ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর বর্ণবাদের শিকার টাইব্রেকারে মিস করা ফুটবলাররা ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত! রেশন-ভাতা হারানোর শঙ্কায় মুসলিমরা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি আমি চাই: এমবাপ্পে রোনালদোর অনন্য রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, ধারের কাছেও নেই মেসি সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা! ফেভারিট বেলজিয়ামের সামনে লড়াকু সেনেগাল ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’ শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম কী? মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে বুনো উদ্ভিদ বেগুনি হুড়হুড়ে জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা!

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা!
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৩-২৪ করবর্ষের ৫ হাজার ১৪টি কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) প্রকাশ করেছে। এই করদাতাদের বাছাই করা হয়েছে রিটার্ন অডিটের জন্য। এ নিয়ে তিন দফায় ৯২ হাজার ৮৪৯ জন করদাতাকে বাছাই করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষ। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা এনবিআরের এই পদক্ষেপকে ছোট করদাতাদের ওপর একধরনের হয়রানি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত কর দেওয়া চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের এভাবে চেপে ধরা হলে নতুনরা করজালে আসতে আগ্রহ হারাবেন। অথচ বড়মাপের করদাতা ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে আদালতে ৩১ হাজার ৭০০টি মামলা ঝুলে আছে, যার ফলে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রাজস্ব আদায় থমকে আছে। ফলে বড়দের ছাড় দিয়ে ছোটদের ভোগান্তি বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, অল্প আয়ের করদাতাদের বেশির ভাগই চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ী। এসব ব্যক্তি সাধারণত নিয়মিত কর পরিশোধ করেন। চাকরিজীবীদের আয় ব্যাংকে যায়। সেখান থেকে হিসাব করে কর পরিশোধ করে থাকেন। এসব ব্যক্তির জীবনযাত্রার খরচ জোগাড়ে ব্যবস্থা থাকতে হয়। মূল্যস্ফীতির চাপে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এই করদাতাদের অডিটের নামে হয়রানি করা হলে ভোগান্তি বাড়বে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে গত বছরের জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৪৯৪ ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় ধাপে গত ২৯ এপ্রিল ৭২ হাজার ৩৪১ ব্যক্তির রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। সর্বশেষ আরও ৫ হাজারের বেশি করদাতাকে নির্বাচন করা হয়। এনবিআর তদন্ত কর্মকর্তারা রিটার্নে উল্লেখ করা বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন। ওই করদাতাদের অনেককে এনবিআরে তলব করা হচ্ছে। তাদের কাছে রিটার্নে উল্লেখ করা বিভিন্ন তথ্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হচ্ছে। করদাতারা অনেক ক্ষেত্রে যে তথ্য প্রমাণ জমা দিচ্ছেন তা এনবিআর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। নতুন করে আবারও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হচ্ছে। 

ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার রিটার্ন অডিটে আনা হয়েছে। আমি গত ১০ বছর নিয়মিত রিটার্ন জমা দিচ্ছি। আমার আয়ের একটি তথ্যও গোপন করিনি। তাহলে আমাকে কেন অডিটে আনা হয়েছে? আমার সমস্যা হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রিটার্নে যেসব কাগজপত্র দেখিয়েছি, তার অনেকটি এখন আমার কাছে নেই। আমার কাছে এনবিআর থেকে রিটার্নে উল্লেখ করা তথ্যের প্রমাণ চাওয়া হলেও সব জমা দিতে পারিনি। এখন আমাকে জোগাড় করতে বলা হয়েছে। কীভাবে কার কাছে পাব তা বুঝতে পারছি না।’ 

পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুসারে, এনবিনারের বকেয়া করের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বকেয়া করের বেশির ভাগই বড়মাপের করদাতাদের কাছে পাওনা। তাদের বেশির ভাগই মামলা করে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছেন। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সাধারণ আয়ের ১০০ জন করদাতার কাছে এনবিআরের যে পাওনা থাকে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পাওনা থাকে বড় মাপের একজন কর ফাঁকিবাজের কাছে। বড় মাপের এসব করদাতা যুগ যুগ ধরে কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। বারবার তাগাদা দিলেও সামান্য কিছু পরিশোধ করেন। অনেকে আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে একটি টাকাও পরিশোধ করেন না। এদের বেশির ভাগই মামলা করে পুরো রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখেন।’ তিনি বলেন, সাধারণ করদাতাদের অডিটের নামে এভাবে হয়রানি করা হলে নতুন করে অনেকে আর করজালে আসতে আগ্রহী হবেন না। 

