ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন হাজারো মানুষ। ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে, আর প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। এদিকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ভূমিকম্পের পর অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় চলমান অভিযানে মরদেহ উদ্ধারকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে এখনো জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা একেবারে ছাড়েননি তারা। লা গুয়াইরার মাকুতো এলাকায় একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ও তার তিন সন্তানকে উদ্ধারের জন্য টানা ৪০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েছে ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল। কিন্তু ভেতর থেকে আর কোনো সাড়া না পাওয়ায় অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় তারা।
ইকুয়েডর দলের প্রধান মেজর হোর্হে মন্তানেনো জানান, অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এর মধ্যেই কারাকাসে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লা গুয়াইরা অঞ্চলের বাতাস লাশের গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে। বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে ধসে পড়া বহুতল আবাসিক ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরাতে মানুষ কোদাল, শাবল এবং খালি হাত ব্যবহার করছে।
এদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, আগামী তিন মাস দুর্গত ৫ লাখ মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে তাদের ৫ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অন্তত তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এতে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ডয়েচে ভেলে /সিএনএন/এসএন/