ভারতীয় মঞ্চনাট্যের অন্যতম কিংবদন্তি ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী বিজয়া মেহতা মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগেছিলেন তিনি। গত ৩০ জুন মুম্বাইয়ের নেপিয়ান সি রোডে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
সূত্রে জানা গেছে, তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ভারতীয় নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, ছাত্রছাত্রী ও অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় থিয়েটারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিজয়া মেহতা। বিশেষ করে মারাঠি মঞ্চনাটকে আধুনিক ভাবনা, নতুন উপস্থাপনা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি এক নতুন যুগের সূচনা করেন। ‘ব্যারিস্টার’, ‘হামিদাবাইচি কোঠি’, ‘পুরুষ’ এবং ‘ওয়াদা চিরেবন্দি’র মতো কালজয়ী নাটকের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন ভিন্নধর্মী নাট্যভাষা।
উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘ওথেলো’র মারাঠি রূপান্তরে ডেসডিমোনা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে নাট্যকার বিজয় টেন্ডুলকার, অভিনেতা ড. শ্রীরাম লাগু, সুলভা দেশপান্ডে ও অরবিন্দ দেশপান্ডের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘রঙ্গায়ন’ নাট্যদল। এই দলের হাত ধরেই মারাঠি থিয়েটারে আধুনিক নাট্যচর্চার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বাণিজ্যিক থিয়েটারেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন বিজয়া মেহতা। জার্মান নাট্যকার বার্টোল্ট ব্রেখটের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য ককেশিয়ান চক সার্কেল’র মারাঠি রূপান্তর ‘আজব ন্যায় বার্তুলাচা’ পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। একই সঙ্গে মহেশ এলকুঞ্চওয়ার ও জয়বন্ত ডালভির মতো প্রতিভাবান নাট্যকারদের কাজও দর্শকদের সামনে তুলে আনেন।
মঞ্চের গণ্ডি পেরিয়ে ছোট পর্দাতেও সফল ছিলেন তিনি। আশির দশকে তার পরিচালিত চিকিৎসাবিষয়ক টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘লাইফ লাইন’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালক পিটার ব্রুকের ‘মহাভারত’ প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস (এনসিপিএ) এবং ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার (এনএসডি) প্রশাসনিক দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন।
/এসএল