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বকেয়া রাজস্বের বেশির ভাগই আদালতে মামলা করে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলার প্রায় সবই বড় মাপের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। ছোট করদাতারা সাধারণত কর ফাঁকি দেন না। তাই ছোটদের ছাড় দিয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে এনবিআরকে জোর দিতে হবে। অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, প্রতি অর্থবছর এনবিআরের আদায়ের ঘাটতি থাকছে। বকেয়া আদায় করতে পারলে এনবিআরের ঘাটতির বেশি আদায় হবে।
 
এনবিআর সূত্র জানায়, মামলার বেশির ভাগই বড় করদাতা বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাওনা রাজস্ব না দিয়েই ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান রাখা যায়। আর এই সুযোগ নিয়ে থাকেন অসাধু করদাতারা। এনবিআরের জিজ্ঞাসাবাদ, আপিল ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট পার হয়ে রাজস্ব মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে যেতে এক যুগও লেগে যায়। 

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতে আয়কর, মূসক ও শুল্কসংক্রান্ত মোট মামলার পরিমাণ ৩১ হাজার ৭০০টি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৭০০ কোটি টাকা। ৪ হাজার ৭০০ করসংক্রান্ত মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ অন্তত ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মূসকের মামলার পরিমাণ ১১ হাজারের বেশি, জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্কের মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্য শুধু চট্টগ্রামেই ১২ হাজার মামলা চলমান। জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকার এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে এনবিআরের আয়কর, মূসক ও শুল্ক খাতের জন্য পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করে। মামলা নিষ্পত্তির বিষযটি নজরদারি করছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে গত ২৩ মে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দিনব্যাপী এনবিআরের টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা আয়কর, মূসক ও শুল্কসংক্রান্ত মামলার বাছাই করা তালিকা উপস্থাপন করেন। এই তালিকায় ২০০ কোটি থেকে তার বেশি আয়ের সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু বড় মাপের করদাতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের খুব বেশি অগ্রগতি হয় না। সেই ঘুরেফিরে ছোটদের কাছে ছুটে যায় এনবিআর। অতীতের ধারা থেকে যদি বের হয়ে আসা সম্ভব হয়, তবে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। আদালতে আটকে থাকা মামলা নিষ্পত্তিতে জোর দিতে হবে। তাহলে এনবিআরের ঘাটতি থাকবে না। বরং লক্ষ্যমাত্রার বেশি আদায় হবে।

সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব ও অন্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে ‘এ’ চালান (অটোমেটেড চালান) বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার ১ জুলাই থেকে এটি বাধ্যতামূলক বলে গতকাল মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালানব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ‘এ’ চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে ‘এ’ চালানব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। সাত অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগের মতে, ‘এ’ চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ’ চালানব্যবস্থায় অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হওয়ায় হিসাব মিলানোর সময় ও ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এ ছাড়া ‘এ’ চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর রিয়েল-টাইমে রাজস্ব আদায় ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। চালান যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে চালানের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও কমছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

‘এ’ চালান বা অটোমেটেড চালান হলো সরকারি রাজস্ব, কর এবং বিভিন্ন সেবা ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার একটি ওয়েবভিত্তিক পদ্ধতি। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এই সিস্টেমের মাধ্যমে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো যায়।

পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য
ছবি: খবরের কাগজ

‘আগে ১৭০ টাকা কেজি ছিল। কোরবানির ঈদের পর থেকেই চিনিগুঁড়া (পোলাও) চালের দাম বাড়ছে। আকিজ, স্কয়ার, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির এই প্যাকেটজাত চাল ১৯০ টাকা ও বস্তার চাল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও বেড়ে ২১০ টাকা হচ্ছে। ২১০ টাকার প্যাকেট রেডি হয়ে গেছে। স্কয়ার, আকিজসহ অন্য কোম্পানি থেকে এ কথা জানিয়েছে। কোম্পানি ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।’ চিনিগুঁড়া চালের বাড়তি দামের ব্যাপারে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কারওয়ান বাজারের নুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান। 

অন্য বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা ও রাইসমিল মালিকরাও দাম বৃদ্ধিতে অবাক হয়েছেন। তারা বলেন এত কেন এই চালের দাম! মিলে তো বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, করপোরেটরা প্যাকেটজাত করে ভালোমানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে চরম নৈরাজ্য চলছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। 

