ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর বর্ণবাদের শিকার টাইব্রেকারে মিস করা ফুটবলাররা ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত! রেশন-ভাতা হারানোর শঙ্কায় মুসলিমরা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি আমি চাই: এমবাপ্পে রোনালদোর অনন্য রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, ধারের কাছেও নেই মেসি সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা! ফেভারিট বেলজিয়ামের সামনে লড়াকু সেনেগাল ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’ শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম কী? মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে বুনো উদ্ভিদ বেগুনি হুড়হুড়ে জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর অতিক্রম করে ১০৬ বছরে পদার্পণ করছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে জ্ঞানচর্চার এই বিদ্যাপীঠ শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান এবং জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান বাতিঘর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

বাংলার ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমেই সংযুক্ত হয়েছে। ভাষার অধিকারের প্রশ্নে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন; প্রতিটি পর্বেই এই ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের ভাষা, সাহসের ঠিকানা। ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শুধু দর্শক হয়ে থাকেননি; বরং সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, উৎসর্গ করেছেন জীবন, লিখেছেন জাতির নতুন অধ্যায়।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই জ্ঞানচর্চায় খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জন্ম, বিকাশ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ খুব বেশি নেই। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও বিবর্তনের জীবন্ত দলিল।

এই প্রতিষ্ঠানের জন্মও ঘটে দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের দাবির প্রেক্ষাপটে ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ পূর্ববঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ঢাকার উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার এবং উচ্চশ্রেণির মুসলমানদের মিলিত উদ্যোগে এগিয়ে যায় সেই স্বপ্ন। জগন্নাথ হলের জন্য জমি ও অর্থ দান করেন বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল। কার্জন হলের জন্য ভাওয়াল রাজকুমাররা জমি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন মুসলিম নেতারাও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯১২ সালে ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির প্রতিবেদন এবং একই বছরের স্যাডলার কমিশনের ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় পাস হয় ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯২০।’ এরপর ১৯২১ সালের ১ জুলাই রমনার সবুজ প্রান্তরে প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজকের সেই দিনটিই উদযাপিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে।

এবারের ১০৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ প্রতিপাদ্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠান বরাবর সমাজ, রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রঙিন হবে পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। টিএসসি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করবেন জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে দেবে আন্তর্জাতিকতার ভিন্ন মাত্রা।

এরপর টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। একই দিনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগেও আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নেবেন।

দিবসটি ঘিরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কেবল তার র‌্যাঙ্কিং, গবেষণা কিংবা অবকাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কতটা সমাজকে বদলে দিতে পেরেছে, মানুষের মুক্তচিন্তাকে কতটা বিকশিত করেছে এবং সংকটের মুহূর্তে কতটা সাহসের সঙ্গে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তার প্রকৃত মহিমা। সেই বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।

তাই ১০৬ বছরে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুই অতীতের গৌরবের স্মৃতিস্তম্ভ নয়। এটি আগামী দিনেরও প্রেরণা, যেখানে জ্ঞানের আলো, মুক্তচিন্তার সাহস এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে এবং অতীতের মতো আগামী দিনেও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম আশ্রয় হয়ে থাকবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিদ্যায়তনটি। শুভ জন্মদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর অতিক্রম করে ১০৬ বছরে পদার্পণ করছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে জ্ঞানচর্চার এই বিদ্যাপীঠ শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান এবং জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান বাতিঘর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

বাংলার ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমেই সংযুক্ত হয়েছে। ভাষার অধিকারের প্রশ্নে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন; প্রতিটি পর্বেই এই ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের ভাষা, সাহসের ঠিকানা। ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শুধু দর্শক হয়ে থাকেননি; বরং সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, উৎসর্গ করেছেন জীবন, লিখেছেন জাতির নতুন অধ্যায়।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই জ্ঞানচর্চায় খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জন্ম, বিকাশ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ খুব বেশি নেই। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও বিবর্তনের জীবন্ত দলিল।

এই প্রতিষ্ঠানের জন্মও ঘটে দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাংলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের দাবির প্রেক্ষাপটে ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ পূর্ববঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ঢাকার উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার এবং উচ্চশ্রেণির মুসলমানদের মিলিত উদ্যোগে এগিয়ে যায় সেই স্বপ্ন। জগন্নাথ হলের জন্য জমি ও অর্থ দান করেন বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল। কার্জন হলের জন্য ভাওয়াল রাজকুমাররা জমি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন মুসলিম নেতারাও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯১২ সালে ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির প্রতিবেদন এবং একই বছরের স্যাডলার কমিশনের ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় পাস হয় ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯২০।’ এরপর ১৯২১ সালের ১ জুলাই রমনার সবুজ প্রান্তরে প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজকের সেই দিনটিই উদযাপিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে।

