ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায়ের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে নির্দেশ দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাদের জয়ের মূল চালিকাশক্তি: আগুইরে কালুখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে চালক নিহত সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে গাছ কাটার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২ রাজশাহীতে আরডিএ পার্ক উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার আমি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গিয়েছি: সৈয়দ আব্দুল হাদী সিলেটে দুই সন্তান নিয়ে ১০ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ নারী সিংগাইরে পাটখেতে মিলল কিশোর অটোচালকের মরদেহ ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে পাংশায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মাছির উপদ্রব কমাতে কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা বুয়েট ও চুয়েটে হুয়াওয়ের ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষ ইকুয়েডের, পদত্যাগ করলেন কোচ নাফ নদীতে দুই বস্তায় মিলল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, যুবক আটক আপনার অফিসের কর্মপরিবেশ কতটা উপযোগী? মেক্সিকোর জয়ের পর উল্লাসে প্রাণ গেল দুজনের ভেনেজুয়েলায় ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে সোহাগের বিরুদ্ধে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশের ৬০০ কেজি আম উপহার সুইডেনকে বিধ্বস্ত করার পর যা বললেন এমবাপ্পে-দেশম টেক্সটাইল খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল জীবননগরে অবৈধভাবে গমের ভূষি তৈরি ও বাজারজাত করায় জরিমানা নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাজশাহী গড়তে কাজ করছে আরএমপি: ভূমিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় মাছপট্টি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলের চাঞ্চল্যকর শিশু আসমা আক্তার (৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পিছিয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার রায় ঘোষণার তারিখ তৃতীয় দফা পরিবর্তন করে ৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

নিহত আসমা উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬) একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং শিশুটির জেঠাতো ভাই।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার ৯ দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে।

এ ঘটনার পর পুরো নোয়াখালীজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। সূত্র: বাসস

আজহার/

জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন
ছবিঃ খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের মামলায় সিরাতুল ইসলাম মোস্তাকিম রনি (২২) নামে সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক।  

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ জুন মেয়েটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে অন্য শিশুরা চলে গেলে অভিযুক্ত রনি মেয়েটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়। মেয়েটি বাড়িতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আক্কেলপুর থানায় মামলা করা হয়।

পরে ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন আক্কেলপুর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান।   

মামলার শুনানি ও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ চার বছর পর মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়। এরপর আসামিকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।  

সাগর কুমার/অদিতি/

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর
ছবি: সংগৃহীত

দশ বছর আগে এই দিনে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা ঘটে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ওই বেকারিতে নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা।

নারকীয় ওই হামলায় মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যাদের ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, ছয়জন জাপানের, একজন ভারতীয়, একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনজন বাংলাদেশি নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে অভিযানে যাওয়া পুলিশের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের নিক্ষেপ করা বোমায় নিহত হন। ভয়াবহ এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে।

দশ বছর আগে বিভীষিকাময় সেই রাতভর চলে জঙ্গিদের নৃশংস তাণ্ডব। পরদিন সকালে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ওই অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জিম্মি থাকা ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলেন নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এ নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তৎকালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলা চালায়।

বিচার ও আদালতের রায়

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ‘নব্য জেএমবির’ সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০২৫ সালের জুনে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। বর্তমানে সেটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। তাদের মধ্যে আসলাম হোসেন ২০২৪ সালের ৬ জুন গণ-অভ্যুত্থানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময়ের দুই হত্যা মামলা এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার (২৯ জুন) মমতাজের করা আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার কোতোয়ালি থানার একটি হত্যা মামলা এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন।
পৃথক তিনটি মামলায় এর আগে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আদালত এ জামিনের আদেশ দেন।

আইনজীবী সাজু আরও জানান, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার তিনটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে মমতাজকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।

তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। ফলে এসব মামলার কারণে সাবেক এই সংসদ সদস্য এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য,গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন।

অন্তরা/

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
হাসানুল হক ইনু। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল তিন নম্বর, ছয় নম্বর ও সাত নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে আদালত জানান। এছাড়া দুটি অভিযোগে তাকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। 

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে অন্যতম অভিযোগ হচ্ছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করার নির্দেশসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে প্রতিবেদন দাখিল করে ১১ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

এরপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২২ জুন রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর মামলার ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয় এবং মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

অন্তরা/

চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:০৪ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

আদালতের এ আদেশের ফলে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আসলাম চৌধুরী আপাতত জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। 

এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। 

অপরদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। 

তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, যদি আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা যাবে না।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। তবে আদালতের আদেশের কারণে তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

অমিয়/