বাজারে দেখা গেছে, আগের মতোই পাইকারি ও খুচরা দোকান পোলাওয়ের চালে ভরা। কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম খান খবরের কাগজকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিন্ডিকেট করেই করপোরেটরা দাম বাড়াচ্ছে। আগে ১৭০ টাকায় বিক্রি করলেও কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন ১৯০ টাকার প্যাকেটজাত এই চাল দিয়ে গেছে। খোলা চালের দামও বেশি। ১৬২ টাকা কেজি কেনা। বিক্রি করছি ১৭০ টাকায়। কয়েক দিন আগে এটা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ‘করপোরেটদের দাপটে সব কিছুর দাম বাড়ছে। প্যাকেটের নামে তারা অনেক বেশি দাম নিচ্ছে। কিছু হলেই ভোক্তা অধিদপ্তর শুধু আমাদের ধরে। তাদের ধরে না। তাদের ধরলে এত বেশি দাম বাড়বে না।’ 

এ সময় ইন্দিরা রোডের ক্রেতা মো. দুলাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ধানের দাম কি এত বেড়েছে যে, চালের দাম বেড়েই যাচ্ছে? করপোরেটরা সিন্ডিকেট করেই এভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এটা ফাজলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারকে এটা দেখা দরকার।

এই বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী খবরের কাগজকে বলেন, খোলা পোলাওয়ের চাল আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি ছিল। কয়েক দিন ধরে দাম বেড়েছে। মোজ্জামেল কোম্পানির এই চাল সবচেয়ে ভালো, তা ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৫০ কেজির বস্তার দাম হচ্ছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। জনতা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমানও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পোলাওয়ের চাল নাকি রপ্তানি হচ্ছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। কিছু কোম্পানির লোকজন বলছে। এই বাজারের অন্য বিক্রেতাদেরও একই অভিযোগ বিভিন্ন অজুহাতে করপোরেটরা বাড়াচ্ছে দাম। বিষয়টি সরকারের দেখা দরকার।’ অন্য ভোক্তাদেরও একই অভিযোগ। 

এদিকে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও নিউ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারা জানান, কয়েক দিন ধরে কোম্পানির লোকরা বেশি করে দাম বাড়িয়েছেন। আরও বেশি দামের চাল আসছে। কোম্পানির লোকজন বলে গেছেন।

টাউন হল বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মো. ইসমাইল খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্কয়ার কোম্পানির লোকরা জানিয়েছেন, ১৯০ টাকার প্যাকেট বেশি করে রাখেন। কারণ ২১০ টাকার প্যাকেট রেডি হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি চলে আসবে। তখন বেশি দামে কিনতে হবে।’

এই বাজারের নোয়াখালী রাইস স্টোরের বিক্রয়কর্মী আব্দুর রহিমও একই তথ্য জানান। বলেন, সাগর কোম্পানির বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৬২ টাকা কেজি কেনা। বিক্রি করছি ১৭০ টাকায়। আকিজ, প্রাণ, স্কয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। ১৯০ টাকা কেজি। মিলে ২১০ টাকার প্যাকেট তৈরি হয়ে গেছে। যেকোনো সময়ে চলে আসবে। কোম্পানির লোকরা বলে গেছেন।’ এ সময় আকিজ অ্যাসেনশিয়ালসের প্যাকেটে লেখা দেখা যায় দিনাজপুরের সেরা ধান, ১৯০ টাকা কেজি। 

কিন্তু দিনাজপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পোলাওয়ের ধান বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে না। ধানের দাম বাড়েনি। কয়েক মাস আগে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা মণ। দিনাজপুর চেম্বারের পরিচালক তৌহিদুর রহমান পাটোয়ারী (মোহন) খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা যে দামে ধান কিনি তা থেকে কিছু লাভ করে চাল বিক্রি করি। পোলাও ধান আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ১ মণ কেনা হয়। তাতে ২২ কেজি চাল হয়। তা সর্বোচ্চ ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগে এটা ১২৪ টাকা কেজি বিক্রি করা হতো। নাম বলছি না। অনেক করপোরেট আমাদের কাছ থেকে চাল কিনে প্যাকেটজাত করে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। যে যা ইচ্ছা সেই দাম আদায় করছে। সরকার কী করছে? তাদের ধরুক। ১ কেজির প্যাকেটে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ টাকা খরচ হতে পারে। সেখানে কেজিতে বেশি নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে আদর অ্যান্ড মমতা অটো রাইসমিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘চালের দাম বাড়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই সরকারকে বলব কৃষককে প্রণোদনা দিয়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমানো হোক। যাতে চালের দাম কমে। এতে ব্যবসা ভালো চলবে। ভোক্তারাও কম দামে চাল কিনতে পারবেন।’            

