েছে ভ্যান্স ও রুবিওর আপাতদৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী মন্তব্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য আছে কি না। তবে হোয়াইট হাউস এ মতপার্থক্যের কথা অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনে কোনো মতভেদ নেই এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টাকে পুরো প্রশাসন পুরোপুরি সমর্থন করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ভ্যান্স ও রুবিও’র মধ্যে পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কোনো মতপার্থক্য থাকার ধারণাকে একটি ‘পুরোনো ও ভুয়া’ বয়ান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শতভাগ একমত।’ সূত্র: আল-জাজিরা