ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাবি ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর খাবারের স্বল্পতা এল নিনো: জলবায়ুর অস্থিরতা ও বাংলাদেশের ঝুঁকি মাস্টারকার্ড, এমটিবি ও জিপের যৌথ উদ্যোগে কো-ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড কার্ড চালু এমআইএসটিতে দেশের প্রথম ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুতে ফাটল, থেমে গেল ভারী যান চলাচল হাসপাতালে ভর্তি নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়ার জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ডিসকাউন্ট ফেস্ট সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য সেনেগাল ম্যাচের আগে সতর্ক বেলজিয়াম চমেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীরা পেল হাইজিন কিট ও আর্থিক অনুদান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিসের যাত্রা শুরু মাঠে ফেরার লড়াইয়ে পাকুয়েতা আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডে ওপেনক্ল অ্যাপ টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায়ের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য রোগীদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে চিকিৎসকদের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়া সব নদ-নদীর পানি কমছে সন্তানরা ফিরিয়ে নিয়েছেন মুখ! অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের শরণাপন্ন মা সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাদের জয়ের মূল চালিকাশক্তি: আগুইরে কালুখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে চালক নিহত সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে গাছ কাটার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২ রাজশাহীতে আরডিএ পার্ক উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার আমি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গিয়েছি: সৈয়দ আব্দুল হাদী সিলেটে দুই সন্তান নিয়ে ১০ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ নারী সিংগাইরে পাটখেতে মিলল কিশোর অটোচালকের মরদেহ ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে পাংশায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। কাবিননামায় লেখা হলো কয়েক লাখ টাকার দেনমোহর। কিন্তু এর পরই শুরু হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা–কেউ বলেন, এই টাকা মেয়ের বাবার কাছে থাকবে; কেউ বলেন, সংসারের প্রয়োজনে স্বামীই ব্যবহার করবে; আবার কোথাও মেয়েটি নিজেই জানে না, এই টাকার প্রকৃত মালিক আসলে কে!

অথচ ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছে। দেনমোহর কোনো পারিবারিক উপহার নয়, এটি একজন নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে বিবাহ করেছ, তাদের নির্ধারিত মোহর তাদেরকে প্রদান করো।’ (সুরা আন-নিসা, ২৪)

এ আয়াতে তাদেরকে শব্দটি সরাসরি স্ত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেনমোহরের মালিক স্ত্রী নিজেই। তার বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের এতে কোনো স্বত্ব নেই, যদি না স্ত্রী স্বেচ্ছায় কাউকে তা প্রদান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই সৌন্দর্যময় নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নারীর আর্থিক স্বাধীনতাকে সম্মান করতেন এবং কখনো দেনমোহরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রথা চালু করেননি। বরং দেনমোহর ছিল নারীর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।

এ কারণেই আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কোনো অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বাধ্য করো না। (সুরা আন-নিসা, ১৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একবার দেনমোহর স্ত্রীর হাতে পৌঁছে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। স্বামী চাইলে জোর করে তা ফেরত নিতে পারেন না, এমনকি স্ত্রীর পরিবারও তার অনুমতি ছাড়া এর ওপর কোনো দাবি করতে পারে না।

বর্তমান সমাজে অনেক নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেনমোহরের টাকা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ সামাজিক চাপে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন, আবার কেউ স্বামীর প্রয়োজনে দিয়ে পরে আর ফেরত পান না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি।

বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের বন্ধন নয়; এটি অধিকার ও দায়িত্বেরও চুক্তি। আর সেই চুক্তির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো–ইসলাম একজন নারীকে বিয়ের মুহূর্তেই এমন একটি সম্পদের মালিক বানিয়েছে, যার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকার রক্ষা করাই সুন্নাহ, আর তা অস্বীকার করা অন্যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (২ জুলাই)

.৪৮ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বুকের ওপর পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমানো যায় না—এ কথাটি কেবল কোনো প্রবাদ নয়, এটিই চরম বাস্তব। অথচ আজকের যুগে আমাদের চারপাশে তাকালে সম্পূর্ণ উল্টো এক চিত্র দেখা যায়। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড ঘষে আইফোন কেনা চাই; সামর্থ্য নেই, তবুও ব্যাংক লোন নিয়ে ধুমধাম করে কোটি টাকার বিয়ের আয়োজন চাই। আগে ভোগ, পরে পরিশোধ’—এই করপোরেট সংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে ঋণ নেওয়াটাকে আজ আমরা বড্ড মামুলি বা ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত আধুনিক লাইফস্টাইল ইসলামের চিরন্তন বিধানের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক, তা কখনো ভেবে দেখেছি কি?

পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য করজে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণের চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে। সুরা তাগাবুনের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে, ফলে তিনি তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন।’ এমনকি অভাবীর কষ্ট লাঘবের সওয়াব সম্পর্কে মুসলিম শরিফের ২৬৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার আখিরাতের বিপদ দূর করবেন। ইসলাম ঋণকে উৎসাহিত করে, তবে তা কেবলই প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের জন্য, বিলাসিতার জন্য নয়। আর সেই লেনদেনও সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী লিখিতভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজকের সমাজে ঋণ আর অভাবের তাড়নায় সীমাবদ্ধ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আয়ের বাইরে গিয়ে আয়েশী জীবন কাটাতে ব্যাংক, এনজিও বা ফাইন্যান্স কোম্পানির সুদের জালে জড়াচ্ছে। অথচ শরিয়তে ঋণ পরিশোধ না করার ব্যাপারে এসেছে শিউরে ওঠার মতো হুঁশিয়ারি। বুখারি শরিফের ২৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন; আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন। অন্য এক হাদিসে (বুখারি, ২২৯৫) দেখা যায়, কোনো মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বয়ং তাঁর জানাজা পড়াতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং সাহাবিদের বলতেন তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাজা পড়ে নাও।

একজন মানুষ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার পর যদি পুনরায় জীবিত হয়ে আবারও শহীদ হয়, তবুও ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, ২২১২)। বান্দার হক বা ঋণ এমন এক বিষয়, যা অন্য কোনো নেক আমল দিয়ে মাফ হয় না, যতক্ষণ না পাওনাদার তা মাফ করেন। তবে কেউ যদি ঋণ থেকে মুক্তি চায়, তবে তাকে হালাল উপার্জনে যত্নশীল হতে হবে।

সুনানে তিরমিজির ৩৫৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আলী (রা.) রাসুল (সা.)-এর শেখানো একটি দোয়া উল্লেখ করেছেন, যা নিয়মিত পড়লে পাহাড় সমান ঋণও আল্লাহ নিজ দায়িত্বে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্য সবার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।
চাদর বুঝে পা ফেলার মাঝেই আসল শান্তি। আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও ঋণের ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি এবং সমাজের প্রকৃত অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। আল্লাহ আমাদের ঋণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জীবন দান করুন। আমিন।


লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা

ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

ফুটবল, কার্নিভাল আর আমাজনের সবুজ অরণ্য—দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বিশ্ব সাধারণত এভাবেই চেনে। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ এই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে আছে এক দীর্ঘ, বেদনাবিধুর এবং গৌরবময় ইতিহাস। যেখানে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মুসলমানের শিকল ভাঙার গান, গায়ের রক্ত আর খাঁটি ইমানের অবিশ্বাস্য লড়াই। ক্রীড়া আর সংস্কৃতির এই চারণভূমিতে কীভাবে রোপিত হয়েছিল ইসলামের বীজ? দাসত্বের নির্মম অন্ধকার খাঁচা ভেঙে কীভাবে আজ সেখানে ডানা মেলছে এক আধুনিক মুসলিম সমাজ? ইতিহাস ও ত্যাগের সেই উপাখ্যান সত্যিই যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