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোজাম্মেল অটো রাইসমিলসের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে ধান কেনাবেচা হচ্ছে না। এবারে পোলাওয়ের ধানের দাম বেশি। আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মণ কেনা হয়। ৫০ কেজির চাল সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বা কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আগে এটা বিক্রি করা হয় ১৩৬ টাকায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে ভালোমানের ধান কিনি। তাই চালও ভালো। এ জন্য দাম একটু বেশি। আমাদের চাল সবচেয়ে ভালো ক্লায়েন্টরা (ভোক্তা) কেনেন। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়ছে। এটা আমরাও চাই না। ভোক্তারা কম দামে চাল খাবেন, এটা আমরাও চাই। তাই ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।’ 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘যেভাবে চালের দাম বাড়ছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। করপোরেটরা প্যাকেটজাতের নামে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে, এটা হতে পারে না। কারণ ১ কেজির এক প্যাকেটে কি ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয়? বেশি দাম নেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। সেটা মনে রাখতে হবে।’ 

তিনি বলেন, বাজার কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই। লুটপাট শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তারা কী করছেন?

উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড়
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ব্যাংক খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমাতে এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় (এক্সিট সুবিধা) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন মন্দ বা খেলাপি ঋণের পুরো টাকা এককালীন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হতে পারবেন গ্রাহকরা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ব্যাংক ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের কঠোর শর্ত শিথিল করা হয়েছে। মূলত ব্যাংকগুলোর আদায় অযোগ্য ঋণ কমিয়ে আনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান নতুন করে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। 

গত সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে তা পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব খেলাপি ঋণ অনাদায়ী পর্যায়ে চলে গেছে, ব্যাংক চাইলে সেসব ঋণের আসল অংশটুকু আদায় করে পুরো সুদ মওকুফ করে দিয়ে হলেও সেই ঋণদাতাকে এক্সিট সুবিধা দিতে পারবে। এত দিন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংকগুলোর পক্ষে এই সুবিধা দেওয়ার সুযোগ ছিল কম।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণ এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে এই সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে এবং তা নির্ধারিত হবে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো আবশ্যক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তাদের এককালীন বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। এতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে, যা দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মন্দ বা ক্ষতিকর মানের যেসব ঋণ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেই ঋণ এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে। এ ছাড়া বিশেষ এক্সিট দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণকে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই বিশেষ নীতিমালার সুবিধা ও নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আড়াই বছর আগে বাতিল করে দেওয়া আমানত ও ঋণের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধানসীমার বা স্প্রেডের বিধান ফিরিয়ে আনল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান বা স্প্রেড হতে হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সকল ঋণের সঙ্গে আমানত সুদহারের ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে, ব্যাংকগুলো যে সুদহারে আমানত সংগ্রহ করবে তার গড় সুদ ও ঋণ বিতরণের গড় সুদহারের মধ্যে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। যদিও বর্তমানে বেশির ভাগ ব্যাংকের তহবিল খরচই সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশের ওপরে।

বর্তমানে দুটি ছাড়া কোনো বেসরকারি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই। নতুন নিদের্শনা জারি হওয়ার পর থেকেই কার্যকর করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২০ সালে ব্যাংকে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার সময় মূলত স্প্রেড অকার্যকর হয়ে যায়। পরবর্তী সময় আন্তর্জাতিক চাপে ধাপে ধাপে ঋণের সুদহার সীমা বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্প্রেডসীমা সার্কুলার দিয়ে স্থগিত করা হয়। সবশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণ সুদহার বাজারভিত্তিক করা হলেও কোনো স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অনেক ব্যাংকের আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার অধিক হারে নির্ধারণের ফলে গড়ভারিত অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসা-শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই অবস্থায় উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য আপনাদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলোকে হয় আমানত সুদহার বাড়াতে হবে, নয়তো ঋণ সুদহার কমিয়ে আনতে হবে।

সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা!

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা!
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৩-২৪ করবর্ষের ৫ হাজার ১৪টি কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) প্রকাশ করেছে। এই করদাতাদের বাছাই করা হয়েছে রিটার্ন অডিটের জন্য। এ নিয়ে তিন দফায় ৯২ হাজার ৮৪৯ জন করদাতাকে বাছাই করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষ। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা এনবিআরের এই পদক্ষেপকে ছোট করদাতাদের ওপর একধরনের হয়রানি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত কর দেওয়া চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের এভাবে চেপে ধরা হলে নতুনরা করজালে আসতে আগ্রহ হারাবেন। অথচ বড়মাপের করদাতা ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে আদালতে ৩১ হাজার ৭০০টি মামলা ঝুলে আছে, যার ফলে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রাজস্ব আদায় থমকে আছে। ফলে বড়দের ছাড় দিয়ে ছোটদের ভোগান্তি বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, অল্প আয়ের করদাতাদের বেশির ভাগই চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ী। এসব ব্যক্তি সাধারণত নিয়মিত কর পরিশোধ করেন। চাকরিজীবীদের আয় ব্যাংকে যায়। সেখান থেকে হিসাব করে কর পরিশোধ করে থাকেন। এসব ব্যক্তির জীবনযাত্রার খরচ জোগাড়ে ব্যবস্থা থাকতে হয়। মূল্যস্ফীতির চাপে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এই করদাতাদের অডিটের নামে হয়রানি করা হলে ভোগান্তি বাড়বে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে গত বছরের জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৪৯৪ ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় ধাপে গত ২৯ এপ্রিল ৭২ হাজার ৩৪১ ব্যক্তির রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। সর্বশেষ আরও ৫ হাজারের বেশি করদাতাকে নির্বাচন করা হয়। এনবিআর তদন্ত কর্মকর্তারা রিটার্নে উল্লেখ করা বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন। ওই করদাতাদের অনেককে এনবিআরে তলব করা হচ্ছে। তাদের কাছে রিটার্নে উল্লেখ করা বিভিন্ন তথ্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হচ্ছে। করদাতারা অনেক ক্ষেত্রে যে তথ্য প্রমাণ জমা দিচ্ছেন তা এনবিআর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। নতুন করে আবারও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হচ্ছে। 

ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার রিটার্ন অডিটে আনা হয়েছে। আমি গত ১০ বছর নিয়মিত রিটার্ন জমা দিচ্ছি। আমার আয়ের একটি তথ্যও গোপন করিনি। তাহলে আমাকে কেন অডিটে আনা হয়েছে? আমার সমস্যা হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রিটার্নে যেসব কাগজপত্র দেখিয়েছি, তার অনেকটি এখন আমার কাছে নেই। আমার কাছে এনবিআর থেকে রিটার্নে উল্লেখ করা তথ্যের প্রমাণ চাওয়া হলেও সব জমা দিতে পারিনি। এখন আমাকে জোগাড় করতে বলা হয়েছে। কীভাবে কার কাছে পাব তা বুঝতে পারছি না।’ 

পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুসারে, এনবিনারের বকেয়া করের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বকেয়া করের বেশির ভাগই বড়মাপের করদাতাদের কাছে পাওনা। তাদের বেশির ভাগই মামলা করে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছেন। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সাধারণ আয়ের ১০০ জন করদাতার কাছে এনবিআরের যে পাওনা থাকে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পাওনা থাকে বড় মাপের একজন কর ফাঁকিবাজের কাছে। বড় মাপের এসব করদাতা যুগ যুগ ধরে কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। বারবার তাগাদা দিলেও সামান্য কিছু পরিশোধ করেন। অনেকে আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে একটি টাকাও পরিশোধ করেন না। এদের বেশির ভাগই মামলা করে পুরো রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখেন।’ তিনি বলেন, সাধারণ করদাতাদের অডিটের নামে এভাবে হয়রানি করা হলে নতুন করে অনেকে আর করজালে আসতে আগ্রহী হবেন না। 

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বকেয়া রাজস্বের বেশির ভাগই আদালতে মামলা করে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলার প্রায় সবই বড় মাপের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। ছোট করদাতারা সাধারণত কর ফাঁকি দেন না। তাই ছোটদের ছাড় দিয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে এনবিআরকে জোর দিতে হবে। অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, প্রতি অর্থবছর এনবিআরের আদায়ের ঘাটতি থাকছে। বকেয়া আদায় করতে পারলে এনবিআরের ঘাটতির বেশি আদায় হবে।
 
এনবিআর সূত্র জানায়, মামলার বেশির ভাগই বড় করদাতা বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাওনা রাজস্ব না দিয়েই ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান রাখা যায়। আর এই সুযোগ নিয়ে থাকেন অসাধু করদাতারা। এনবিআরের জিজ্ঞাসাবাদ, আপিল ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট পার হয়ে রাজস্ব মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে যেতে এক যুগও লেগে যায়। 

