ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর বর্ণবাদের শিকার টাইব্রেকারে মিস করা ফুটবলাররা ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত! রেশন-ভাতা হারানোর শঙ্কায় মুসলিমরা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি আমি চাই: এমবাপ্পে রোনালদোর অনন্য রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, ধারের কাছেও নেই মেসি সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা! ফেভারিট বেলজিয়ামের সামনে লড়াকু সেনেগাল ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’ শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম কী? মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে বুনো উদ্ভিদ বেগুনি হুড়হুড়ে জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রূপকথার খোঁজে কঙ্গো গিলের রূপকথার দুই হাত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে নতুন প্রতিপক্ষ ‘হিট ডোম’ শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, ম্যাচ কবে? ক্লোসাকে ছাড়িয়ে মেসির আরও কাছে এমবাপ্পে

ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রকল্পে শত শত দরিদ্র শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। শ্রমিকের বদলে চলছে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিন। আর তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ব্ল্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে। বিষয়টি তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ৫৯৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে তাদের উপস্থিতি মেলেনি। খালের পাশে দেখা যায় মাত্র কয়েকজন তদারককারীকে। জানা গেছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে অগ্রিম সই নিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। কাজের তদারকিতে থাকা মুন্না মিয়া বলেন, ‘আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। প্রতিদিন ৮০০ টাকা করে পাই। সরকারি তালিকাভুক্ত শ্রমিক এখানে কাজ করেন না।’

স্থানীয় কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, এলাকার শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। পরে চেক বইয়ের খালি পাতায় সই করিয়ে সেই চেক নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। একই অভিযোগ করেন প্রকল্পের তালিকাভুক্ত শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে শুধু সেদিন আমাদের ডাকা হয়। দুই-তিন দিনের বেশি কাজ করিনি। আমার কাছ থেকে খালি চেকে সই নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার টাকা পেয়েছি।’ স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে অধিকাংশ খননকাজ ভেকু মেশিনেই করা হচ্ছে। খালের বিভিন্ন স্থানে এখনো পানি জমে থাকায় প্রকৃত তলদেশ কতটা খনন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে খাল খনন, পুনর্খনন ও সংস্কারকাজে ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৬৩ জেলার ২৪৯ উপজেলায় ৩৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফুলবাড়িয়ার দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। ১০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, বক্স কালভার্ট ও আরসিসি পাইপ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির উদ্বোধনের সময় জানানো হয়েছিল, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং শত শত অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কর্মসংস্থানের বদলে মেশিননির্ভর কাজ চলায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫৯৫ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন কাজ করেন। তবে শ্রমিকদের ব্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইদুল হক বলেন, নিয়ম মেনেই ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। বিল দেওয়ার আগে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ এখনো চলমান।

সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। কিন্তু যদি শ্রমিকের জায়গা দখল করে নেয় মেশিন, আর শ্রমিকদের নামে ব্ল্যাংক চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে শুধু একটি প্রকল্প নয়, সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রকল্পে শত শত দরিদ্র শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। শ্রমিকের বদলে চলছে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিন। আর তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ব্ল্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে। বিষয়টি তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ৫৯৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে তাদের উপস্থিতি মেলেনি। খালের পাশে দেখা যায় মাত্র কয়েকজন তদারককারীকে। জানা গেছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে অগ্রিম সই নিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। কাজের তদারকিতে থাকা মুন্না মিয়া বলেন, ‘আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। প্রতিদিন ৮০০ টাকা করে পাই। সরকারি তালিকাভুক্ত শ্রমিক এখানে কাজ করেন না।’

