নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মারিখালি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা বর্জ্যের স্তূপ এখন স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারণ করেন। এলাকায় যাতে কেউ আর ময়লা না ফেলে সে নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউই মানছেন না।
জানা যায়, এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলেই ভাগাড়ে পরিনত করেছেন। ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারীর পারাপার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপক ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, সেতুর নিচে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইমরান/এএফ