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতে আয়কর, মূসক ও শুল্কসংক্রান্ত মোট মামলার পরিমাণ ৩১ হাজার ৭০০টি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৭০০ কোটি টাকা। ৪ হাজার ৭০০ করসংক্রান্ত মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ অন্তত ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মূসকের মামলার পরিমাণ ১১ হাজারের বেশি, জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্কের মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্য শুধু চট্টগ্রামেই ১২ হাজার মামলা চলমান। জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকার এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে এনবিআরের আয়কর, মূসক ও শুল্ক খাতের জন্য পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করে। মামলা নিষ্পত্তির বিষযটি নজরদারি করছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে গত ২৩ মে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দিনব্যাপী এনবিআরের টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা আয়কর, মূসক ও শুল্কসংক্রান্ত মামলার বাছাই করা তালিকা উপস্থাপন করেন। এই তালিকায় ২০০ কোটি থেকে তার বেশি আয়ের সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু বড় মাপের করদাতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের খুব বেশি অগ্রগতি হয় না। সেই ঘুরেফিরে ছোটদের কাছে ছুটে যায় এনবিআর। অতীতের ধারা থেকে যদি বের হয়ে আসা সম্ভব হয়, তবে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। আদালতে আটকে থাকা মামলা নিষ্পত্তিতে জোর দিতে হবে। তাহলে এনবিআরের ঘাটতি থাকবে না। বরং লক্ষ্যমাত্রার বেশি আদায় হবে।

চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করে তিনি।

এটি তার আমলে দ্বিতীয় বাজেট। ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। একইসাথে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন করা হয়।

বাজেট বক্তব্যে চসিক মেয়র নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, চসিকে অনুমোদিত জনবল ৪২২৬ জন। যা পর্যাপ্ত নয়। যেকারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করে চসিকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং নগর উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। অপরদিকে চসিকের প্রধান আয়ের উৎস গৃহকর। তাই বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কন্টেইনার টার্মিনাল ও অয়েল কোং লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট হাউজগুলোকে অবশ্যই রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, নগর দূষণ রোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গাছ। অনিয়ন্ত্রিত দখল, পাহাড় উজাড় ও বন ধ্বংসের কারণে সবুজ আচ্ছাদন কমে গেছে। তাই সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম শহরকে সবুজ-শ্যামল ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পাঁচ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে দশ লক্ষ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রযেছে। পরিবেশ দুষণের কারণে এখন কয়েকটি ঋতুর ছোঁয়া অনুভবও করা যাচ্ছে না। তাই কর্ণফুলিকে দূষণমুক্ত এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।

হকারদের কারণ নগরে যানজট হয়। এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সমস্যার সমাধানে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। 

কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল : চলমান নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা। দক্ষ জনবল গড়ার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান কাজের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন এবং অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমসহ চসিকের কার্যক্রমসমূহ ডিজিটালাইজেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ। বিএফআইডিসি রোডে চসিকের মালিকানাধীন ৮ একর জায়গা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ। এছাড়াও সম্ভাব্য ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। 

মেয়র জানান, নগরীর সড়ক অবকাঠামোর নকশাগত ধারণক্ষমতা যেখানে সর্বোচ্চ ১০ টন, সেখানে বন্দরের ভারী যানবাহন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে। একটি সড়কের গড় আয়ুষ্কাল যেখানে স্বাভাবিকভাবে তিন থেকে পাঁচ বছর থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব যানবাহনের কারণে সড়ক দ্রুত ভেঙে পড়ছে। 
এছাড়া, চট্টগ্রাম নগরীতে ছোটো-বড় মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও কম। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে চসিক কাজ করছে।

মেয়র জানান, দায়িত্ব নিয়ে তিনি চসিকের দেনা কমিয়েছেন। ২০২৪ সালের ০৩ নভেম্বর দায়িত্বগ্রহণের সময় চসিকের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা। এখন দেনা কমে হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনাধীন কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মেয়র। তা হল, চসিকের আওতায় প্রাথমিক সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প। যার আনুমানিক ব্যয় ২২০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২১টি খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকা।  সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ২৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নিয়েছে চসিক।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প। ডেভেলপমেন্ট অফ স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ফর ডিফেরেন্ট এরিয়াস অফ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নামে ৪৫০ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এছাড়া চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহ আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নে ৪৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিচ্ছে চসিক। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এছাড়া হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেল ক্রসিং-এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন আছে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্পও নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য সংগ্রহে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।