যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির করা সোহাগ হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন এক বেকারি ব্যবসায়ী।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
গতকাল মঙ্গলবার ইউএনও ও ওসি বরাবর সোহাগ হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার বসতপুর এলাকার আবুল হোসেন।
সোহাগ হোসেন দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক বাংলার ভোর পত্রিকার বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি উপজেলার বাগুড়ী গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের বসতপুর এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহাগ হোসেন, শাহারুল ইসলাম রাজ, মহিউদ্দিন ও মিজানুর রহমান বেকারিতে এসে আবুল হোসেনের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই তার বেকারির ভেতরের ছবি ও ভিডিও ধারণ শুরু করেন।
তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে সোহাগের হাতে তিন হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা ০১৭৬৮৯৭৯৬৩৬ নম্বরে বিকাশ করতে বলেন।
বাকি টাকা না দিলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চলে যান সোহাগ ও তার সহযোগীরা।
পরে তিনি শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, ’আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন অন্যের বেকারিতে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টের পর নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে বসতবাড়িতে একটি বেকারি করেছি। এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই আমার কোনরকম সংসার চলে। এটিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস।’
এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এর আগেও সাংবাদিক পরিচয়ে সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার বেলতলা বাজারে আমের আড়তদার মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে সোহাগ চাঁদা দাবি করলে ওই সময় স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দেন। পরে ওই ব্যবসায়ী সোহাগের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরা আমলি আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি জেলে ছিলেন। জেল থেকে বের হয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন চাঁদাবাজিতে।
এ বিষয়ে সোহাগ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ’এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ’এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি আমি থানার ওসিকে জানিয়েছি। তদন্ত করে ওসি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ’ইদানীং শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি।’
নজরুল ইসলাম/আজহার/