মাস্টারকার্ড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) এবং সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড (জিপে) যৌথভাবে কো-ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড কার্ড চালু করেছে। ডিজিটাল ওয়ালেটের সুবিধার সঙ্গে কার্ডের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সেবায় আরও সুবিধা তৈরি করবে।
নতুন এই কার্ডটি জিপে ওয়ালেটের সুবিধাকে দৈনন্দিন লেনদেনে আরও সহজলভ্য করে তুলবে। ওয়ালেটের ব্যালেন্সের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত থাকায় কার্ডহোল্ডাররা একই ব্যালেন্স ব্যবহার করে ডিজিটাল ও সরাসরি—উভয় ধরনের লেনদেন নির্বিঘ্নে করতে পারবেন। এর ফলে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।
বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে তৈরি করা এই কার্ডের মাধ্যমে ই-কমার্স লেনদেন, দোকান থেকে কেনাকাটা, কিউআর পেমেন্ট, এটিএম থেকে নগদ উত্তোলন এবং কন্ট্যাক্টলেস ট্যাপ অ্যান্ড গো পেমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করা যাবে। পাশাপাশি, প্রতিটি লেনদেনের রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন ও তাৎক্ষণিক ব্যালেন্স আপডেটের সুবিধা থাকায় কার্ডহোল্ডাররা তাদের আর্থিক লেনদেন আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এমটিবিতে উদ্ভাবন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবাই আমাদের প্রতিটি উদ্যোগের মূল ভিত্তি। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এমন একটি আধুনিক প্রিপেইড সল্যুশন চালু করতে চাই, যা ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল ওয়ালেটকে একত্রিত করে গ্রাহকদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠান একটি সহজ ও কার্যকর পেমেন্ট সল্যুশন নিশ্চিত করতে কাজ করবে, যা ডিজিটাল ও সরাসরি লেনদেনের অভিজ্ঞতার মধ্যে সংযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার আরও বিস্তৃত সুযোগ নিশ্চিত করবে।
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা বলেন, “বর্তমানে গ্রাহকরা এমন পেমেন্ট অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন, যা তাদের ডিজিটাল জীবনধারার সঙ্গে সহজেই সমন্বিত হয়। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডিজিটাল ওয়ালেটের সুবিধার সঙ্গে মাস্টারকার্ড নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা একত্রিত করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা আরও সহজে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের অর্থ ব্যবস্থাপনা করতে পারেন।”
সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের চিফ এক্সেকিউটিভ অফিসার ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী বলেন, “এই কো- ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড কার্ড চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য ও সুবিধাজনক করাই সমাধানের অঙ্গীকার । জিপে ওয়ালেটের সঙ্গে এই প্রিপেইড কার্ড সংযুক্ত করার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য একটি সমন্বিত পেমেন্ট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে তারা রিয়েল-টাইমে অর্থ ব্যবহারের সুবিধা এবং আরও স্বাধীনভাবে লেনদেন করার সুযোগ পান।”
বিজ্ঞপ্তি/
স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি.-এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভার্চুয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এজিএমে কোম্পানির চেয়ারম্যান এইচ.টি.এম. কাদের নেওয়াজ সভাপতিত্ব করেন। সভায় পরিচালক মাহমুদা বেগম, হোসনে আরা বেগম, তাস্মিয়া রহমান, ফারিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ, হাসিব মোশাররফ, ফাহিম মোশাররফ, মোহাম্মদ আলী, হুমায়ুন কবীর, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন সরকার এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ কাউছার মুন্সী উপস্থিত ছিলেন।
এজিএমে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশগ্রহণ করেন। সভায় ২০২৫ সালের পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।
সভায় কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোম্পানির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বিজ্ঞপ্তি/
হুয়াওয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচির আয়োজন করেছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের হুয়াওয়েতে সরাসরি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। এমসিকিউভিত্তিক পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে হুয়াওয়েতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।
হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার কৌশিক আহমেদ রেজা এবং এইচআর ম্যানেজার ইফতেখার রহমান। বুয়েটের অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ের ডেলিভারি অ্যান্ড সার্ভিস (ডিঅ্যান্ডএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট শিয়েরেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চুয়েটের অনুষ্ঠানে অংশ নেন হুয়াওয়ের এইচআর ডেপুটি ডিরেক্টর মো. ফারা নেওয়াজ।
বিজ্ঞপ্তি/
ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট সম্পর্কে হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাবেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনবল নিয়োগ করে থাকি, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ গ্র্যাজুয়েট। আমরা ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের হুয়াওয়ের আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশে তাদের জ্ঞান প্রয়োগ ও শিল্প খাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, চলমান ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এমন দক্ষ জনবল পাবো, যারা বাংলাদেশের আইসিটি খাতের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
বুয়েটের অধ্যাপক এ বি এম আলিম আল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে হুয়াওয়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা এবং প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের উদ্যোগ একাডেমিক শিক্ষা ও শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশ, শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। আমরা আশা করি, এ ধরনের সহযোগিতা আরও বেশি শিক্ষার্থীকে দক্ষ হতে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।’
চুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এই ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচি আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ায় ও শিল্পখাতের জন্য উপযোগী হতে উৎসাহিত করে। তরুণদের মেধা বিকাশ এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা করার ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের এই প্রতিশ্রুতি সত্যিই প্রশংসনীয়।’
বাংলাদেশে হুয়াওয়ের অধিকাংশ কর্মীই স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা শুধু বাংলাদেশে হুয়াওয়ের কার্যক্রমেই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আরও দ্রুত ও সহজে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীতে রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তি হয়।
এ চুক্তির আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউস, মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) কিংবা ব্যাংকের মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। রূপালী ব্যাংকের পক্ষে নগদ সরাসরি সেই অর্থ সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেটে পৌঁছে দিবে। ফলে দেশের যে কোনো স্থান থেকে তারা ২৪ ঘণ্টা রেমিট্যান্স গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নগদ নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। রেমিট্যান্স গ্রহণে বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য ‘হার না মানা হার’ শিরোনামে সচেতনতামূলক ও পুরস্কারভিত্তিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন সারওয়ার ভূঁইয়া, রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান মো. আহসানুল হক বাশারসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মো. ইসমাইল হোসেন শেখ, মো. মঈন উদ্দিন মাসুদ, সালামুন নেছা ও রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান এ কে এম জাকির হোসেনসহ ব্যাংকটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতিটি পয়সা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের ফলে প্রতিটি পরিবার দ্রুত, নিরাপদ এবং ঝামেলাহীনভাবে সরাসরি নগদ ওয়ালেটে রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো প্রান্তে এই অর্থ সহজে ব্যবহার কিংবা সর্বনিম্ন খরচে ক্যাশআউট করতে পারবেন। যা দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।’
এ সময় রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে রেমিট্যান্স নিরাপদ ও দ্রুত সময়ে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা সবসময়ই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। নগদের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।’
উল্লেখ্য, নগদ সম্প্রতি ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) পেমেন্ট সেবা এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা চালু করেছে। ফলে দেশের প্রায় ১০ লাখ বাংলা কিউআর মার্চেন্টের কাছে এখন নগদ অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই ক্যাশলেস পেমেন্ট করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো ব্যাংক থেকে তাৎক্ষণিক নগদ ওয়ালেটে অর্থ গ্রহণ এবং নগদ থেকে ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি/
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি)। দেশজুড়ে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য এই সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউসিবি।
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) ক্লাস্টার অর্থায়ন স্কিম নামক বিশেষ ঋণে পুনঃঅর্থায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের (এসপিডি) পরিচালক নওশাদ মুস্তফা এবং ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্র বিনিময় করেন।
সিএমএসএমই খাতে উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্লাস্টারগুলো হচ্ছে, কৃষি/খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প, নিটওয়্যার, ডিজাইন ও সাজসজ্জা, আইসিটি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাট ও পাটজাত শিল্প।
এছাড়া আছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক শিল্প, পর্যটনশিল্প, হোম টেক্সটাইল সামগ্রী, নবায়নযোগ্য শক্তি (সোলার পাওয়ার), অটোমোবাইল প্রস্তুত ও মেরামতকারী শিল্প, তাঁত, হস্ত ও কারুশিল্প, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি (এলইডি, সিএফএল বাল্ব উৎপাদন)/ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্প/ ইলেকট্রনিক ম্যাটেরিয়াল উন্নয়ন শিল্প, জুয়েলারি শিল্প, খেলনা শিল্প, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ শিল্প, আগর শিল্প, আসবাবপত্র শিল্প, মোবাইল/কম্পিউটার/টেলিভিশন সার্ভিসিং।
ঋণের সীমা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ডেফিনিশন অনুযায়ী এবং ঋণের ধরণ হবে চলতি মূলধন ও মেয়াদি। ঋণের মেয়াদ হবে চলতি মূলধন ঋণের জন্য ১ বছর এবং মেয়াদী ঋণের জন্য ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা আরও সহজে ও সাশ্রয়ী সুদে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসা আরও শক্তিশালী হবে, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি মো. রীদওয়ানুল হক, হেড অব এসএমই মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তি/