এবারের ১০৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’ প্রতিপাদ্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠান বরাবর সমাজ, রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রঙিন হবে পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। টিএসসি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করবেন জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে দেবে আন্তর্জাতিকতার ভিন্ন মাত্রা।

এরপর টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। একই দিনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগেও আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নেবেন।

দিবসটি ঘিরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কেবল তার র‌্যাঙ্কিং, গবেষণা কিংবা অবকাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কতটা সমাজকে বদলে দিতে পেরেছে, মানুষের মুক্তচিন্তাকে কতটা বিকশিত করেছে এবং সংকটের মুহূর্তে কতটা সাহসের সঙ্গে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তার প্রকৃত মহিমা। সেই বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।

তাই ১০৬ বছরে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুই অতীতের গৌরবের স্মৃতিস্তম্ভ নয়। এটি আগামী দিনেরও প্রেরণা, যেখানে জ্ঞানের আলো, মুক্তচিন্তার সাহস এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে এবং অতীতের মতো আগামী দিনেও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম আশ্রয় হয়ে থাকবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিদ্যায়তনটি। শুভ জন্মদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এআই-ভিত্তিক ডায়নামিক প্রেসক্রিপশন প্ল্যাটফর্ম ‘বায়োনাইট’ (Bionyte)। ভেটেরিনারিয়ান ও ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এ প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রথম এআই-ভিত্তিক ডায়নামিক ভেটেরিনারি প্রেসক্রিপশন সিস্টেম হিসেবে দাবি করছেন এর নির্মাতারা।

মানুষের চিকিৎসার তুলনায় পশু চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল কিংবা পোলট্রিসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য আলাদা ডোজ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। এর ওজন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে ওষুধের মাত্রা। এই জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে বায়োনাইট।

ক্লাসরুম থেকে শুরু

বায়োনাইটের প্রতিষ্ঠাতা আনিসুর রহমান খান বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের লেভেল-৫, সেমিস্টার-১-এর শিক্ষার্থী।তিনি জানান, ফার্ম অ্যানিম্যাল মেডিসিন কোর্স করার সময় একই ওষুধের ডোজ প্রাণীর ওজন অনুযায়ী বারবার হিসাব করতে হতো। এতে সময় যেমন বেশি লাগত, তেমনি ভুল হওয়ার আশঙ্কাও থাকত।

 তিনি বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই ভাবতে শুরু করি, কীভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে এই কাজ আরও দ্রুত ও সহজ করা যায়।
সেই ভাবনা থেকেই আনিসুর রহমান খান ভেটেরিনারি চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বায়োনাইট।

দেড় বছরের গবেষণা ও উন্নয়ন

২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োনাইটের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে প্রায় দেড় বছর ধরে চলে গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ। প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সফটওয়্যার নির্মাণের বেশির ভাগ কাজ নিজেই সম্পন্ন করেছেন আনিসুর রহমান। পাশাপাশি ড্রাগ ডোজ ক্যালকুলেশন, চিকিৎসা নির্দেশনা এবং বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য প্রস্তুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে কাজ করে

বায়োনাইটের প্রেসক্রিপশন মডিউলে ব্যবহারকারী প্রথমে প্রাণীর প্রজাতি, ওজন, রোগের ইতিহাস এবং ক্লিনিক্যাল লক্ষণ ইনপুট করেন। এরপর এআই-সমর্থিত সিস্টেমটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগ, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং ওষুধ ও ডোজসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে ম্যানুয়ালি রোগ নির্বাচন করেও প্রেসক্রিপশন তৈরি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও প্রজাতি ও ওজনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ডোজ ক্যালকুলেশনের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে ডোজ হিসাব করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়। এ ছাড়া প্রেসক্রিপশন সম্পাদনার সুবিধাও রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সংযোজন, অপসারণ কিংবা ডোজ পরিবর্তন করা যায় সহজেই।

এআই ও তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তির সমন্বয়

বায়োনাইটে নিজস্বভাবে তৈরি ডোমেইনভিত্তিক রুলস ও অ্যালগরিদমের পাশাপাশি আধুনিক রিজনিং-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ডোজ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন স্বীকৃত উৎস থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ভেটেরিনারি ড্রাগ ম্যানুয়াল, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ড্রাগ নির্দেশিকা, একাডেমিক নোট, ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন এবং বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ।

প্রাথমিক পর্যায়েই ইতিবাচক সাড়া

বর্তমানে বায়োনাইট পরীক্ষামূলক ও সীমিত ব্যবহার পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৩ বার ড্রাগ রিডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত প্রেসক্রিপশন প্রস্তুতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় ডোজ ক্যালকুলেশনের ফলে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন ফিচার সংযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তার। এ ছাড়া ভেটেরিনারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মডিউল, রোগের প্রবণতা বিশ্লেষণ, ডেটা-চালিত রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, সম্ভাব্য জুনোটিক ঝুঁকি (প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামিত হতে পারে এমন রোগ) শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেবার বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বায়োনাইটের প্রতিষ্ঠাতা আনিসুর রহমান খান বলেন, ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করাই আমাদের লক্ষ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমন্বয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি (প্রাণীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, প্রসূতিবিদ্যা এবং স্ত্রী-রোগসংক্রান্ত বিশেষায়িত শাখা) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্ল্যাটফর্মটি দেখেছি। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে অনেক শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং উন্নয়ন প্রয়োজন। আমি আশা করি, সময়ের সঙ্গে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসা খাতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’

ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন
সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনার নিজ কক্ষে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। গঠিত কমিটিকে উপাচার্যের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭৪তম (সাধারণ) সভার ৩২ নং প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ অফিস কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভাইস-চ্যানসেলর মহোদয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছেন তা বিবেচনার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়। প্রস্তাবটি আলোচনার পর এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গঠিত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য বরারব রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়।

৪ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে আহ্বায়ক ও একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মাছুদুল হক তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (পি আর এল) ড. আশরাফুর রহমান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন- কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। 

পরে গত ৭ মার্চ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা), মো. গোলাম মওলাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম

শিক্ষায় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
শিক্ষায় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

‎শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট (বামপন্থী বামপন্থী, প্রগতিশীল কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের একটি সমন্বিত মোর্চা)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অংশ বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি ‎নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘কোনো কিছুই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে নয়। শিক্ষা সম্পর্কে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না বলে সরকার বদলালেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ে না।’

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি ‎সমর চাকমা বলেন, ‘সমতল এবং পাহাড়ের সংখ্যালুঘু শিক্ষার্থীরা বরাবরই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বৈষম্যটা আরো বেশি। দুর্গম অঞ্চলের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা আরও প্রাথমিক স্তরেই ঝড়ে যায়। পাহাড় সমতলে সংখ্যালুঘুদের শিক্ষার বৈষম্য, দমনপীড়ন জারি রেখে বাংলাদেশ কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।’

‎সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাখাতে ২৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা উচিত । এশিয়ার অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না। এ জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’

এসময় ‎বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। 

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েল (ডুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের আয়োজিত ‘ডুয়েট সিএসই কার্নিভাল ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করে সফলতা অর্জন করেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দল।

সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লড়ে জাতীয় পর্যায়ে ৫ম স্থান অর্জন করেছে তারা। এই প্রতিযোগিতায় ‘নেক্সট জেন’ দল নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

জনসংযোগ শাখা জানায়, ‘নেক্সট জেন’ দলের সদস্য জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সানদিদ হক চৌধুরী এবং আমানুর রহমান আমান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে ৫ম স্থান অর্জন তাদের প্রস্তুতি, মেধা, সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়েই তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। এই কার্নিভালে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধান, দলগত সমন্বয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।

এ অর্জন সম্পর্কে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী বলেন, ’বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ডুয়েট সিএসই কার্নিভাল ২০২৬-এর মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনা প্রকাশের একটি অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে। ‘নেক্সট জেন’ দলের প্রচেষ্টা এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, আমাদের তরুণরা সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে। আমি তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।’

এই সাফল্যকে অভিনন্দিত করেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্ৰাফি এন্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির (মুগাস) সভাপতি আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রীতম পাল এবং কোষাধ্যক্ষ ইসরার নাজাহ চৌধুরীও ‘নেক্সট জেন’ দলের এই অসাধারণ অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ভবিষ্যতে ‘নেক্সট জেন’ দল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

খাদিজা রুমি/