ব্রাজিলে ইসলামের আগমন কোনো স্বাভাবিক অভিবাসন ছিল না, এর পেছনে রয়েছে পর্তুগিজদের নির্মম ঔপনিবেশিক ইতিহাস। ষোড়শ শতকের শুরুতে নাবিক পেদ্রো আলভারেস কারব্যালের হাত ধরে যখন পর্তুগিজরা ব্রাজিল উপকূলে পৌঁছায়, তখন তাদের জাহাজে ছিলেন শিহাবুদ্দিন ইবনে মাজেদ ও মুসা ইবনে সাতির মতো দক্ষ মুসলিম নাবিক। তবে ব্রাজিলে ইসলামের মূল বিস্তার ঘটে আফ্রিকার লাখ লাখ কৃষ্ণবর্ণের মানুষকে দাস হিসেবে ধরে আনার পর। একই সময়ে স্পেন ও পর্তুগালে মুসলিম শাসনের পতনের পর অনেক মরিস্কো (জোরপূর্বক খ্রিষ্টান করা মুসলমান) ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে আশ্রয় নেন।

ব্রাজিলের পর্তুগিজ শাসকেরা আফ্রিকান মুসলমানদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাদের নাম, ভাষা ও ধর্ম। কিন্তু লোহার শিকল মুসলিম দাসদের মন থেকে ইমানের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি। ব্রাজিলের জাতীয় জাদুঘরের নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, দিনে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে গোপনে তারা আরবিতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। প্রবীণ আলেমরা তরুণদের গোপনে ফিকহ ও আকিদার শিক্ষা দিতেন।

এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৬০৫ সালে। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় আলমিরস এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান একসঙ্গে দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তরুণ নেতা জানজা জুম্বার নেতৃত্বে সেখানে গড়ে ওঠে এক স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। প্রায় এক শতাব্দী পর, ১৬৯৪ সালে পর্তুগিজদের কামানের গোলার আঘাতে এই স্বাধীন রাজ্যের পতন ঘটলেও, এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বীরত্বগাথা। ১৮৮৮ সালে দাসপ্রথা বিলুপ্তির আগে পর্যন্ত মুসলমানদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার এক অন্ধকার অধ্যায় চলেছিল।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ব্রাজিলে ইসলামের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিসর ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব মুসলমান ব্রাজিলে আসতে শুরু করেন। তারা আর দাস হিসেবে নন, এসেছিলেন মুক্ত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী হিসেবে।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় লাখ মুসলমান অত্যন্ত মর্যাদার সাথে বসবাস করছেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যেখানে মুসলমানদের কোনো নিজস্ব পরিচয় ছিল না, আজ সেখানে প্রায় ১৩০টি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে। রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো, পারানা ও রিও গ্রান্দে দো সুল অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি। গড়ে উঠেছে ইসলামি স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে সরকারি সহযোগিতাও পাওয়া যায়।

ব্রাজিলের মুসলমানরা আজ কেবল একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়, বরং দেশটির অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নেতৃত্বের অন্যতম চালিকাশক্তি। ব্রাজিলে ইসলামের এই পাঁচশত বছরের পথচলা প্রমাণ করে—জুলুমের অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, ত্যাগ আর ইমানের আলো কখনো নিভে যায় না।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

যারা প্রতি বছর ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের অনেকেরই মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে—যদি মক্কা বা মদিনায় নিজের ছোট্ট একটা আবাসন থাকত! বহু শতাব্দীর সেই অধরা স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২৬ বছরের পুরোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিম নাগরিকরা মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী লাভ করতে পারবেন।

সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর 'সৌদি প্রপার্টিজ' পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী অ-সৌদিদের জন্য এই দুই নগরীতে সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নিয়মে বড় পরির্বতন এলো। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় অমুসলিমদের প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরো শহর জুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে।

মক্কার উল্লেখযোগ্য জোন: জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, কিং সালমান গেট, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২।

মদিনার উল্লেখযোগ্য জোন: রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার এবং মদিনা জোন ১ ও ২।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি সরকার এক আকর্ষণীয় অফারও রেখেছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া সম্পূর্ণ নগদ অর্থে ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাপূর্ণ 'প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি' বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া হলো: আগ্রহী ক্রেতাদের saudiproperties.rega.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা তাঁদের নিজস্ব 'ইকামা' (Iqama) নম্বর দিয়ে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদনের আগে নিজ দেশে থাকা সৌদি দূতাবাস থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এটি এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এখন আর শুধু হোটেল বা ভাড়াবাড়ি নয়, কোটি কোটি মুসলিম চাইলে পবিত্র ভূমিতে গড়ে তুলতে পারবেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক