তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট বিমানবন্দরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, মোংলাবন্দর উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য কাজে চীন সরকার অত্যন্ত তৎপর হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারেরও কর্মতৎপরতার পরিধি অনেক বেড়ে যাবে। উন্নয়ন ও উৎপাদনের পালে হাওয়া লাগবে বাংলাদেশে। নতুন প্রযুক্তি ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবে তারেক রহমানের সরকার। এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দেশপ্রেমের রাজনীতি ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।...

বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক এবং বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ঘরানার মানুষের মধ্যে এখন সর্বত্রই একটি উৎসাহ ও উদ্দীপনার ভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে তরুণ রাজনীতিবিদ ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্যসমাপ্ত চীন সফরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি যেন আবার এক কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ফিরছে। আশা-নিরাশার দোলাচল কিংবা রাজনৈতিক ধোঁয়াশা কেটে যেন এক রক্তিম সূর্যোদয়ের প্রত্যাশিত ক্ষণ শুরু হয়েছে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, ভবিতব্য বাংলাদেশ এবং তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখন যেন ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও ঐতিহাসিকভাবে এক নতুন সঙ্গমস্থলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগ পর্যন্ত দেশের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি অত্যন্ত সংশয়ের মধ্যে ছিল–শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবেন তারেক রহমান? বাংলাদেশ কী তার ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে? মুক্ত হতে পারবে আধিপত্যবাদের নিগড় থেকে? বাংলাদেশের আকাশ, জলসীমা ও ভূখণ্ড কী মুক্ত হতে পারবে ষড়যন্ত্রকারীদের আগ্রাসন এবং আধিপত্যের হাত থেকে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় থেকেই দিগন্তে জমে ওঠা অবিশ্বাসের কালো মেঘ ক্রমে ক্রমে অপসারিত হতে শুরু করেছে। এখন তিস্তাসহ বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার এক অপর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের আদিগন্ত নীলাকাশ ও জলরাশি আর অরক্ষিত থাকবে না। এ দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি কিংবা সমৃদ্ধির জন্য রচিত হবে এক নতুন সম্ভাবনাময় মহাসড়ক। সে পথ ধরে একদিন সমাধান হতে পারে প্রতিবেশী মায়ানমারের সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার দশক স্থায়ী বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া কিংবা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সমস্যা। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও উন্নয়নের কৌশলগত মিত্র চীন এবং তার প্রবীণ ও বিচক্ষণ নেতা শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা তারেক রহমানের মধ্যে যে বৃহত্তর সমঝোতা ও মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে তা একদিন এ অঞ্চলের ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও সমৃদ্ধির গতিপথ বদলে দেবে বলে ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।
চীনের বহুমুখী সাহায্য-সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীল খাতে রপ্তানি উন্নয়ন এলাকার অগ্রগতি দ্রুত এগোবে বলে ইতোমধ্যে একটি স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পর পরই চীনের ১২টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় সাড়ে নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দীর্ঘদিন কোনো অপশক্তির কারণে ঝুলে থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনার আশ্বাসও দিয়েছেন চীনের নেতারা। এসব ব্যাপারে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে চীন সরকার। তাতে বাংলাদেশের সমস্যাসংকুল সেচব্যবস্থা, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও নাব্য বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন রোধ করার কাজ দ্রুত অগ্রসর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি স্বস্তির ভাব সৃষ্টি হয়েছে। আবার আলো ফুটেছে বাংলাদেশের অরক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। চীনের ২৪টি প্রস্তাবিত জে টেন সিই-মাল্টিরোল কমব্যাট জঙ্গিবিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শুভ সূচনা করবে। এর পাশাপাশি চীনের দ্রুততম ও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি এবং কারখানা নির্মাণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে বলে জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আস্থার ভাব সৃষ্টি করেছে। অরক্ষিত না হলেও তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিরক্ষার দেশ বাংলাদেশে এখন তুরস্কের বিভিন্ন ড্রোনপ্রযুক্তি ও অস্ত্র নির্মাণের কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে। শেখ হাসিনার বিগত দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন দ্রুত কেটে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন আর কোনো বহিঃশক্তির আধিপত্য চলবে বলে মনে হয় না। তা ছাড়া, তাঁবেদারির রাজনীতি ও নতজানু কোনো নীতির অস্তিত্ব এই গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর ‘নতুন বাংলাদেশে’ খুঁজে পাওয়া এখন কঠিন হবে বলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এখন বহু কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার সফরের আগ পর্যন্ত ধারণা করা যায়নি। তারেক রহমানের চীন সফর এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা করেছে। চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রস্তাবে এত দ্রুত এগিয়ে আসবে তা আগে অনুধাবন করা যায়নি। তা ছাড়া তারেক রহমান সাহেবের অন্তরে লালিত ধ্যান-ধারণা, কর্মপরিকল্পনা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা নিয়েও বিশেষ কারও কোনো স্বচ্ছ বা বদ্ধমূল ধারণা ছিল না। বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার জন্য তারেক রহমান যে কারও দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। কিন্তু তার চীন সফরের পর সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তি আবার দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠছে। তারা তারেক রহমানের ভেতর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও পরলোকগত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন। সে কারণে তারা বিভিন্ন দ্বিধাদ্বন্দ্ব, দুর্নীতি, সংশয় ও মতবিরোধ কাটিয়ে দ্রুত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনামলের মতো একটি অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন। এটি একটি অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলে বিবেচিত হচ্ছে এখন। ক্ষমতাসীন বিএনপি এ স্প্রিরিটটি ধরে রাখতে পারলে দেশ শাসনে তাদের কোনো সংশয় বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা উচিত হবে না। বিএনপির উচিত ক্রমবর্ধমান উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অগ্রাধিকারমূলক আর্থ-রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া। সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝিমিয়ে পড়া দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা জাগিয়ে তোলা। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের হারাবার কিছু নেই। কারণ তাদের কাছে এখন একটি স্বাধীন বাংলাদেশ আছে। এ দেশকে সর্বতোভাবে রক্ষা করতে হবে। প্রাগঐতিহাসিক কাল থেকেই এ বাংলা কখনো কারও কোনো পরাভব মানেনি। বারবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা উড়িয়েছে এবং সবসময় তাকে উড্ডীন রাখার সংগ্রামে নিঃসংকোচে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে গেছে।
ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রদারণের দিকে দৃষ্টি রেখে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে যে অভিন্ন বাণিজ্য করিডর স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তা নিয়ে এখন সর্বত্রই খোলামেলাভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ করিডরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। কথাবার্তা হচ্ছে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ১২ লক্ষাধিক সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের বাংলাদেশের বিতাড়ন নিয়ে। প্রস্তাবিত চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য করিডর বাস্তবায়ন যেমন বিভিন্ন বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মায়ানমারের সামরিক জান্তা, আরাকানের মুক্তিসংগ্রামীদের রাখাইন রাজ্য দখল ও সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলো সমাধান করাও অত্যন্ত আবশ্যক। মায়ানমারের সামরিক জান্তার স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারত সরকার অনেক কাজ করে থাকে। চীন সরকারও মায়ানমারের সামরিক জান্তা এবং সংগ্রামরত আরাকান আর্মির মধ্যে অনেক কাজ করেছে। কিন্তু জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারত মায়ানমারের বিরাজমান বিশাল সমস্যার আজও কোনো সমাধান দিতে পারেনি। একথা ঠিক যে, মায়ানমারের ওপর প্রতিবেশী চীনের প্রভাব অপরিসীম কিন্তু তারা এ ক্ষেত্রে কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিতাড়নের বিষয়টি প্রায় সাড়ে চার দশক যাবৎ থেমে থেমে চলছে। কিন্তু আরাকান আর্মির (রাখাইন রাজ্য) বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তা তাদের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে সামনে এগোতে পারছে না। এখন চীনের ওপর এ বিশাল সমস্যা সমাধানের বিষয়টি অনেকখানি নির্ভর করছে। নতুবা চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিন থেকে মায়ানমারের মান্দালয় এবং এমনকি ইয়াংগুন হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাণিজ্য করিডর স্থাপন কতটুটু সম্ভব হবে? মায়ানমারের সামরিক জান্তা কিংবা আরাকান আর্মির সঙ্গে কথাবার্তা না বলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিশ্চয়ই বাণিজ্য করিডর স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে এতদূর এগোননি। কারণ বিবাদমান জান্তা ও মুক্তিগামী আরাকান আর্মিকে এ প্রস্তাবিত করিডরে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ তার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে যা করণীয় আছে তা সার্বিক ও আন্তরিকভাবে করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
চীনকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা কিংবা মিরসরাই রপ্তানি উন্নয়ন এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রমের জন্য যে এলাকা বা জমি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে উন্নয়নের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে। তাতে আশা করা যায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট বিমানবন্দরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, মোংলাবন্দর উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য কাজে চীন সরকার অত্যন্ত তৎপর হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারেরও কর্মতৎপরতার পরিধি অনেক বেড়ে যাবে। উন্নয়ন ও উৎপাদনের পালে হাওয়া লাগবে বাংলাদেশে। নতুন প্রযুক্তি ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবে তারেক রহমানের সরকার। এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দেশপ্রেমের রাজনীতি ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। তার নেতৃত্বের প্রতি বর্তমানে যে আস্থা ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে তাতে তারেক রহমানের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা রইল না। তার প্রতি জনগণের রাজনৈতিক সমর্থন আরও শক্তিশালী হলো।
লেখক: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা
[email protected]
