একসময় তাকে বলা হয়েছিল, তীব্র ভারতীয় উচ্চারণের কারণে তিনি কোনো চাকরিই পাবেন না। সেই মানুষটিই আজ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, রিয়েল এস্টেট ও বিজনেস কোচিং জগতের পরিচিত মুখ। Acquisition.com-এর সিইও শরণ শ্রীভাৎসার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সম্প্রতি তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স হরমোজি।
সম্প্রতি টনি রবিন্সের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজি জানান, দুই দশকেরও বেশি আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর শ্রীভাৎসাকে জীবিকার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতে হয়েছিল। সেই সময় তার তীব্র ভারতীয় উচ্চারণের কারণে অনেকেই তাকে বলেছিলেন, এভাবে কথা বললে তিনি কোথাও চাকরি পাবেন না।
হরমোজির ভাষায়, “প্রায় ২০ বছর আগে এক ভারতীয় যুবক আমেরিকায় এসেছিলেন। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার উচ্চারণ এতটাই আলাদা ছিল যে মানুষ তাকে বলত, ‘তুমি কোথাও চাকরি পাবে না। তোমাকে ঠিকভাবে কথা বলতে শিখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শ্রীভাৎসা ‘ভারতীয় উচ্চারণ কীভাবে দূর করবেন’- এমন কোনো অডিও কোর্স খুঁজেছিলেন। কিন্তু সে ধরনের কিছু না পেয়ে তাকে টনি রবিন্সের অডিও টেপ শোনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হরমোজি বলেন, “দিনে তিনি মেঝে পরিষ্কার করতেন, আর রাতে টনি রবিন্সের টেপ শুনতেন। পরে তিনি একটি সফটওয়্যার কোম্পানি গড়ে তোলেন, সেটি বিক্রি করেন। এরপর আরেকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। সেই সময়ই তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এখন তিনি Acquisition.com-এ আমার পার্টনার।”
সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শরণ শ্রীভাৎসা নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমিই সেই ভারতীয় ব্যক্তি, যার কথা অ্যালেক্স হরমোজি ও টনি রবিন্স বলেছেন। তীব্র ভারতীয় উচ্চারণ নিয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল, ঠিকভাবে কথা বলতে না পারলে কোথাও চাকরি পাব না। কিন্তু একজন স্পিকিং কোচ রাখার মতো সামর্থ্য আমার ছিল না। আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতাম এবং কোনোমতে সংসার চালাতাম।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি নিজেই কথা বলা শিখেছি। কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স থেকে নয়; পাবলিক লাইব্রেরি থেকে টনি রবিন্সের অডিও টেপ এনে প্রতি রাতে মেঝে পরিষ্কার করার সময় সেগুলো শুনতাম।”
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের উদ্দেশে শ্রীভাৎসা বলেন, হাল না ছাড়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সাহসিকতার কাজ।
তার ভাষায়, ‘এ কারণেই আমি বিশ্বাস করি, হাল না ছাড়াটাই সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ কাজ। আমি চাইলে অন্যদের কথা শুনে সারাজীবন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেই থেকে যেতে পারতাম। কিন্তু আপনার শুরুটা কখনোই আপনার পুরো গল্প নয়; এটি কেবল সেই গল্পের প্রথম অধ্যায়।’