স্থানীয় কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, এলাকার শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। পরে চেক বইয়ের খালি পাতায় সই করিয়ে সেই চেক নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। একই অভিযোগ করেন প্রকল্পের তালিকাভুক্ত শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে শুধু সেদিন আমাদের ডাকা হয়। দুই-তিন দিনের বেশি কাজ করিনি। আমার কাছ থেকে খালি চেকে সই নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার টাকা পেয়েছি।’ স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে অধিকাংশ খননকাজ ভেকু মেশিনেই করা হচ্ছে। খালের বিভিন্ন স্থানে এখনো পানি জমে থাকায় প্রকৃত তলদেশ কতটা খনন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে খাল খনন, পুনর্খনন ও সংস্কারকাজে ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৬৩ জেলার ২৪৯ উপজেলায় ৩৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফুলবাড়িয়ার দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। ১০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, বক্স কালভার্ট ও আরসিসি পাইপ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির উদ্বোধনের সময় জানানো হয়েছিল, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং শত শত অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কর্মসংস্থানের বদলে মেশিননির্ভর কাজ চলায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫৯৫ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন কাজ করেন। তবে শ্রমিকদের ব্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইদুল হক বলেন, নিয়ম মেনেই ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। বিল দেওয়ার আগে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ এখনো চলমান।

সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। কিন্তু যদি শ্রমিকের জায়গা দখল করে নেয় মেশিন, আর শ্রমিকদের নামে ব্ল্যাংক চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে শুধু একটি প্রকল্প নয়, সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে দুদক: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে দুদক: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংঘটিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার কোনো তামাদি নেই। তাই অভিযোগ পাওয়া গেলে বর্তমান বা অতীত সব সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগই দুদক নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে পারবে এবং সরকার এতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের তথ্য উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ দুর্নীতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়ী নন। দুর্নীতি তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। আগামী বছরে দুর্নীতির পরিমাণ কমবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অতীতে অভিযোগ উঠেছিল উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদক তখনো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অভিযোগ হোক বা বর্তমান সরকারের সময়ের অভিযোগ সব ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে তদন্ত করার দায়িত্ব দুদকের।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকবে। দলটি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ’ বা অন্য যে নামেই আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করুক না কেন, কোনো নামেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে কঠোর বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশ সরকার আইনে পরিণত করেছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষেই সরকার রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়েও গণমাধ্যমকে সতর্ক করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি। গণমাধ্যমকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চীন-বাংলাদেশ করিডর প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে কানেক্টিভিটির গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তবে মায়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য করিডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্পটি নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এতে নদী শাসনের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং নতুন ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে। কারিগরি সমীক্ষায় চীন সহযোগিতা করলেও অর্থায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তি করে বিকেল ৪টার দিকে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট পরবর্তী নৈশ ভোজও বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নৈশ ভোজ হয়ে থাকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে  ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করতো। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকেই পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা।’

‘এ ছাড়াও দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০ টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকে তিনি অধিবেশন কক্ষে অবস্থান করেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহ আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।’

নাঈম/

বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই
ছাব: এআই

আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা দর বহাল রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জ্বালানি তেলের জুলাই মাসে দরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

 সর্বশেষ ৩১ মে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

আর ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বড় আকারে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়।

ইরান যুদ্ধের কারনে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট চলছে। ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলারের ব্রেন্ট ক্রুড ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের ৮ মার্চ ব্যারেল প্রতি ১৩৭.৬৪ ডলার। আর সর্বোনিম্ন দামের রেকর্ড করা হয় করোনার সময় ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ৫০.৩৩ ডলার। যা গত সপ্তাহে ৭২ ডলারে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপন ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ওই ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করার কথা।গেজেট অনুযায়ী বিপিসি ও অন্যদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে শুধু আমদানি মূল্যের তারতম্য প্রতিমাসে কমবেশি হবে। যদিও বিএনপি সরকার এপ্রিলে বাজার ঊর্ধমুখী থাকলেও পুর্বের দর বহাল রেখেছিল।যা মাসের ১৯ তারিখে গিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন আবার কমলেও সে হারে কমাতে দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিপিসির বক্তব্য হচ্ছে গত কয়েকমাসে অনেক লোকসান হয়েছে। সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দাম কমতির দিকে থাকলে পর্রবর্তীতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এসএন/

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুইজন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৫ জন রয়েছেন।

এ সময়ে ১৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৩২ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

এসএন/